পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাঞ্জুর పిసి) ত্রিভুজটায় সবটাই বসতিবিরল, স্বানে স্থানে একেবারে জনহীন অরণ্য, পিছমে বরাবর ওই পাহাড়টা। এই অরণ্যভূমির ও শৈলমালার মধ্য দিয়ে রেলপথটা চলে গিয়েচে । সহসা একটা পাহাড়ের মেঘে ও কুয়াসায় ঢাকা শিখরদেশের কি অদৃষ্টপূর্ব শোভা !...গাড়ির সবাই বললে – দ্যাথো, দ্যাথো—আমার তো হৃদয় বিস্ফারিত হল, চারিধারে এই অপূর্ব বনভূমির শোভা দেখে অন্ধকার পর্বত-সামুস্থিত অরণ্যের মধ্যে কোথা থেকে সঙ্ক ফোট শেফালি ফুলের স্ববাস পেলাম—ট্রেনটাও Rock cuttingটা ভেদ করে ঝড়ের বেগে ছুটেচে–চারিধারে রহস্তাবৃত অন্ধকারে ঢাকা সেই শৈলপ্রস্থ ও অরণ্য-ভূভাগ—জীবনে এ ধরনের দৃশ্ব ক’টাই বা দেখেচি !...রাত আটটায় এসে বম্বে মেল ঝারসাগুদাতে দাঁড়াল। এখানে চা ও খাবার খেয়ে নিলাম । সেদিনকার মত উদার-হৃদয় সহচর তো আজ সঙ্গে নেই যে খাবার খাওয়াবেন। ঝারসাগুদা থেকে সম্বলপুরে এক লাইন গিয়েচে । রাত্রে ট্রেনে বেশ ঘুম হল, সকলে এসে কলকাতায় উঠলুম—দুপুরটা ঘুম হল খুব । আজ বিজয় দশমী। কোথায় যাব—ভাবচি-বিভূতিদের ওখানেই যাওয়া যাবে এথন । আজ সারাদিনট হৈ হৈ করে কাটল । সকলে উঠেই সজনীবাবুদের বাড়ি—সেখানে খানিকক্ষণ গল্পগুজবের পর সকলে মিলে ক্লিতেনবাবুদের বেলগেছিয়ার বাগানবাড়িতে যাওয়া গেল। সেখানে হল পিক্‌নিকৃ—মাংস সিদ্ধ ইতে বাজল তিনটে । Living ago কাগজখানাতে মেটারলিঙ্ক-এর নতুন বই ‘Life of the Ants' সম্বন্ধে একটি ভারি উপাদেয় প্রবন্ধ পড়ছিলাম —সামনের পাইকপাড়া রাজাদের বাগানটিতে অপরাত্বের স্নিগ্ধ ছায়। বর্ষাশেষের সরস, সবুজ গাছপালার উপর নেমে আসচে, ওধারের তালগাছগুলো মেঘশূন্ত নীলাকাশের পটভূমিতে ওস্তাদ পটুয়ার হাতে আঁকা ল্যাণ্ডস্কেপের ছবির মত মনোহর হয়ে উঠেচে–কিন্তু আমি এই বৈকালটিকে আমার মনের সঙ্গে কি জানি আজ মোটেই খাপ খাওয়াতে পারচি নে—আমার মনের সুসম্বন্ধ, সুনির্দিষ্ট অপরান্ডুের মালায় আজকার বেলগেছিয়া বাগানের ও সুন্দর অপরাভুটি বিস্তৃত শত অপরাতু-মুক্তাবলীর পাশে কেন ধে স্থান দিতে পারলাম না, তা জানি না । সেখান থেকে বেরিয়ে গেলাম শাখারিটোলায় রাধাকান্তদের বাড়ি, তারপর দক্ষিণাবাবুদের বাড়ি দক্ষিণাবাবু বাড়ি নেই। জ্যোৎস্না আদর-অভ্যর্থনা করলে, কাছে বসে থাওষ্টালে। রাত BBBB BBB BB BBBBBS BB BBBB BB BB BBBBBS BBB BBB চন্দ্রগ্রহণ, কিন্তু মেঘের জন্তে কিছু দেখা গেল না । সারারাতের মধ্যে চোখের পাতা বুজামে গেল না মশায় ও গরমে—অনেকরাত্রে দেখি একটু একটু বৃষ্টি পড়চে । এবং কালী পূজাতে দেশে গিয়ে সত্যই বড় আনন্দ পেলাম—এত মুনীর গন্ধ বন-ঝোপ থেকে ওঠে হেমস্তের প্রথমে, এবার খুঁজে খুঁজে দেখলাম গন্ধটা প্রধানত: ওঠে বনমরিচার ফোটা ফুল থেকে ও কেলেকোড়ার ফুল থেকে । এবার আনন্দটা সত্যই অপূর্ব ধরনের হল \