পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>\ বেরিয়ে বারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড ধরে হেঁটে নিম্তে গ্রামে যাওয়া, হাওড়া ময়দানের ছোট রেলগাড়িতে চেপে জাঙ্গিপাড়া যাওয়া, অথবা নিজের গ্রাম থেকে মেঠো পথ ধরে পিসিমার বাড়ি বাগানগ-এ আওয়া—এ সব সত্যই অতি সামান্ত ঘটনা। কিন্তু বিভূতিভূষণ নিজে এগুলিকে সামান্ত বলে ভাবতেন না । তার মতে “অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হলে জীবন সম্বন্ধে —পাড়াগারে পায়ে হেঁটে বেড়ানো উচিত কিছুদিন, আমার এই রকম ধারণা। দশদিন কাশ্মীরে ঘূর্ণীঝড়ের মতো ঘুরে আসার চেয়ে তা কম শিক্ষাপ্রদ নয়, আনন্দও তা থেকে কম পাওয়া যায় না। —নিম্তে ভ্রমণ সম্বন্ধে তার সংক্ষিপ্ত মন্তব্যটিও তাৎপর্যপূর্ণ : ‘কাজেই আমার সেদিনকার ভ্রমণটা "তুচ্ছ তো নয়ই—বরং আমার জীবনের মধ্যে অত্যন্ত মূল্যবান সেদিনটির ट्त्रांनन !' বস্তুতঃ আমার বিশ্বাস, বিভূতিভূষণ ইচ্ছা করেই গ্রন্থারম্ভে এই তিনটি বস্তুভারহীন পদপর্যটনের কাহিনী সন্নিবিষ্ট করেছেন। সমগ্র গ্রন্থের স্থায়ী সুরটি তিনি অতি সংক্ষেপে এখানেই বেঁধে দিয়েছেন—যে বিশিষ্ট ধরনের ভ্রমণ-রস তিনি স্বষ্টি করতে চান তার আভাসও আমাদের দিয়েছেন । দ্বিতীয় পর্বটি গ্রন্থের মধ্যে দীর্ঘতম। এই সময়ে তিনি বিখ্যাত ব্যবসায়ী কেশেরাম পোদারের অধীনে সামান্ত বেতনে চাকুরি গ্রহণ করে কর্মোপলক্ষে পূর্ববঙ্গের নানাস্থানে ঘুরে বেড়ান-কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারিপুর, বরিশাল, চাটগাঁ, চন্দ্রনাথ পাহাড়, কক্সবাজার, আগরতলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালি, ঢাকা, এমন কি বাংলাদেশের সীমাস্ত পার হয়ে আরাকানের মডু শহর ও ইরোমা পর্বতমালার আরণ্য অঞ্চল পর্যন্ত ভ্ৰমণ করে আসেন। এই পর্বের পর্যটন-পরিধি নেহাৎ অবিস্তীর্ণ নয়—প্রাকৃতিক দৃশ্বের এবং অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যও যথেষ্ট । তৃতীয় পর্বটি ভাগলপুর-কেন্দ্রিক। তিনটি ভ্রমণকাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই পর্বে—কাজরা উপত্যকার ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রম ভ্রমণ, গৈবীনাথ ভ্রমণ এবং পদব্রজে ভাগলপুর থেকে বৈদ্যনাথধাম যাত্রা । উপসংহার পর্বে ছুটি বিচ্ছিন্ন কাহিনী আছে—মধ্যপ্রদেশের অরণ্য-পর্বতের মধ্যে অবস্থিত দারকেশ ভ্রমণ ও সেখান থেকে জঙ্গলের পথ ধরে অমর-কণ্টক রোড স্টেশন পর্যন্ত পদব্রজে যাত্রা এবং কলকাতার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে উড়িষ্যার বিক্রমখোল নামক গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযান । 綬 এই শেষ দুটি কাহিনীর সঙ্গে গ্রন্থের অবশিষ্টাংশের কালগত ব্যবধান অনেকখানি। তথাপি মধ্যপ্রদেশ-ভ্রমণকাহিনীর সঙ্গে পূর্ববর্তী কাহিনীগুলির রস-সঙ্গতি কোথাও ব্যাহত হয় নি। তার কারণ বোধ হয় এই যে এক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ বিভূতিভূষণ একা এবং তার মন। কাজেই তার নিজস্ব মানসিকতাই এখানে সক্রিয়—কোন অবাস্তর বিস্তু তাকে লক্ষ্যচ্যুত্ত করতে পায়ে নি । কিন্তু বিক্রমখোল অভিধান সম্বন্ধে একধু বলা চলে না। শহরে শিক্ষিত sophisticated বন্ধুদের সাহচর্য, সরকারী পৃষ্ঠপোষকত; গ্রামবাসীদের সশঙ্ক আতিথ্যের আড়ম্বর—সব কিছু