পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>)や বিভূতি-রচনাবলী ওয়াড় সাজিমাট দিয়া সিদ্ধ করিয়া বাশবনের ডোবার জলে কাচিতে নামিয়াছে—সন্ধ্যার কিছু পূর্বে অপু বাড়ির দাওয়ায় জিনিসপত্র নামাইয়া ছুটিয়া ডোবার ধারে গিয়া পিছন হইতে ডাকিল,—ম ! .. সর্বজয়া ভুলিয়া থাকিবার জন্ত দুপুর হইতে কাপড় সিদ্ধ লইয়া ব্যস্ত আছে, চমকিয়া পিছন দিকে চাহিয়া আনন্দ-মিশ্রিত মুরে বলে,—তুই —যাওয়া হ’ল না ? অপু হাসিমুখে বলে,—গাড়ি পাওয়া গেল না—এসে বাড়ি— বাশবনের ছায়ার মায়ের মুখে সেদিন যে অপূর্ব আনন্দের ও তৃপ্তির ছাপ পড়িয়াছিল, অপু পূর্বে কোনও দিন তাহ দেখে নাই—বহুকাল পর্যন্ত মায়ের এ মুখখান তাহার মনে ছিল। সেদিন রাত্রে দু'জনে নানা কথা। অপু আবার ছেলেবেলাকার গল্প শুনিতে চায় মা’র মুখে —সর্বজয়া লজ্জিতমুরে বলে,—হঁ্যা, আমার আবার গল্প - যে সব ছেলেবয়েসের গল্প—তা বুঝি এখন শুনে তোর ভাল লাগবে ? অপুকে আর সর্বজয়া বুঝিতে পারে ন—এ সে ছোট অপু নয়, যে ঠোঁট ফুলাইলেই সর্বজয়া বুঝিত ছেলে কি চাহিতেছে.এ কলেজের ছেলে, তরুণ অপু, এর মন, মতিগতি, আশা আকাঙ্ক্ষা—সর্বজয়ার অভিজ্ঞতার বাহিরে.অপু বলে,—ন মা, তুমি সেই ছেলেবেলার শুiমলঙ্কার গল্পট করে। সর্বজয়ী বলে,--তা আবার কি শুনবি । —তুই বরং তোর বইয়ের একটা গল্প বল—কত ভালো গল্প তো পড়িস ? · পরদিন সে কলিকাতায় ফিরিল। কলেজ সেইদিনই প্রথম খুলিয়াছে, প্রমোশন পাওয়া ছেলেদের তালিকা বাহির হইয়াছে, নোটিশ বোর্ডের কাছে রথযাত্রার ভিড়—সে অপর অগ্রহে ভিড় ঠেলিয়া নিজের নামটা আছে কিনা দেখিতে গেল । আছে! দু'তিনবার বেশ ভাল করিয়া দেখিল। আরও আশ্চর্য এই যে, পাশেই যে সব ছেলে পাশ করিয়াছে অথচ বেতন বাকী থাকার দরুণ প্রমোশন পায় নাই, তাহীদের একটা তালিকা দেওয়া হইয়াছে, কিন্তু তাহার মধ্যে অপুর নাম নাই, অথচ অপু জানে তাহারই সর্বাপেক্ষ বেশী বেতন বাকী ! সে ব্যাপারটা বুঝিতে না পারিয়া ভিড়ের বাহিরে আসিল । কেমন করিয়া এরূপ অসম্ভব সম্ভব হইল, নানাদিক হইতে বুঝিবার চেষ্টা করিয়াও তখন কিছু ঠাহর করিতে পারিল না। দু-তিনদিন পরে তাহার এক সহপাঠী নিজের প্রমোশন বন্ধ হওয়ার কারণ জানিতে অফিস-ঘরে কেরানীর কাছে গেল, সে-ও গেল সঙ্গে। হেড ক্লার্ক বলিল—একি ছেলের হাতের মোৱা হে ছোকরা! কত রোল পরে একখানা বাধানো খাতা খুলিয়া আঙুল দিয়া দেখাইয়া বলিল—এই ছাথে রোল টেন—লাল কালির মার্ক মারা রয়েছে—দু মাসের মাইনে বাকী—মাইনে শোধ না দলে প্রমোশন দেওয়া হবে না, গ্রিন্সিপালের কাছে যাও, আমি আর কি করবো ? অপু তাড়াতাড়ি ঝুঁকিয়া পড়িয়া দেখিতে গেল—তাহার রোল নম্বর কুড়ি—একই পাতায় ।