পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত సి) করিয়া বসিয়া আছে। দুই-তিনমাসের টাকা বাকী, সামান্ত পুঁজির হোটেল, অপূর্ববাবুইহার কি ব্যবস্থা করিতেছেন । আর কতদিন এ ভাবে সে বাকী টানিয়া যাইবে ...মুন্দর ঠাকুরের কথায় তাহার মনে যে দুর্ভাবনার মেঘ জমিয়াছিল, সেটা কৌতুকের হাওয়ার এক মুহূর্তে কাটিয়া গেল –আচ্ছা তো মেয়েটা ? দ্যাথো কি লিখে রেখেছে—ওদের—হো-ছে। --ठाॉकहीं-श्-िश्-ि সেদিন আর মেয়েটিকে দেখা গেল না, যদিও সন্ধ্যর সময় একবার ঘরে ফিরিয়া সে দেখিল, জানালার সে খড়ির লেখা মুছিয়া ফেলা হইয়াছে। পরদিন সকালে ঘরের মধ্যে মাছর বিছাইয়া পড়িতে পড়িতে মুখ তুলিতেই অপু দেখিতে পাইল, মেয়েটি জানালার ধীরে দাড়াইয়া আছে ! কলেজে যাইবার কিছু আগে মেয়েটি আর একবার আসিয়া দাড়াইল । সবে স্বান সারিয়া আসিয়াছে, লালপাড় শাড়ি পরণে, ভিজে চুল পিঠের উপর ফেল, সোনার বালা পরা নিটোল ডান হাতটি দিয়া জানালার গরাদে ধরিয়া আছে। অল্পক্ষণের 南强一 কথাটা ভাবিতে ভাবিতে সে কলেজে গেল। সেখানে অনেকের কাছে ব্যাপারটা গল্প করিল। প্রণব তো শুনিয়া হাসিয়া খুন, জানকীও তাই। সবাই আসিয়া দেখিতে চায়—এ ষে একেবারে সত্যিকার জানালা-কাব্য ! সত্যেন বলিল, নভেল ও মাসিকের পাতায় পড়া যায় বটে, কিন্তু বাস্তব জগতে এ-রকম যে ঘটে তাহা তো জানা ছিল না ...নানা হাসি তামাশা চলিল, সকলেই যে-ভদ্রতাসঙ্গত কথা বলিয়াই ক্ষাস্ত রহিল তাহ বলিলে সত্যের অপলাপ করা इहैव । তারপর দিনচারেক বেশ কাটিল, হঠাৎ একদিন আবার জানালায় লেখা—“হেমলতা আপনাকে বিবাহ করিবে' । জানালার খড়খড়ির গায়ে এমনভাবে লেখা যে, জানালা খুলিয়া লম্বা কজাটা মুড়িয়া ফেলিলে লেখাটা শুধু তাহার ঘর হইতেই দেথা যায়, অন্ত কারুর চোখে পড়িবার কথা নহে। প্রণবট যদি এ সময় এখানে থাকিত ! তারপর আবার দিন-দুই সব ঠাণ্ডা । সেদিন একটু মেঘলা ছিল—সকালে কয়েক পশলা বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। ছুপুরের পরই আবার খুব মেঘ করিয়া আসিল। কারখানার উঠানে মালবোঝাই মোটর লীগুলার শত্ব একটু থামিলেও দুপুরের ‘শিক্ট’-এ মিস্ত্রীদের প্যাকৃবাক্সের গায়ে লোহার বেড় পরাইবার দ্বমদাম আওয়াজ বেজায়। এই বিকট আওয়াজের জন্ত দুপুরবেলা এখানে তিষ্ঠানো দায়। অপু ঘুমাইবার বৃথা চেষ্টা করিয়া উঠিয়া বসিতেই দেখিল, মেয়েটি জানালার কাছে আসিয়া দাড়াইয়াছে। অল্পক্ষণের জন্ত দু'জনের চোখোচোথি হুইল ! মেয়েটি অন্ত অঙ্গ দিনের মত আজও হাসিয়া ফেলিল। অপুর মাথায় দুঃমি চাপিয়া গেল। সেও আগাইরা গিয়া জানালার গরাদে ধরিয়া দাড়াইল—তারপর সে নিজেও হাপিল। মেয়েটি একবার পিছন ফিরিয়া চাহিয়া দেখিল কেহ আলিতেছে কিনা—পরে সেও জাসিয়া জানালার ধারে দাড়াইল! অপু কৌতুকের সুরে বলিল,—কিপো হেমলতা, আমার ৰিয়ে করবে ?"