পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


»ማU বিভূতি-রচনাবলী আকাশের পটভূমিতে কোনো দেবশিল্পীর আঁকা মহনীয় ছবির মত অপূর্ব। সেইটি দেখে চোখ আর আমার ফেরে না—কেমন যেন পা আটকে গেল মাটির সঙ্গে, অবশ হয়ে গেলুম, দিশহারা হয়ে পড়লুম-ও !—সে দৃশুটার অদ্ভুত সৌন্দর্যের কথা মনে এলে এখনও সারা গা কেমন করে ওঠে। তারপরই সা-স। রবে ওপারের দিক থেকে বিরাট ঝড় উঠলো—দৌড়, দৌড়, দৌড়,— হাঁপাতে ইপিাতে যখন গেয়োখালী আমতলাটার পৌছিয়েচি—আমাদের গ্রামের কোলে—তথন বৃষ্টি পড়তে শুরু করেচে–জেলি আর প্রিয় জেলের ছেলে আম কুড়চ্চে—একটি দরিদ্র যুবককে আগ্রহ সহকারে আম কুড়তে দেখে চোখে জল এল। কি দিরেচে জীবন এদের ? অথচ এরা মহৎ, এদের দারিদ্র্যে এরা মহৎ হয়েচে । অতিরিক্ত ভোগে ও সাচ্ছল্যে জীবনের সরল ও বন্ধুর পথটাকে হারায় নি।. স্বান সেরে এসে বকুলতলার ছায়ায় বসে ওপরের কথাগুলো লিখলাম। মাথার ওপর কেমন পার্থীরা ডাকচে—ফিঙে, দোয়েল, চোখ-গেল—আর একটা কি পার্থী—পিড়িং পিড়িং করে ডাকচে, কত কি অস্ফুট কলকাকলী—কি ভালই লাগে এদের বুলি !.. আজ বৈকালে হাট থেকে এসে কুঠির মাঠে গিয়ে অনেকক্ষণ বসলুম। শিমুল-গাছের এত অপরূপ শোভা তা তো জানতাম না। ঝোপের মাথায় মাথায় কি নতুন কচি লতা সাপের মত খাড়া হয়ে আছে। মন পরিপূর্ণ হয়ে গেল সৌন্দর্যের ভারে—চারিধারে চেয়ে—এই প্রকৃতির সঙ্গে, পাখীর গানের সঙ্গে মানুষের সুখ-দুঃখের যোগ আছে বলেই এত ভাল লাগে। গ্রাম-প্রাস্তের সন্ধ্যাছায়াচ্ছন্ন-বেণুৰ্বনশীর্ষের দিকে চেয়ে মনে হল ওদের সঙ্গে কতদিনের কত স্মৃতি যে জড়িত—সেই বর্ষার রাতে দিদির কথা, মায়ের কত দুঃখ, আতুর ডাইনীর ব্যর্থত, পিসিম, ইন্দির ঠাকরণের,—কত সমুদ্রে যাওয়ার স্মৃতি—সেই পিটুলিগোলা-পানকারী দরিদ্র বালকের, পল্লীবালা জোয়ানের, কতকাল আগের সে-সব ইংরাজ বালক-বালিকার, গাং-চিল পাখীর ডিম সংগ্রহ করতে গিয়ে যারা বিপন্ন হয়েছিল—Cape Wan-এর ওদিকে গিয়ে যারা আর ফেরেনি—কত কি, কত কি। নদীজলও আজ লাগল অদ্ভুক্ত–শাস্ত সন্ধ্য-কেউ নেই ঘাটে, ওপারের গাছপালায় ধূসর সন্ধ্যা নেমেচে—একটি নক্ষত্র উঠেচে মাথার ওপর—কোনো অনন্ত দেশের বাণীর মত এই শত দৈন্তসংকীর্ণতাময় সংসারের উর্ধ্বে জল জল করে জলচে । এখানকার বৈকালগুলো কি অপূর্ব! এত জায়গায় তো বেড়িয়েচি, ইসমাইলপুর, ভাগলপুর, আজমাবাদ–কিন্তু এখানকার মত বৈকাল আমি কোথাও দেখেচি বলে মনে হয় ন!— বিশেষ করে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসের মেঘহীন বৈকালগুলি--যেদিন সুর্য অস্ত যাবার পথে মেঘাবৃত না হয়, শেষ রঙ আলোকটুকু পর্যন্ত বড় গাছের মগডালে হালকা সিদ্বরের পোচের মত্ত দেখা যায়—সেদিনের বৈকাল। গাছের ও বাশবনের ঘন ছায়ায় চাপ-আলো, ডাস