পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাঙ্কুর ᎼᏔ%☾ শাল মহুয়া পলাশের বন সেখানে নেই, এরকম পাহাড় নেই স্বীকার করি, কিন্তু সে-সব অপূর্ব মধুর আরামই বা এখানে কোথায় ? মনে পড়ে বহুকাল পূর্বে এই সময়েই শৈশবের সেই “মাধবী কঙ্কণ” ও “জীবন প্রভাত"—সেই পাকাটির আঁটি ও ছিরে-পুকুর। বইখানা সেদিন খামাচরণদাদার কাছে চেয়ে নিয়ে এলুম। সেসব দিনের অপূর্ব মধুর স্মৃতি— সারাজীবন অদৃশু ধূপবাসের মত ঘিরেই রইল। এই নিয়েই তো জীবন—এই চিন্তাতে, এই স্মৃতিতে, এই যোগে। এই মনন ও ধ্যান ভিন্ন উচ্চ জীবনানন্দ লাভ করবার কোনো উপায় নেই। এ আমার জীবনের পরীক্ষিত সত্য। নন্দন পাহাড় থেকে ফিরে এসে দেখলুম অমরবাবুর বাংলোতে ৮বিজয়ার সন্মিলনী বসেচে। গোল চাতালটাতে জ্যোৎস্নার আলোতে চেয়ার পেতে বিমানবাবু, রবিবাবু, অমরবাবু, করুণবাবু সবাই বসে আছেন। ৬বিজয়ার আলিঙ্গন ও কুশলাদির আদান-প্রদানের পরে চ ও খাবার খাওয়া হোল। একটু পরে ফকিরবাবু এলেন। অনেকক্ষণ ধরে সাহিত্যিক আলোচনা চলল। আমি ও বিমানবাবুর জামাতা রবিবাবু অনেকক্ষণ ধরে টলষ্টয় ও রুশীয় সাহিত্যিকদের সম্বন্ধে আলোচনা করলুম। রবিবাবু আমার পথের পাঁচালী’র প্রশংসা করছিলেন। বললেন, অনেকে বলেচেন, ‘পথের পাচালী’ শেষ হোলে বিচিত্রা ছেড়ে দেবো । আমি ও করুণবাবু ঘরের মধ্যে এসে বসে সিগারেট খেলুম ও ফকিরবাবুর বিরুদ্ধে আমাদের ঝাল ঝাড়তে শুরু করলুম। তারপরে এক পর্শলা বৃষ্টি হয়ে সেটা একটু কমে গেল— বিমানবাবু ও রবিবাবু চলে গেলেন—আমরাও পূর্ণবাবুর বাড়িতে কীৰ্তন শুনতে গেলুম। দক্ষিণ ঘোষ বলে একজন ভদ্রলোক সেখানে বৈষ্ণব ভক্তিশাস্ত্র সম্বন্ধে অনেক কথা বলছিলেন —আমার বেশ লাগলো। খুব জ্যোৎস্নার মধ্যে দিয়ে জোরে মোটর হাকিয়ে অনেক রাত্রে বাংলাতে ফেরা গেল ! বেশ লাগছিল। কাল সকালে সম্ভবত: গিরিডি হয়ে ঐ পথে মোটর-বাসে হাজারীবাগ ও সেখান থেকে রণটা হয়ে কলকাতায় ফিরবো । দেখি কি হয়। আকাশ পরিষ্কার না থাকলে কোথাও যাবো না । অমরবাবুর দৌহিত্র অমিতের কথাগুলি ভারী মিষ্টি। তিন বৎসরের শিশু! বেশ লাগে ওকে। এইমাত্র সন্ধ্য ছ’টার দিল্লী এক্সপ্রেসে দেওঘর থেকে ফিরে এলুম। সারা দিনট কাটল বেশ। বড় রোদ ছিল। করুণাবাবু সারা পথ কেবল গানের বই বা'র করেন আর আমাকে এটা ওটা গাইতে বলেন-করুণাবাবু সম্পূর্ণ বৈমুরে গাইতে থাকেন। মধুপুরে আমার নেমে উই জলপ্রপাত দেখতে যাবার কথা ছিল, কিন্তু উপেনবাবু নামলেন না বলে আমিও আর নামলুম না। তাতে আমার মন খারাপ ছিল, সেটা দূর করে দেওয়ার জন্তে আমার মুখের সামনে একটা লিগারেট ধরলেন । তারপরে আবার চললে তীর সেই ৰেম্বরে গজল গ৯ওয়া। শিশিরকুমার ঘোষের বড়