পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


మ8 বিভূতি-রচনাবলী স্থানে আলিয়া অপরিচিত লোকের সহিত কথা কহিতে গিয়া আনাড়ীপনার দরুন কথার মধ্যে নিজের অজ্ঞাতসারে একটা স্থাকা মুর আসিয়া গেল। ভদ্রলোক একবার আপাদমস্তক তাহাকে দেখিয়া লইলেন, তারপর একটা চেয়ার দেখাইয়া বলিলেন, বমুন। আপনি কি পাশ —ও, আই-এ পড়ছেন,—দেশ কোথায় ?...ও.. এখানে থাকেন কোথায় ?—ন্থ ! তিনি আরও যেন খানিকক্ষণ তাহাকে চাহিয়া চাহিয়া দেখিলেন। মিনিট পনেরো পরে —অপু বসিয়াই আছে—ডাক্তারবাবু হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন,—দেখুন, পড়ানে মানে—আমার একটি মেয়ে—তাকেই পড়াতে হবে। যাকে তাকে তো নিতে পারি নে—কিন্তু আপনাকে দেখে আমার মনে হচ্ছে—ওরে শোন তোর দিদিমণিকে ডেকে নিয়ে আর তো—বলগে আমি ডাকছি— একটু পরে মেয়েটি আসিল। বছর পনেরো বয়স, তৰী, মুন্দর, বড় বড় চোখ, আঙুলের গড়ন ভরি সুন্দর, রেশমী জামা গায়ে, চওড়া পাড় শাড়ি, গলায় সোনার সরু চেন, হাঁতে প্লেন বালা। মাথায় চুল এত ঘন যে, দু’ধারের কান যেন ঢাকিয়া গিয়াছে—জাপানী মেয়েদের মত ফাপানে খোপা ! —এইটি আমার মেয়ে, নাম প্রতিবালা । বেথুন স্কুলে পড়ে, এইবার সেকেণ্ড ক্লাসে উঠেছে। ইনি তোমার মাস্টার খুকি—আজি বাদ দিয়ে কাল থেকে উনি আসবেন—স্থ্য, এর মুখ দেখেই আমার মনে হয়েছে ইনিই ঠিক হবেন। বয়স আপনার আর কত হবে—এই উনিশ-কুড়ি, মুখ দেখেই তো মনে হয় ছেলেমানুষ, তাছাড়া একটা distinction-এর ছাপ রয়েছে। খুকি বসো মা— টিউশনি জোটার আনন্দে যত_হোক-না-হোক, ভদ্রলোক যে বলিয়াছেন তাহার মুখে একটা distinction-এর ছাপ আছে—এই আননে পরিপূর্ণ হইয়াসে সারাটা দিন কাটাইল, ও ক্লাসে, পথে, বাসায়, হোটেলে—সর্বত্র বন্ধুবান্ধবদের কাছে কথাটা লইয়া নির্বোধের মত খুব জাক করিয়া বেড়াইল। মাহিনী যত নির্দিষ্ট হইয়াছিল, তাহার অপেক্ষ অনেক বেশী বলিল, মেয়েটির সৌন্দৰ্য-ব্যাখ্যা অনেক বাড়াইয়া করিল, ইত্যাদি । কিন্তু পরদিন পড়াইতে গিয়া দেখিল—মেয়েটি দেওয়ানপুরের নির্মলা নয়। সেরকম সরল, স্নেহময়ী, হাস্যমুখী নয়—অল্প কথা কয়, খাটাইয়া লইতে জানে, একটু যেন গর্বিত! কথাবার্তা বলে হুকুমের ভাবে। অমুক অঙ্কট কাল বুঝিয়ে দেবেন, অমুকটা কাল ক’রে আনবেন, আজ আরও একঘণ্টা বেশী পড়াবেন, পরীক্ষা আছে—ইত্যাদি। একদিন কোন কারণে আসিতে না পারিলে পরদিন কৈফিয়ৎ ডলব করিবাের মুরে অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করে। অপু মনে মনে বড় ভয় খাইয়া গেল, যে রকম মেয়ে, কোন দিন পড়ানোর কোন ক্রটির কথা বাবাকে লাগাইবে, চাকুয়িয় দফা গয়া—পথে বসা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকিবে না। ছাত্রীর উপর অসন্তুষ্টি ও বিরক্তিতে তাহার মন ভরিয়া উঠিল ! মাসখানেক কাটিয়া গেল। প্রখম মাসের মাহিনী পাইয়াই মাকে কিছু টকা পাঠাইয়া