পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


నb বিভূতি-রচনাবলী বিস্মিত হয় না, মুগ্ধ হয় না, সে মৃত সে বেঁচে নেই। আমাদের দেশের কেউ এ কথা বুঝবেন কি ? এই জন্তেই অল্প বয়সে আমাদের দেশে জীবনের ব্যবসায় দেউলে হয়ে পড়ে—নতুন বিস্ময়, নতুন অনুভূতি হয় না, নবতর জীবনের পথ চিরগুপ্ত রয়ে যায় তাদের কাছে—মানুষ দমে বার জানি–কিছুকাল তার মনে সব শক্তি হয়তো ক্ষীণতর হতে পারে মানি–কিন্তু জীবন্ত যে মহিষ, সে আবার জেগে উঠবে, সে আবার নবতর বংশীধ্বনি শুনবে—নব জীবনের সন্ধান পাবে। অপরাজিত প্রাণ-ধারার কোন অদৃশু উৎসমুখ তার আবার খুলে যাবে, বি-জর ও বি-মৃত্যু-আনন্দ তার চিরপ্তামিল মনে আবার আসন পাতবে । বিহার অঞ্চলে দেখেচি শীতের শেষে বনে আগুন দেয়, সব ঘাস একেবারে পুড়িয়ে ফেলে—কি জন্তে ? যাই জ্যৈষ্ঠের রৌদ্র পড়বে—ওই দগ্ধ ঝোপ-ঝাপের গোড়া থেকে আবার নবীন, খামল, সুকুমার তৃণরাজি উচ্ছসিত প্রাণ-প্রাচুর্যে বেড়ে উঠতে থাকবে—হু-হু করে বাড়ে, পনেরো দিনের মধ্যে সারা কালে গোট ঘাসের বন ঘন শুiমশ্ৰী ধরে—এই তো জীবন, এই তো অমরত । তাই ভাবি, মাস বছর ধরে মাহুষের বয়স ঠিক করা কত ভুল। ১৩৩৮ সাল পড়ে গেল আজ, আমার বয়স এক বৎসর বেড়ে গেল বটে হিসেব মত—কিন্তু আমি কি দশ বৎসর কিংবা পনেরো বছর আগেকার সেই বালক নেই অল্পবিস্তর ?... সেদিন গেছলাম রাজপুরে অনেক কাল পরে। খিচুর সঙ্গে দেখা হল । আবার পুরনো পুকুরের পথটা ধরে হাটলাম—বশগুলো নীচু হয়ে পড়ে আছে—চড়কের সন্ন্যাসীর দল বাড়ি বাড়ি বেড়িয়ে বেড়াচ্চে। দুটোর ট্রেনে ফিরে সাড়ে পাঁচটায় স্কুলের মিটিং করলুম। রসিদকে আজি তাড়ানো হল । পথে কোন জায়গায় ফুটন্ত মালতীলতার ফুলের গন্ধ, জারমলীন আপিসের কাছে—গোয়াড়ীকৃষ্ণনগরের স্মৃতিটা হঠাৎ মনে পড়ল । সেদিন বন্ধু বলছিল—বাকি-করিমালি। পরিচিত নাম, বাবার মুখে ছেলেবেলায় শুনেছিলাম কবে—ভুলে গেছলাম, যুগান্ত পরে যেন কথাটা আবার শুনলাম বলে মনে হল । অনেকদিন পরে আজ রবিবারটি বেশ কাটলো। শীঘ্রই গরমের ছুটি হবে, কাল রাত্রে বাইরের বারানায় বৃষ্টি পড়াতে বিছানা টানাটানি করে ভাল ঘুম হয় নি, উঠতে একটু বেলা হয়ে গেল। হাতমুখ ধুয়ে কলেজ স্কোয়ারের দোকানটাতে খাবার খেতে গেলুম—ওরা বেশ হালুয়া করে। তারপর গোলদীঘির মধ্যে বসে কামাতে লাগলুম একটা নাপিতের কাছে। ওদিকে অনেকগুলি গাছ, একটা গাছে সোদালি ফুল ফুটেচে—এমন একটা অপরূপ আনন্দ ও উত্তেজনা এল মনে ফুটন্ত ফুলেভরা গাছটা দেখে—মনে হল আর বেশী দেরি নেই, এক সপ্তাহ পরে ঐ রকম ফুলেভরা বন-মাঠে গিয়ে 'অপরাজিত'-র শেষ অধ্যায়টা লিখবো—সত্যি, জীবনে দেখেচি ভবিস্তুতের ভাবনায় সব সময়ই এত আনন্দ পাই | ফিরে এসে অনেকক্ষণ বই লিখলুম। খন এষ্ট বাংষ্ট্রে করা গেল—ঘুম আদেী হল না। বেলা আড়াইটার