পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>}6 বিভূতি-রচনাবলী গাড়ি আনাইয়া তখনি সকলে মিলিয়া তাহীকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় ও বাড়িতে খরর দেওয়া হয়। ডাক্তার বলেন হার্নিয়া"ট্র্যাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া...তখনি অস্ত্র করা হইয়াছে।-- বৈকালেও সে গেল। কেবিন ভাড়া করা হইয়াছে, অনিলের মা বসিয়া ছিলেন, অপু গিয়া পায়ের ধূলা লইয়া প্ৰণাম করিল। অনিল এখন অনেকটা ভাল আছে, অন্ত্র করার পরে বেজায় যন্ত্রণ পাইয়াছিল, সারারাত ও সারাদিন-দুপুরের পর সেটা একটু কম। তাহার মুখ রক্তশূন্ত পাণ্ডুর । সে হাসিয়া অপুর হাত ধরিয়া কাছে বসাইল, বলিল—স্বাস্থ্যের মতন জিনিস আর নেই, যতই বলুন—এই তিনটে দিন যেন একেবারে মুছে গিয়েছে জীবন থেকে । অপু বলিল—বেশী কথা বলে না, যন্ত্রণ কেমন এখন ? অনিলের মা বলিলেন,–তোমার কথা সব শুনেছি, ভাগ্যিস তুমি ছিলে বাবা সেদিন । অনিল বলিল,—দেখবেন মজ, ঘণ্টা নাড়লেই নাস এখুনি ছুটে আসবে—বাজাব দেখবেন ?—সে হাসিয়া একটা হাত-ঘণ্টা বাজাতেই লম্বা একজন নাস আসিয়া হাজির। সে চলিয়া গেলে অনিলের মা বলিলেন—কি যে করিস মিছিমিছি ? ছিঃ– দুজনেই খুব হাসিতে লাগিল ! / খানিকক্ষণ গড়ের মাঠের দিকে বেড়াইয়া সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরিয়া অপু সবে আলোটি জালিয়াছে, এমন সময় সত্যেন ও অনিলের পিসতুতে ভাই ফণী—অপু তাহাকে হাসপাতালে প্রথম দেখিয়াছে, সেখানেই প্রথম আলাপ—ব্যস্ত-সমস্ত অবস্থায় ঘরে ঢুকিল—সত্যেন বলিল— ও:, তোমাকে দু’বার এর আগে খুঁজে গেছি—এখুনি হাসপাতালে এস-জান না ?... অপু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে উহাদের মুখের দিকে চাহিতেই ফণী বলিল— অনিল মারা গিয়েছে এই সাড়ে ছটার সময়—হঠাৎ ৷ সকলে ছুটিতে ছুটিতে হাসপাতালে গেল। অনিলের মৃতদেহ খাট হইতে নামাইয়া সাদা চাদর দিয়া ঢাকিয়া মেঝেতে রাখিয়াছে ৷ বহু আত্মীয়স্বজনে কেবিন-ভরিয়া গিয়াছে, ক্লাসের অনেক ছেলে উপস্থিত, একদল ছেলে এইমাত্র এসেন্স ও ফুলের তোড়া লইয়া কেবিনে চুকিল। অল্পপরেই মৃতদেহ নিমতলার লইয়া যাওয়া হইল । সব কাজ শেষ হইতে রাত্রি তিনটা বাজিয়া গেল। অন্ত সকলে গঙ্গাস্বান করিতে লাগিল। অপু বলিল, তোমরা নাও, আমি গঙ্গায় নাইবে না, কলের জলে সকালবেলা নাইবো । কলকাতার গঙ্গায় নাইতে আমার মন যায় না। অনিলের বাবার মত লোক সে কখনও দেখে নাই। এত বিপদেও তিনি সারারাত বাধানে৷ চাতালে বসিয়া ধীর ভাবে কাঠের নল বসানো সর্টকাতে তামাক টানিতেছেন! অপুকে বার-দুই জিজ্ঞাসা করিয়াছেন—বাবা তোমার ঘুম লাগে নি তো ?...কোনও কষ্ট হয় তো বলে বাবা । অপু শুনিয়া চোখের জল রাখিতে পারে নাই। মুনীল সিগারেট কেস্ট তাহার জিম্বায় রাথিয়া জলে নামিল, সে ঘাটের ধাপের উপর