পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᎼᎼ8 বিভূতি-রচনাবলী সর্বজয়ার মনে আছে—অপু যখন ছোট ছিল তখন কোনো কোনো মেয়ে-মজলিসে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গান সেখানে হয়ত হুইত, অপুর গলা ছিল খুব মিষ্টি কিন্তু তাহাকে প্রথমে কিছুতেই গান-গাওয়ানো ধাইত নী—অথচ যেদিন তাহার গাহিবার ইচ্ছা হইত, সেদিন মায়ের কাছে চুপি চুপি বার বার বলিত, আমি কিন্তু আজ গান গাইবো না, গাইতে বলে না। অর্থাৎ সেদিন তাকে এক-আধবার বলিলেই সে গাহিবে। সর্বজয় ছেলের মন বুঝির অমনি বলিত— তা অপু এবার কেন একটা গান কর না 7.দু একবার লাজুক মুখে অস্বীকার করার পর অমনি অপু গান শুরু করিয়া দিত। সেই অপু এখন একজন মানুষের মত মানুষ । এত রূপ এ অঞ্চলের মধ্যে কে কবে দেখিয়াছে ? একহার চেহারা বটে, কিন্তু সবল, দীর্ঘ, শক্ত হাত-পা। কি মাথায় চুল, কি ডাগর চোখের নিষ্পাপ পবিত্র দৃষ্টি , রাঙা ঠোঁটের দু' পাশে বাল্যের সে সুকুমার ভঙ্গী এখনও বিলুপ্ত হয় নাই, শুধু সর্বজয়াই তাহ ধরিতে পারে। অপু কিন্তু সে ছেলেবেলার অপু আর নাই। প্রায় সবই বদলাইয়া গিয়াছে, সে অপূর্ব হাসি, সে ছেলেমানুষী, সে কথায় কথায় মান অভিমান, অবদার, গলায় সে রিণরিণে মিষ্টি স্বর— এখনও অপুর স্বর খুবই মিষ্ট্রি—তবুও সে অপরূপ বাল্যস্বর, সে চাঞ্চল্য—পাগলামি—সে সবের কিছুই নাই । সব ছেলেই বাল্যে সমান ছেলেমানুষ থাকে না, কিন্তু অপু ছিল মূর্তিমান শৈশব। সরলতায়, দুষ্টামিতে, রূপে,ভাবুকতায়—দেবশিশুর মত ! এক ছেলে ছিল তাই কি,শত ছেলেতে কি হয় ? সর্বজয়া মনে মনে বলে—বেশী চাই নে, দশটা পাচটা চাই নে ঠাকুর, ওকেই আর জন্মে আবার কোলজোড়া ক'রে দিও। সর্বজয়ার জীবনের-পাত্র পরিপূর্ণ করিয়া অপু যে অমৃত শৈশবে পরিবেশন করিয়াছে, তারই স্থতি তার দুঃখ-ভরা জীবন-পথের পাথেয়। আর কিছুই সে চায় না। কোনো কোনো দিন রাত্রে অপু মায়ের কাছে গল্প শুনিতে চায়। সর্বজয়ী বলে—তুই তো কত ইংরেজী বই পড়িস, কত কি—তুই একটা গল্প বল না বরং শুনি। অপু গল্প করে। দু'জনে নানা পরামর্শ করে ; সর্বজয়ী পুত্রের বিবাহ দিবার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কাটাদহের সাগুলি বাড়ি নাকি ভালো মেয়ে আছে সে শুনিয়াছে, অপু পাশটা দিলেই এইবার.. তারপর অপু বলিল,—ভালোকথা মা—আজকাল জ্যোঠমারা কলকাতায় বাড়ি পেয়েছে যে ! সেদিন তাদের বাড়ি গেছলাম— সর্বজয়ী বলে,—তাই নাকি?.. তোকে খুব যত্নটত্ব করলে ?—কি খেতে দিলে— অপু নানা কথা সাজাইয়া বানাইয়া বলে । সর্বজয়ী বলে,—আমায় একবার নিয়ে যাবি— কলকাতা কখনও দেখি নি, বটঠাকুরদের বুড়ি দুদিন থেকে মা-কালীর চরণ দর্শন করে আসি তা হ’লে ?... অপু বলে,—বেশ তোম, নিয়ে যাব ; ষেও সেই পুজোর সময়। সর্বজয়ী বলে,—একটা সাধ আছে অপু, বটঠাকুরদের দরুন নিশ্চিন্দিপুরের বাগানখানা F মাম্বৰ হৱে যদি নিতে পারভিল ভুবন মুখুয্যেদের কাছ থেকে, তবে—