পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাকুর ጏዓP লোকেরা ও ছেলেদের দল আমাদের বাড়ির পিছনের ঘন জঙ্গলের ওপারের বাগানগুলোতে আম কুড়িয়েচে, সারা রাতটি। কি মুন্দর বৈকালটি কাল কাটালো যে ! কুঠির মাঠে অনেকক্ষপ বসে ; পরে নদীজলে সন্ধ্যার কিছু পূর্বে স্বান করতে নামা গেল। এত অপূর্ব ভাব এল মনে, ঠাণ্ডা নদীজল, ছিপি শেওলার পাতার ধারে দাড়িয়ে, ছায়াচ্ছন্ন সন্ধ্যায় আকাশ ও খামল গাছগুলোর দিকে চোখ রেখে শুধু এদের পিছনে যে বিরাট অবর্ণনীয় শক্তি জাগ্রত আছে, তার কথাই বার বার মনে আসছিল। স্বচ্ছ জলের ভেতরে মাছের দল খেলা করচে—একটা ছোট মাছ তিড়িং করে লাফিয়ে শেওলার দামের গায়ে পড়ল। নদী জলের আর্দ্র, সুগন্ধ উঠচে–ওপারে মাধবপুরের পটোলের ক্ষেতে তখনও চাষার নিড়েন দিচে–বাদাম গাছের মাথায় একটা নক্ষত্র উঠেচে । সারাদিনের গুমটের পর শরীর কি স্নিগ্ধই হল !.. শেষ রাত্রে বেজায় গুমোট গরমে আইটাই করচি এমন সময় হঠাৎ ভীষণ ঝড়-বৃষ্টি এল । নদি, জেলি, বুড়ি পিসিম,জেলে পাড়ার ছেলের অমনি আম কুড়তে ছুটল। ঘন অন্ধকারের মধ্যে লণ্ঠন জেলে সব ছুটল চাটুধ্যে বাগানের দিকে। জেলির মা চেচিয়ে পিছু ডাকাতে জেলি আবার এল ফিরে ।-- সকালটার সি দুরে মেঘে অপরূপ শোভা হয়েছিল। পরশু বৈকালটিতে এই রকমই সিঁদুরে-মেঘ করেছিল—আমি সেটা উপভোগ করতে পারি নি, গোপালনগরের হাটে গিয়েছিলাম। আজ প্রায় বাইশ বছর পরে ভাণ্ডারকোলায় নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েছিলুম। কিন্তু কাল সন্ধ্যার কিছু পূর্বে বেলেডাঙার মাঠে যে অদ্ভূত মনের রূপ ও প্রকৃতির রূপ দেখেছিলাম, অমন কখনো দেখি নি। কাচিকাটার পুল থেকে ফিরবার পথে মাঠের মধ্যে দাড়িয়ে বুড়োর পত্রটা পকেট থেকে পড়চি—প্রমীলা মারা গিয়েচে লিখচে । সামনে অপূর্ব রঙের আকাশটা ঘন হীরাকসের সমুদ্রের মত গাঢ় ময়ুরকষ্ঠ রঙের, পিছনে বর্ণ-সমুদ্র, কোথাও জনমানব নেই—গাছে গাছে পাখীর ডাক, দূরে গ্রামসীমার পাপিয়া মুর উঠিয়েছে,—জীবনের অপূর্বতা কি চমৎকার ভাবেই.--সন্ধার ছায়াচ্ছন্ন আকাশটার দিকে চেয়ে মনে হল !.. কাল বৈকালের দিকে বেলেডাঙার বট-অশ্বখের পথটা বেয়ে বেড়াবে বলে, কুঠির মাঠের পথটা দিয়ে চললুম সেদিকে—মাঠে পড়েই অবাক হয়ে পশ্চিম আকাশে চেয়ে রইলুম—মুগ্ধ আত্মহারা হয়ে গেলুম। সারা বেলেডাঙার বনশ্রেণীর ওপর ঘন কালো কালবৈশাখীর ঝোড়ো মেঘ জমেচে—অনেকটা আকাশ জুড়ে অর্ধচন্দ্রাকার মেঘচ্ছটা—আর তার ছায়ার চারিধারের বাশবন, ঘন সবুজ শিমুল ও বটগাছগুলো, নীচের আউশের ক্ষেত, বাওড়—সবটা জড়িয়ে সে এক অপরূপ মূর্তি ধরেচে। বিশেষ করে ছবি দেখতে মারাত্মক রকমের সুন্দর হয়েচে এক শিমুল ডালের—তার সোজা মগ ডালটা মেঘের ছায়ায় ও উড়নশীল ঘন কালো-মেঘে ঢাকা