পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৪৬ বিভূতি-রচনাবলী কিন্তু আজই মনটা কেমন উড় উড় মায়ের সেই সজনে গাছটা-ভাঙা হাড়ি কুড়ির কথা আজ সারাটা দিন মনে হয়েছে—বিশেষ করে এই জ্যোৎস্না রাত্রে। এবার সরস্বতী পূজা একটু দেরীতে। কিন্তু ছুটি পাওয়া গেল বেশী। সপ্তাহব্যাপী ছুটি। "অপরাজিত প্রায় শেষ হয়ে আসচে–ভাবলাম একবার কেওট যাবো এসময়ে। নীরদবাবুও রাজী। গত মঙ্গলবার আমি ও নীরদবাবু মোটরে গেলাম দমদমা। মুশীলবাবু যেতে পারবেন না, অতএব আমরা সেখানে খাওয়া-দাওয়া সেরে দক্ষিণেশ্বর যাবে বলে বেরিয়ে পড়ি। সুশীলবাবুর স্থাও অপরাজিত শুনবেন বলে দক্ষিণেশ্বর যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন। সবাই বেরিয়ে পড়া গেল কিন্তু দক্ষিণেশ্বর যাওয়া হল না। যশোর রোডের পরে একটা নিভৃত বাশবনের ছায়ায় বিছানা পেতে বসে আমরা ‘অপরাজিত পড়লাম--তারপর ফিরে এসে চ খেয়ে আড়া দেওয়া গেল। রাত্রে রমেশবাবুর ওখানে নেমস্তন্ন ছিল—সেখানে প্রবোধ সাঙ্গলের সঙ্গে দেখা । A বুধবার দিনটি কাজ করলাম। বৃহস্পতিবার সকালে বনগ্রামের ট্রেনে চীপকুম কুঞ্জ বাসায় পৌছে দেথি তরু নেই। হেডপণ্ডিতকে নিয়ে গিয়ে স্কুলে অঞ্জলি ';দেবেনের বাসায় গেলাম, তারপর ফিয়ে এসে তরুর সঙ্গে গল্পগুজব করে চালুকী রওন কি অদ্ভুত আমের বউলের সৌরভ, কি শিমুলফুলের শোভা। বাতাবী লেবফুলের গন্ধ। কাল পয়লা ফাঙ্কন, এমন বসন্তশোভা আমাদের দেশে অনেক-কাল দেখি নি। চালকী পৌছে খাবার খেয়ে খুকী, ভোদো সবসুদ্ধ উত্তরমাঠে বেড়াতে গেলাম—রস খাওঁ। গল—অনেকটা বেড়ালাম। তারপর ওদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আমি আবার গেলাম উত্তর মাঠে- তখন চারিধার কি নির্জন । পরদিন সকালে উঠে বারাকপুরে গেলাম। সারা পথে কেমন দক্ষিণা হাওয়া—কি অপূর্ব আমের বউলের গন্ধ ! খুকীও সঙ্গে গেল। সকাল সকাল ফিরে স্বান করলাম। তারপর বৈকালে বেরুতে যাবে, বৃষ্টি এল—একটু বসলাম। আবার যাবে।--রামপদ এল। তাকে একটু জল খাইয়ে দুজনে একসঙ্গে বার হাওয়া গেল। কি অপূর্ব শান্তির মধ্যে দিয়ে এসে পৌঁছলাম। আমি পটপটি তলায় ঘাটের এপারে এসে দাড়ালাম-ওপারের রাঙা-রোদভরা মাঠের দৃপ্তটা কি যে অপরূপ! তারপর মাঠের পথ বেয়ে আমাদের বাড়ির পিছনের পথে আসচি, বেলা পড়ে এসেচে—কি বাশের শুকনো খোসা ও ঝরা বাশপাতার স্বভ্রাণ --কতকাল আগের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয় ষে। রামপদর কাছে বলে একটু ভামাক খেয়ে ও গল্পগুজব করে শুামাচরণদাদার বাড়ি এলাম। সেখানে অপেক্ষ করলাম। জ্যোৎস্না উঠলে চালকী চলে এলাম। ছেলেপিলেরা এল গল্প শুনবে বলে। বন্ধু অনেকক্ষণ ছিল। আজ সকালে উঠে চলে এলুম।