পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


}రిని বিভূতি-রচনাবলী পয়সাও রাখে নাই, অনেক লোকজন খাওয়াইয়াছে। তবু তো সামান্তভাবে তিলকাঞ্চন थॉक ! দশপিণ্ড দানের দিন সে কি তীব্র বেদনা ! পুরোহিত বলিতেছেন—প্রেতা শ্ৰীসর্বজয়ী দেবী—অপু ভাবে কাহাকে প্ৰেত বলিতেছে ? সর্বজয়া দেবী প্রেত ? তাহার মা, প্রতি আনন্দ ও দুঃখ-মুহূর্তের সঙ্গিনী, এত আশাময়ী, হাস্যময়ী, এত জীবন্ত যে ছিল কিছুদিন আগেও, সে প্রেত ? সে আকাশস্থো নিরালম্বো বায়ুভূত-নিরাশ্রয় ? তারপরই মধ্য আশার বাণী—আকাশ মধুময় হউক, বাতাস মধুময় হউক, পথের ধূলি মধুময় হউক, ওষধি সকল মধুময় হউক, বনস্পতি মধুময় হউক, স্বর্য, চন্দ্র,অন্তরীক্ষস্থিত আমাদের পিতা মধুময় ইউন। সারাদিনব্যাপী উপবাস, অবসাদ, শোকের পর এ মন্ত্র অপুর মনে সত্য সত্যই মধুবৰ্ষণ করিয়াছিল, চোখের জল সে রাখিতে পারে নাই। হে আকাশের দেবতা, বাতাসের দেবতা, তাই কর, মা আমার অনেক কষ্ট ক’রে গিয়েছে, তার প্রাণে তোমাদের উদার আশীর্বাদের অমৃতধারা বর্ষণ কর। এই অবস্থায় শুধুই ইচ্ছা করে যারা আপনার লোক, যারা তাহাকে জানে ও মাকে জানিত, তাঁহাদের কাছে যাইতে। এক জ্যাঠাইমার আছেন–কিন্তু তাঁহাদের সহানুভূতি নাই, তবু সেখানেই যাইতে ইচ্ছা করে। তবুও মনে হয়, হয়ত জ্যাঠাইমা মায়ের সম্বন্ধে দু-পাঁচটা কথা বলিবেন এখন, দুটা সহানুভূতির কথা হয়ত বলিবেন— । মাস-তিনেক এভাবে কাটিল । এ তিন মাসের কাহিনী তাঁহায় জীবনের ইতিহাসে একটা একটানা নিরবচ্ছিন্ন দুঃখের কাহিনী। ভবিষ্যৎ জীবনে অপু এ গলিটার নিকট দিয়া যাইতে যাইতে নিজের অজ্ঞাতসারে একবার বড় রাস্ত হইতে গলির মোড়ে চাহিয়া দেখিত, আর কখনও সে ইহার মধ্যে ঢোকে নাই । জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে সে একদিন খবরে কাগজে দেখিল—যুদ্ধের জন্ত লোক লণ্ডয়া হইতেছে, পার্ক স্ট্রীটে তাহার অফিস। দুপুরে ঘুরিতে ঘুরিতে সে গেল পার্কস্ট্রীটে। টেবিলে একরাশ ছাপানে ফর্ম পড়িয়া ছিল, অপু একখানা তুলিয়া পড়িয়া রিক্রুটিং অফিসারকে বলিল—কোথাকার জন্য লোক নেওয়া হবে ? —মেসোপটেমিয়া, রেলওরে ও ট্রান্সপোট বিভাগের জন্ত। তুমি কি টেলিগ্রাফ জানো— না মোটর মিস্ত্রী ? অপু বলিল সে কিছুই নহে। ওসব কাজ জানে না, তবে অন্ত যে-কোন কাজ–কি কেরানীগিরি— সাহেব বলিল—ন, দুঃখিত। আমরা শুধু কাজ-জানা লোক নিচ্ছি—বেশীর ভাগ মোটর ড্রাইভার, সিগন্তালার, স্টেশন মাস্টার সব। এই অবস্থার একদিন লীলার সঙ্গে দেখা। ইতস্ততঃ লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরিতে ঘুরিতে একদিন