পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


९e 8 বিভূতি-রচনাবলী ১৯২৫ সালের, কি ১৯৩২ সালের আমি, আর বর্তমান আমি কি এক ? অনেক বেড়েচি —সেট বেশ বুঝতে পারি—এই দুঃখ, খাটুনি, কম মাইনে, ছেলে-পড়ানোর মধ্যে দিয়েও বেড়ে উঠচি। মানুষ কখন কি ভাবে কোন অবস্থার মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠে—তা কেউ छुन नी ! ক'ট দিন বেশ কাটল। সেদিন হাওড়ার রায় সাহেব সুরেশ সেনের ওখানে একটা পার্ট ছিল। মুশীলবাবু আমাকে এখান থেকে তুলে নিয়ে গেলেন–রমেশবাবু, নীরদবাবু সবাই সেখানে । তারপর জ্যোৎস্না-রাত্রে গঙ্গার উপর দিয়ে ফেরা গেল। শনিবারে সকালে সকালে কাজ মিটতে, সাহেব এক গোলমাল পাকিয়ে দিলে—বললে, তোমার নাম সিনেট থেকে যায় নি। সিণ্ডিকেটের সেদিনই মিটিং–ছুটির পরে ফণিবাবু ও আমি দুজনে মিলে মুনীতিবাবুর কাছে গেলাম। বাড়িতে দেখা না পেয়ে ইউনিভার্সিটি—সেখানে দেখা হল । তারপর আমরা কলেজ স্কোয়ারে অনেকক্ষণ বসে গল্প করলুম। সেখানে থেকে ইন্‌স্টিট্রাউটে রাগিণী দেবীর নৃত্যকলা সম্বন্ধে বক্তৃতা শুনতে গেলাম। ফণিবাবু আমাকে Y.M.C.A-এর সামনে ট্রামে উঠিয়ে দিয়ে গেল। আমি X. Libraryতে যাবো। সেখানে সজনীবাবুর সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রয়োজন। যাওয়ার সময় তাকে সেখানে না দেখে সোজা “শনিবারের চিঠি’ আপিসে চলে গেলাম। সেখানে নেই, আবার এলাম ফিরে, আজ নাকি হরতাল—কেউ আসে নি। ওখান থেকে বাস্-এ চেপে গুণমাপ্রসাদবাবুর কাছে ভবানীপুরে। খামাপ্রসাদবাবুর সঙ্গে দেখা করেই মুরলীবাবুর বাড়ি। তারপর অনেক রাত্রে ট্রামে বাসা। পরদিন ছুটির পরে সুনীতিবাবুর সঙ্গে engagement. সকালে সজনীর ওখাশে গেলাম । লুচি ও চা সজনীর স্ত্রী যত্ন করে খাওয়ালেন। সেখান থেকে দুজনে “শনিবারের চিঠির আপিস —আমি খানিকক্ষণ প্রফ দেখে স্কুলে এলাম ও ছুটির পরে ইউনিভার্সিটিতে গেলাম। প্রথমে এসিস্ট্যান্ট কণ্টে লোরের আপিলে। কেউ নেই—পরে দেখি সাহেব রেজিস্ট্রীরের ঘরের সামনে দাড়িয়ে আছে। আমিও দাড়িয়ে অপেক্ষ করলুম, একটু পরেই সাহেব বেরিয়ে এল। অনেকক্ষণ দুজনে গল্প করা গেল। তারপর হেরম্ববাবু, ওয়ার্ডসওয়ার্থ সাহেব, মি: বটমূলি, একে একে সবাই এলেন। পাচটার পরে আমি ওখান থেকে ফিরে সোজা শনিবারের চিঠির আপিলে। গোপাল হালদারের সঙ্গে Spiritualism নিয়ে সেখানে ঘোর তর্ক। মুনীতিবাবু এলেন— গল্পগুজবের পরে আমি, স্বনীতিবাবু ও প্রমথবাবু তিনজনে গল্প করতে করতে বেরুনো গেল। সুনীতিবাৰু 'পথের পাঁচালী ইংরেজিতে অম্বুবাদ করবেন, এমন ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। প্রমথবাৰু ইটালিয়ানের প্রোফেসর ইউনিভার্সিটিতে, তিনি আমার সঙ্গে আমার বাড়ি এলেন। আমার বইখানা ইটালিয়ানে অনুবাদ সম্বন্ধে অনেক কথা হল । ইটালিতে আমায় পাঠানো সম্বন্ধে বললেন।. তিনজন ভদ্রলোক এসে দেখি বাসায় বসে আছেন—তারা কালকের একটা পাটিতে নিমন্ত্রণ করতে এলেচেন । میمیر "