পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১১২ বিভূতি-রচনাবলী ভদ্রলোকটির ব্যবসা-বাণিজ্যে খুব উৎসাহ দেখা গেল! মাদ্রাজে সমূদ্রের ধারে জমি লষ্টয়াছেন, নারিকেল ও ভ্যানিলার চাষ করিবেন। নিঃসম্বল তেরো বৎসরের নিগ্রো বালককে ইউরোপে আসিয়া নিজের উপার্জন নিজে করিতে দেখিয়াছেন—দেশের যুবকদের চাসবাস করিতে উপদেশ দেন। ভদ্রলোকটিকে আর অপুর অপরিচিত মনে হইল না। তাহার বাল্য-জীবনের কতকগুলি অবর্ণনীয়, আনন্দ-মুহূর্তের জন্ত এই প্রৌঢ় ব্যক্তিটি দায়ী, ইহারই লেখার ভিতর দিয়া বাহিরের জগতের সঙ্গে সেই আনন্দ-ভরা প্রথম পরিচয়— সম্পূর্ণ নতুন ধরণের উৎসাহ লইয়া সে ফিরিল। কে জানিত বঙ্গবাসীর সে লেখকের সঙ্গে এভাবে দেখা হইয়া যাইবে ...শুধু বাচিয়া থাকাই এক সম্পদ, তোমার বিনা চেষ্টাতেই এই অমৃতময়ী জীবনধারা প্রতি পলের রসপাত্র পূর্ণ করিয়া তোমার অন্তমনস্ক, অসতর্ক মনে অমৃত পরিবেশন করিবে. সে যে করিয়া হউক বাচিবে । সন্ধ্যা ঠিক হয় নাই, উঠানে তেলি-বাড়ির বড় বেী দাড়াইরা কি গল্প করিতেছিল, দূর হইতে অপুকে আসিতে দেখিয়া হাসিমুখে বলিল—কে আসছে বলুন তো মা-ঠাকুরুণ ?—সর্বজয়ার বুকের ভিতরটা কেমন করিয়া উঠিল, অপু নয় তো—অসম্ভব—সে এখন কেন— পরক্ষণেই সে ছুটিয়া আসিয়া অপুকে বুকের ভিতর জড়াইয়া ধরিল। সর্বজয়ার চোখের জলে তাঁহার জামার হাতটা ভিজিয়া উঠিল। মাকে যেন এবার নিজের অপেক্ষ মাথায় ছোট, দুর্বল ও অসহায় বলিয়া অপুর মনে হইতে লাগিল। তপঃকৃশ শবরীর মত ক্ষীণাঙ্গী, আলুথালু, অধৰ্বক্ষ চুলের গোছ একদিকে পড়িয়াছে, মুখের চেহারা এখনও মুন্দর, গ্রীব ও কপালের রেখাবলী এখনও অনেকাংশে ঋজু ও সুকুমার। তবে এবার মায়ের চুল পাকিয়াছে, কানের পাশের চুলে পাক ধরিয়াছে। নিজের সবল দৃঢ় বাহুবেষ্টনে, সরল, চিরদ্বীথিনী মাকে সংসারে সহস্ৰ দুঃখ-বিপদ হইতে বাচাইয়া রাথিতে অপুর ইচ্ছা যায়। এ ভাবটা এইবার প্রথম সে মনের মধ্যে অনুভব করিল, ইতিপূর্বে কখনও হয় নাই। বড়-বেী একপাশে হাসিমুখে দাড়াইয়াছিল, সে অপুকে ছোট দেখিয়াছে এখন আর তাঁহাকে দেখিয়া ঘোমটা দেয় না । সর্বজয়া বলিল,—এবার ও এসেছে বেীমা, এবার কালই কিন্তু— অপু নিকটে গিয়া জিজ্ঞাসা করিল,—কি খুড়ীমা, কাল কি ? বড়-বোঁ হাসিয়া বলিল,—দেখো কাল,—আজি বলবো না তো ! খিচুড়ী খাইতে ভালবাসে বলিয়া সর্বজয়া অপুকে রাত্রে খিচুড়ী রাধিয়া দিল ; পেট ভরিয়া খাওয়া ঘটিল, এই সাত-আটদিন পর আজ মায়ের কাছে। সর্বজয়া জিজ্ঞাসা করিল,—হঁ্যা রে সেখানে খিচুড়ী খেতে পাস ? অপুর শৈশবে তাহার মা শ৩ প্রতারণার আবরণে নগ্ন দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর রূপকে তাহদের শিশুচক্ষুর আড়াল করিয়া রাথিত, এখন আবার অপুর পাল । সে বলিল,—ই, বাদল श्रगहे फूिप्रै श्ब्र।