পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাঙ্কুর ১৬৩ আরও অভিনন্দন পাঠাই সেই সব লোকদের—যাদের বেদনার রঙে আমার বই রঙীন হয়েচে—কত স্থানে, কত অবস্থার মধ্যে তাদের সঙ্গে পরিচয় । কেউ বেঁচে আছে, কেউ বা হয়তো আজ নেই—এদের সকলের দু:খ, সক র ব্যর্থতা, বেদন। আমাকে প্রেরণা দিয়েচে—কারুর সঙ্গে দেখা দিনে, কারুর সঙ্গে র ত্রে,—মাঠে বা নদীর ধীরে, মুখে কিংবা দুঃখে। এরা আজ কোথায় আছে জানিনে । কোথায় পাবো ঝালকাটির সেই ভিখারীকে, কোথায় পাবে আজ হিরুকাকাকে, কোথার পাবো কামিনী বুড়ীকে—কিন্তু এই নিস্তব্ধ রাত্রির অন্ধকার-ভরা শান্তির মধ্য দিয়ে আমি সকলকেই আমার অভিনন্দন পাঠিয়ে দিচ্চি। যারা হয়তো আমার ছাপ-বই দেখলে খুশী হোত, তারাও অনেকে আজ বেঁচে নেই— তাতে দুঃখিত নই, কারণ গতিকে বন্ধ করার মূলে কোনো সার্থকতা নেই তা জানি—তাদের গমনপথ মঙ্গলময় হৌকৃ, তাদের কথাও আমার মন থেকে মুছে যায়নি আজ রাত্রে। আজই সকালে দেশ থেকে এলুম। কাল বৈকালে গিয়েছিলুম বারাকপুরে। সইমার বড় অমুখ। ষষ্ঠীর হাট বাজার, জেলি গোপালনগর থেকে নিয়ে এল ঘি, ময়দা। নগেন খুড়ো সপরিবারে ওখানেই । কি মুনীর বৈকাল দেখলুম! সে আননের কথা আর জানাতে পারি নে—ঝোপে ঝোপে নীল অপরাজিত, সুগন্ধ নাটাকাটার ফুল, লেজ-ঝোলা হলুদডানা পাখীট—অন্তহুর্যের রাঙা আভা, নীল আকাশ, মুক্তির আনন, কল্পনা, খুশী । আজ এখন মুটুকেশ গোছাচ্চি। এই মাত্র আমি ও উপেনবাবু টিকিট করে এলুম, আজ রাত্রের ট্রেনে যাবো দেওঘর। কাল আবার সপ্তমী। ওখান থেকে হাজারিবাগ যাবার ইচ্ছে আছে, দেখি কি হয়। সেই "রাতের ঘুম ফেলস্থ মুছে" গানটা মনে পড়ে। সেই অশ্বিনীবাবুর বোর্ডিং-এ, ১৯১৮ সালে। আজ শুামাচরণদাদাদের “মাধবী কঙ্কন" বইখানা এনেচি। সেই কতকাল আগেকার সৌন্দর্য, সেই পূজোর পর বাবার সঙ্গে ম্যালেরিয়া নিয়ে প্রথম বাড়ি যাওয়া,— সেই দিদিমা । সে সব অপূর্ব স্বপ্ন-ভরা দিনগুলি ! জীবনটা যে কি অদ্ভূত, অপূর্ব-ত যারা না ভেবে দেখে তারা কি করে বুঝবে।--কি করে তারা বুঝবে কি মহৎ দান এটা ভগবানের। সকালে আমরা মোটরে করে বা'র হলুম—আমি, উপেনবাবু, অমরবাবু, করুণবাবু। ঝরনার কি সুমিষ্ট জল।...একটু একটু বৃষ্টি হোল। কিন্তু পথের দুধারে কি অপূর্ব গাছপালা, লতাপাত, শালচার, ঝরনা, বাশবন—দুধারের ঘন জঙ্গলে জংলা মেয়েরা কাঠ কাটচে–কি মুনীর মেঘের ছায়া—ত্রিকুটের দু-এক স্থান থেকে নীচের দৃপ্ত বড় মনোরম। একস্থানে বীশের ছায়ায় বসে ডায়েরী রাখলুম। বড় সুন্দর দৃপ্ত । অধের্কট উঠে বড় পরিশ্রম হোল বলে—সকলে উপরে উঠতে চাইলেন না। “অগ্নি