পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাঙ্কুর १९> বাবুর বাড়ি। পাশের বৈঠকখানায় রমাপ্রসাদবাৰু আছেন দেখলাম—ঙ্গীমাপ্রসাদৰiখুও তার লাইব্রেরী ঘরে কি কাজ করছিলেন। সেখানে খানিকটা থাকবার পরে বাসায় ফিরলাম। বৈকাল বেলা। আজ রামনবমী। কতদিনের কথা মনে পড়ে। বৈকালে বসে বসে ভাই ভাবছিলাম—বেল পড়ে এসেচে-কত পাপিয়ার ডাকভর এই সময়ের সেই পুরাতন দুপুরগুলো।...বাশের শুকনো পাতার কথা কেন এত মনে হয়, তা বুঝতে পারি নে। সুভদ্রাকে কাল যখন পত্র লিখলুম—তখনও বাশবনের কথা ও শুকনো পাতার রাশির কথাই মনে এল। পাপিয়ার গানের কথা বিশেষ করে মনে আছে। এই সব দিনের অতীত দুপুরগুলোর সঙ্গে পাপিয়ার গান জড়ানো আছে, আর জড়ানো আছে অদ্ভুত ধরনের wild আনন্দ - বেলা পড়ে এসেচে। গোসাই পাড়ার নারকোলতলায় আজও তেমনি মেলা বসেচে, অতীত দিনের মত। বাদ ময়রা মুড়কি ও কদমা বিক্রী করচে, গোপালনগর থেকে হয়তো যুগল ও হাজরা ময়রা তাদের তেলে-ভাঁজ জিবে-গজা ও জিলিপীর দোকান নিয়ে এসেচে। বাবার সেই শ্লোকটা—অনেক কালের সেই আমবনের ছায়ায় উচ্চারিত শ্লোকটা আজও আমার মনে আছে। পুরনো খাতাখানা আজও আছে, নষ্ট হয় নি। সকালবেলা। নেড়াদের ছাদে বসে লিখচি। গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে এসেচি। বাস্তবিকই গ্রামের লোকের সংকীর্ণগ এত বেশী—মনকে বড় পীড়া দেয়। এদের মন চারিধার থেকে শৃঙ্খলিত—খুলবার অবকাশ নেই। আবালবৃদ্ধ-বণিতার এই দশা দেখচি। এদের আচার শুষ্ক ও সৌন্দর্যবজিত—স্বাস্থানীতির সঙ্গে এদের কোন সম্পর্ক নেই। কাল বিকেলে নদীর ধারে গিয়ে অনেকক্ষণ একলা বসে ছিলাম। বাংলা দেশের, বিশেষ করে আমাদের অঞ্চলের প্রকৃতির এই যে সৌন্দর্য—এ জন্য ধরনের। কিছুদিন আগে আমি উড়িয়ায় গিয়ে সেখানকার বন পাহাড়ের সৌন্দর্যের কথা যা লিখেছিলাম—এথানে বসে মনে মনে বিচার করে দেখে আমি বুঝলাম তার অনেক কথা আমি ভুল লিখেছিলাম। বাংলার সৌন্দর্য more tropical—এখানে অল্প একটু স্বানের মধ্যে যত বিভিন্ন শ্রেণীর গাছপালা ও লতা আছে—ওসব দিকে তা নেই। এখানে বৈচিত্র্য বেশী। নীল আকাশ ওখানেও থোলে —মনে অন্তরকম ভাব আনে, তা মহনীয়, বিরাট—এ কথা ঠিকই। কিন্তু বাংলার আকাশ —বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলের কি গ্রাম্য নদীর উপরকার ষে আকাশ–তার সৌন্দর্য মনে অপূর্ব শিল্পরসের স্বষ্টি করে—মনে বৈচিত্ৰ্য আনে। হয়তো বিরাটত নেই, ঠিকই—কিন্তু Poetry of Life এতে যেন বেশী। বাশগাছে ও শিমূলগাছে এ দেশের, বিশেষ করে আমাদের এই অঞ্চলের, সৌন্দর্যকে এক অভিনব রূপ দিয়েচে । জ্যৈষ্ঠ মাসে এর সঙ্গে গ্রামে জোটে কচি উলুবন ও আউশ ধানের ক্ষেত। এত সবুজের সমাবেশ আর কোথাও দেখি নি— a feast of green—তবে গ্রামের মধ্যে মুক্ত আকাশ বড় একটা দেখা যায় না,—ওই একটা দোষ। বড় চাপা। কিন্তু মাঠে, নদীর ধারে—মুক্তরূপ প্রকৃতি যেমনি লীলামী তেমনি রূপসী । উদার প্রাস্তর, উদার আকাশ-নানাবর্ণের মেঘের মেলা অন্তদিগন্তে, সন্ধ্যার কিছু