পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


}న్సe বিভূতি-রচনাবলী বিলাসপুর নেমে ঝড় বৃষ্টি। এখন একটু রৌদ্র উঠেচে—গাড়ির মধ্যে বসে বসে লিখচি —কিন্তু মেঘের ঘোর এখনও কাটে নি । পরশু বৈকালটি সজনীবাবু, মুবলবাবু ও গোপালবাবুর সঙ্গে বেশ কেটেচে। প্রথমে রেক্ট রেন্টে কিছু খেয়ে মোটরে করে গেলাম লেকে—সেখান থেকে আউট্রাম ঘাট— সেখানে চা-পানের পর বাসা । ড: মুশীল দে-র ওখানেও ঘণ্টা তিন-চার গল্প করে ভারি यांनन हठा । কারগী রোডে পৌঁছে দেখলাম কিছুই আসে নি, অতি বর্ষণের ফলে বন্যা হওয়াতে রাস্ত ভেঙে গিয়েচে–গন্তব্য স্থানে পৌছতে দুই-তিন দিন লাগবে—আরও একটি সাহেব আমারই মত বিপন্ন হয়ে পড়েচেন—মুতরাং প্রত্যাবর্তনই যুক্তিযুক্ত মনে হল। একজন বাঙালী ওভারসিয়ার ছিলেন, তার নাম সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্য-তিনি সঙ্গে করে তার বাসায় নিয়ে গেলেন—বেশ লোক –ঝিঙে ও টেডুস ভাজা, ডাল ও ভাত । ওধারকার রাঙা মাটির দেওয়াল, বেশ দেখতে । মনে হল ওরকম বাড়িতে আমি তো একেবারেই টিকতে পারবো না । সঙ্গে করে দেখালেন, পাশেই জমি কিনেচেন—সেখানে তরকারীর বাগান। একটি গালার কারখানায় নিয়ে গেলেন গালা চোলাই হচ্চে—একটা অপ্রীতিকর গন্ধ। সেখান থেকে এসে খাওয়া-দাওয়ার পরে সামনের পাহাড়টাতে ওঠা গেল । ওপারে আর একটা পাহাড়—মধ্যে ঘন শাল পলাশের বন—মহিষের গলার একটানা ঘণ্টার ধ্বনি শোনা যাচ্চে । ওখানকার একজন খৃষ্টান ডাক্তার জানপান্নার বিবাহ গেল সেদিন, বিবাহ উপলক্ষে অনেকগুলি সাহেব, মেম ও বাঙালী ষ্টান মেয়ে এসেছিলেন—এই ট্রেনে যাচেচন । বিলাসপুরে গাড়ি পেয়ে গেলাম ঠিক মত—ভিড় খুব বেশী ছিল না। বিলাসপুরের ও রায়গড়ের মধ্যেকার আরণ্য ভূভাগের দৃপ্ত অতি অপূর্ব—কিন্তু দুঃখের বিষয় সন্ধ্যার অন্ধকার চারিদিকে নামবার পরেই অধিকতর অপরূপ এমন আর এক বনভূমির ভিতর দিয়ে ট্রেন যেতে লাগল, যার তুলনায় পূর্বে যতগুলো দেখেচি সব ছোট হয়ে গেল, তুচ্ছ হয়ে গেল—সেটা হচ্ছে রায়গড় ও ঝারলাগুদার মধ্যে—সে অপরূপ আরণ্যভূমির বর্ণনা চলে না। দিবাশেষের ঘন ছায়ার অনতিস্পষ্ট সে দৃশ্বের মত গভীর অন্ত কোনো দৃপ্ত জীবনে দেখি নি। কখনও— চন্দ্রনাথের পাহাড়ও নয়। কি প্রকাও পাহাড়টাই বরাবর সঙ্গে সঙ্গে একেবারে চক্ৰধরপুর পর্যন্ত এলো ! মাঝে মাঝে সাদা মেঘগুলো পাহাড়ের গায়ে লেগে আছে, যেন কুমোরেরা পণ পুড়চ্চে-নীল মেঘের মত পাহাড়টার শোভাই বা কি ! লোকে ভেবে দেখে না, মনের সতর্কত কম, তাই সেদিন সেই লোকটা বললে, ‘মশাই এ অঞ্চলে সবই barren'...barren কোথায় । তারা কি চক্ৰধরপুরের পরের এই গভীর-দৃপ্ত বনানী দেখে নি ?. আমি মনে মনে বুঝে নিলাম পিছনের ওই নীল পাহাড়ট, মেঘরাজি যার কোলে— সন্ধ্যাবেলাতে দুষ্ট, ছেলের মত ঘুমিয়ে পড়েচে–ওটা আর রেলের পিছনে মাঠগুলো নিয়ে একটা প্রকাও ত্রিভুজ তৈরি হয়েচে–দেড়শত ছুইশত বর্গ মাইল পরিমাণের এই