পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S/e DBB BDD DD DDD D DDSDDBB BBDDD D DDBBS DD BB DDDD DDDS অংশের কোন সঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় বা । এ জাতীয় রসাভাস-দোষদুষ্ট একটা কাহিনী দিয়ে গ্রন্থ শেষ করার ফলে ‘অভিযাত্রিক’-এর সামগ্রিক মর্যাদা কিছু পরিমাণে ক্ষুন্ন হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস —আলোচনার অবশিষ্টাংশের মন্তব্যাদি এই কাহিনীটি সম্বন্ধে প্রযোজ্য নয় বলে ধরে নিতে হবে । মাছুষ নানা বিভিন্ন উদ্দেশুে দেশভ্রমণ করতে বেরিয়ে থাকে। কেউ কেউ অজ্ঞাত বা স্বল্পজ্ঞাত ভূভাগ আবিষ্কারের উদ্দেশ্বে ঘর ছাড়েন, কেউ কেউ বা ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের আকর্ষণে বেরিয়ে পড়েন। কেউ বা শুধু দেখতে চান, কেউ আবার কিছু শিখতেও চান। ইতিহাসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশভ্রমণ করেন কেউ কেউ, প্রাচীন প্রত্নতত্ত্বের টানেও অনেকে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান। নৃতত্ব, ভূতত্ত্ব, প্রাণি-বিজ্ঞান, সমাজ-বিজ্ঞান, উদ্ভিদ-বিজ্ঞান—সব কিছুই দেশভ্রমণের প্রেরণা যোগাতে পারে। পুণ্যের সন্ধানে অথবা মুনাফীর সন্ধানে অথবা শিকারের সন্ধানেও অনেকে দেশভ্রমণ করে থাকেন। তা ছাড়া কে কত অল্প সময়ের মধ্যে কত বেশি জায়গায় হাজিরা দিয়ে আসতে পারে তারই প্রতিযোগিতায় ধারা পৃথিবীময় টহল দিয়ে বেড়ান তারাও এক জাতীয় ভ্রমণকারী বটেন। সকল শ্রেণীর ভ্রমণকারীরাই ভ্রমণবৃত্তান্ত লিখে থাকেন। কাজেই ভ্রমণকাহিনী নানা জাতীয় হতে পারে, নানা রসের হতে পারে। ‘অভিযাত্রিক’ কোন জাতীয় ভ্রমণকাহিনী ? তার মৌল রসটি কি ? কিসের সন্ধানে বিভূতিভূষণ ভ্ৰাম্যমাণ হয়েছিলেন ? বিভূতিভূষণের রচনাবলীর সঙ্গে ধাদের পরিচয় অভ্যস্ত ভাসা ভাসা ধরনের তারাও জানেন যে বিভূতিভূষণ প্রকৃতি-প্রেমিক ছিলেন। সুতরাং এই জাতীয় পাঠকেরা অত্যন্ত সহজেই একটা ধারণা গড়ে তুলেছেন যে বিভূতিভূষণের রচিত সমস্ত ভ্রমণকাহিনীই প্রাকৃতিক দৃশ্বের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য সন্ধানের কাহিনী—ত্ৰাম্যমাণ বিভূতিভূষণের একমাত্র উদ্দিষ্ট রস নিসর্গরস। 'অভিধাত্রিক’-এর ক্ষেত্রে কথাটা আদৌ সত্য নয় —অবশু প্রকৃতি-বর্ণনার অভাব নেই এ গ্রন্থে, বরং সীতাকুগু-চন্দ্রনাথ ভ্রমণ, আরাকান-ইয়োম ভ্রমণ, মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণ প্রভৃতি কাহিনীতে প্রকৃতি, বিশেষ করে আরণ্য ও পার্বত্য প্রকৃতি, অনেকখানি স্থানই জুড়ে আছে । তবু একখা সত্য যে ‘অভিযাত্রিক’-এর বিভূতিভূষণ প্রকৃতিসর্বস্ব নন—মূলতঃ প্রকৃতি-সন্ধানীও নন। তার ভ্ৰাম্যমাণ মন নিসর্গশোভা-সন্দর্শনের মধ্যেই চরম আনন্দ ও পরিতৃপ্তি খুজে পায় নি। তার চেতন বা অবচেতন উদেশ্ব অন্ততর। তাছাড়া এটাও লক্ষণীয় যে ‘অভিযাত্রিক’-এর প্রকৃতি-বর্ণনা ‘আরণ্যক’-এর অথবা "হে অরণ্য কথা কও’-এর অথবা "তৃণাকুর"-এর প্রকৃতি বর্ণনার মতো কাব্য-রসসমৃদ্ধ নয়। এ গ্রন্থের প্রকৃতি-চিত্রণ সত্যই চিত্রাঙ্কন মাত্র—তার দৈর্ঘ্য আছে, প্রস্থ আছে, কিন্তু বেধ নেই ; রেখা আছে, রঙ, আছে, কিন্তু অঙ্গভূতিজাত গভীরতা নেই। বনভূমির গাছপালা ফুল লতাপাত