পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૦ ૨ বিভূতি-রচনাবলী সেদিন পাচুগোপালের সঙ্গে ভগবতীপ্রসন্ন সেনের বাড়ি গিয়েছিলাম। ছেলেবেলাকার সে স্থানটি হয়তো আর কখনও দেখতুম না—কিন্তু আবার সেই ‘পরশুরামের মাতৃহত্যা যাত্রাটি হয়েছিল, সেটি আবার দেখলাম—যে ঘরে বসে বাবার সঙ্গে নিমন্ত্রণ খেয়েছিলাম— ভগবতীবাবু যে রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিলেন কতকাল আগে আমার নয় বছরের শৈশবে —লেখে 'রতুগর্ভ বলে, সেই কথাটি মনে পড়ল এতকাল পরে । সত্যিই জীবনটা অপূর্ব শিল্প—কি বলে প্রকাশ করি এর গভীর অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্য, এর নবীনত্ব, এর চার কমনীয়তা—আবার সেই পথটি দিয়ে ফিরে এলাম, যে পথে বাবার সঙ্গে গঙ্গামানে যেভুম।...বিজয়রত্ব সেনের সেই বাড়িটা আজ আটাশ বছর পরে আবার দেখলাম। আজ সকালে উঠে স্নান সেরে রামরাজাতলা গিয়েছিলুম ননীর সঙ্গে দেখা করতে। স্থানটা আমার ভাল লাগে নি আদৌ। পল্লীর শ্ৰী-সৌন্দর্য নেই, অথচ শহরের মহনীয়তাও নেই-শহরের মধ্যে দীনতা নেই,কুশ্ৰত কম, যেদিকে চাই, বড় বড় সৌধ, বিশাল আকাশ– আর ওখানে পল্লীর অপূর্ব বনসন্নিবেশ নেই, Space নেই—আছে খোলা ড়েন, দরিদ্র মিউনিসিপ্যালিটির তেলের আলো আর ওলকচুর বর্ষাপ্রবৃদ্ধ ঘেঁষাৰ্ঘেৰি। ননীর সঙ্গে অনেক কথা হল । ছেলেটির মধ্যে সত্যিই কিছু ছিল, কিন্তু গেয়ে হয়ে খুলতে পারছে না ; ওকে কলকাতায় এনে ভাল সমাজে পরিচিত করে দেব। বিকেলে বাসায় ফিরলাম। কি সুন্দর আকাশ !..বৃষ্টি নেই অনেকদিন, অথচ মেঘের পাহাড় নানা স্থানে আকাশে । কেমন যে মনে হচ্চিল, তা কি করে বলি।--বেল পাচটাতে BBBB BB BBB BBSBBS BBBB BBB BB BBS BBB BBBBB 0 B BB BS BBS BBS BBB BBBB BBBB BB BBBB BBB S BBBBS BBB পথে রাধাকান্তদের মাস্টার সুশীলবাবুর সঙ্গে দেখা । সুশীলবাবু বিভূতির কথা উল্লেখ করে অনেক দুঃখ করলেন। সত্যিই ছেলেটা খারাপ হয়ে যাচ্চে সবাই বলে। অক্ষয়বাবুর নাকি মধ্যে একদিন ফিট হয়েছিল গাড়িতে-অতিরিক্ত মদ্যপানের ফল। ওদের সম্পত্তিটা অভিশপ্ত—সংযম ও উদারতার অভাবে এবং কতকটা কুশিক্ষা ও দাম্ভিকতার ফলেও ওদের সব নষ্ট হয়ে যেতে বসেচে। এই সব ভাবচি এমন সময় হেমেন এল, গান আরম্ভ হল। শৈলজা বলছিল তাকে কে কে blackmail করেচে। সাহিত্যক্ষেত্রে এমন দলাদলি সত্যিই দুঃখের বিষয়। নীহারবাৰু বললে, ওর কে একজন দাদা “পথের পাঁচালী সম্বন্ধে বলেচেন, অমন বই আর হবে না। সজনী অপরাজিত নিতে চাইলে। খুব খাওয়া-দাওয়া ও আড়া হল। হেমেন সত্যিই বললে বাঙ্গালীর নিষ্ঠ ৭ সাধনার অভাব—সস্তা হাততালি ও নাম কিমবার প্রলোভনে আমরা যেতে বসেচি । হেমেন ও আম নানা পুরনো কথা বলতে বলতে শেয়ালদ পর্যন্ত এলাম-ওকে পার্ক সার্কসের ট্রামে উঠিয়ে দিয়ে বললুম, পূজোর ছুটিতে লঙ্কোঁতে আবার দেখা হবে।