পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত `VG ডালহাউলি স্কোয়ারের মোড়ে সে রাস্ত পার হুইবার জন্ত অপেক্ষা করিতেছে, সামনে একখানা হলদে রঙের বড় মিনার্ড গাড়ি ট্রাফিক পুলিসে দাড় করাইয়। রাখিয়াছিল—হঠাৎ গাড়িখানার দিক হইতে তাহার নাম ধরিয়া কে ডাকিল । সে গাড়ির কাছে গিয়া দেখিল, লীলা ও আর দু-তিনটি অপরিচিত মেয়ে । লীলার ছোটভাই ড্রাইভারের পাশে বসিয়া। লীলা আগ্রহের স্বরে বলিল—আপনি আচ্ছা তো অপূর্ববাবু ? তিন-চার মাসের মধ্যে আর দেখা করলেন না, কেন বলুন তো ? মা সেদিনও আপনার কথা— অপুর আকৃতিতে একটা কিছু লক্ষ্য করিয়া সে বিস্ময়ের মুরে বলিল—আপনার কি হয়েছে ? অমুখ থেকে উঠেছেন নাকি ? শরীর—মাথার চুল অমন ছোট-ছোট, কি হয়েছে বলুন তো ? অপু হাসিয়া বলিল—কই না, কি হবে—কিছু তো হয় নি ? —ম কেমন আছেন ? —ম ? তা মা—ম তো নেই। ফাঙ্কন মাসে মারা গিয়েছে। কথা শেষ করিয়া অপু আর এক দফা পাগলের মত হাসিল। হয়ত বল্যের সে প্রতি নানা ঘটনায়, বহু বৎসরের চাপে লীলার মনে নিম্প্রস্ত হইয়া গিয়াছিল, হয়ত ঐশ্বর্যের আঁচ লাগিয়া সে মধুর বাল্যমন অন্ত ভাবে পরিবর্তিত হইয়াছিল ধীরেধীরে, অপুর মুখের এই অর্থহীন হাসিটা যেন একখানা তীক্ষ ছুরির মত গিয় তাহার মনের কোন গোপন মণিমঞ্জুষার রুদ্ধ ঢাকনির ফাকটাতে হঠাৎ একটা সজোরে চাড়া দিল, এক মুহূর্তে অপুর সমস্ত ছবিটা তাহার মনের চোখে ভাসিয়া উঠিল—সহায়হীন, মাতৃহীন, আশ্রয়হীন, পথে-পথে বেড়াইতেছে—কে মুখের দিকে চাহিবার আছে ? লীলার গলা আড়ষ্ট হইয়া গেল, একটু চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল,—আপনি আমাদের ওখানে কবে আসবেন বলুন—না, ওরকম বললে হবে না! এ-কথা আমাদের জানানো আপনার উচিত ছিল না ? অন্তত: মাকেও বলা তো–কাল সকালে আমুন—ঠিক বলুন আসবেন ? কেমন ঠিক তো—সেবারকার মত করবেন না, কিন্তু—ভাল কথা, আপনার ঠিকানাটা বলুন তো কি—ভূলবেন না, কিন্তু— গাড়ি চলিয়া গেল । বালায় ফিরিয়া অপু মনের মধ্যে অনেক তোলাপাড়া করিল। লীলার মুখে সে একটা কিসের ছাপ দেখিয়াছে, বর্তমান অবস্থায় মন তাহার এই আস্তরিকতা স্নেহস্পর্শটুকুরই কাজাল বটে—কিন্তু এই বেশে কোথাও যাইতে ইচ্ছ হয় না, এই জামায়, এই কাপড়ে, এই ভাবে। ६ोंक दद्भ१ ।। তিনদিন পর নিজের নামে একখানা পত্র আলিতে দেখিয়া সে বিস্মিত হইল—ম ছাড়া আর তো কাহারও পত্র সে পায় নাই। কে পত্র দিল ? পত্র খুলিয়া পড়িল –