পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাঞ্চুর ९२१ উচ্চাবচ ভূমি, ছারাভরা বনান্ত দেশ। আমার পক্ষে তো একেবারে স্বর্গ। ঠিক এই ধরনের স্থানের সন্ধানই আমি মনে মনে করেচি অনেকদিন ধরে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের থেকে এর সৌন্দর্য অনেক বেশী, যদিও চন্দ্রনাথের মত এ পাহাড় অতটা উচু নয়। আম্বারা গ্রামটি আমার বড় ভাল লাগল—চারিধারে একেবারে পাহাড়ে ঘেরা, অনেকগুলি ছোট ছোট দোকান, গোলা ঘর, একটা সরাইও আছে। ইচ্ছে হলে এখানে এসে থাকাও যায় । আমরা খুব তাড়াতাড়ি না তে পারলাম না, যদিও প্রতিমুহূর্তে ভয় হচ্চিল, মোটর ড্রাইভার হয়তো কি মনে করবে। বেচারী সারাদিন কিছু খায় নি। আম্বারা গ্রামটা দেখবার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তার সময় ছিল না, তাড়াতাড়ি মোটর ছেড়ে সেই পাড়ের মধ্য দিয়ে, কাট। পথট ঘুরে রামটেক্ টাউনের মধ্যে ঢুকল। পাহাড়ের ঢালুতে বহু আতাবৃক্ষ অজস্ৰ, এখানে বলে সীতাফল—নাগপুর শহরে যত আতাওয়ালী আত ফিরি করে—তার সব আড়াই ফলে মিউনি ও রামটেক্ পাহাড়ে। রাত বোধ হয় সাতটা কি সাড়ে সাতটা । মন্দিরের ওপরে চবুভারায় বসে দূরে নাগপুরের বৈদ্যুতিক আলোকমালা দেখেছিলাম ঠিক সন্ধ্যায়—তাই নিয়ে প্রমোদবাবুর সঙ্গে তর্ক হল, আমি বললুম—ও কাম্টির আলো—প্রমোদবাবু বললেন—ন, নাগপুরের। কিনী হ্রদের বাংলোতে খাবার খেয়েছিলাম, কিন্তু চা খাই নি। রামটেকের মধ্যে ঢুকে BBS BBB BB BB BBSBSS BBBB BBBBBBS BB BBBBBuSDBBD পাহাড়ের ওপর সাদা মনিরেট জ্যোৎস্নায় বড় চমৎকার দেখাচ্চে—চ খেতে খেতে চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগলাম। আজ কোজাগরী পূর্ণিমা, এতক্ষণ বারাকপুরে আমার গায়ে বাড়িতে বাড়িতে শাখ বাজচে। লক্ষ্মীপুজোর লুচিভাজার গন্ধ বার হচ্চে বাশবনের পথে—এতদূর থেকে সে-সব কথা যেন স্বপ্নের মত লাগে। রামটেকের পথ দিয়ে মোটর ছুটল। কিন্‌লী হ্রদ থেকে মোটরে আসবার সময়ে যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম, তেমনি আননা পেলাম। সামনে ডখন ছিল আঁক-বাক, উচুনীচু পার্বত্য প্রদেশের কঙ্করময় পথ, ডাইনে ছায়াবুত অরণ্যেভর শৈলমালা—এখন ঠিক তেমনি পথ দিয়ে মোটর তীরের বেগে ছুটে চলেচে—প্রমোদবাৰু বললেন, a glorious drive. রামটেক্‌ স্টেশনে নাগপুরের ট্রেনখানা দাড়িরে রয়েছে, সুতরাং বোঝা গেল এখনও সাড়ে আটটা বাজে নি। একটু গিয়ে প্রমোদবাবু মাইল স্টোনে পড়লেন—নাগপুর ২৮ মাইল, মাল্লার ২ মাইল। দেখতে দেখতে ডাইনে মানুসারের বিরাট ম্যাঙ্গানিজের পাহাড় পড়ল— জ্যোৎস্নার আলোতে সুউচ্চ অনাবৃত্তকায় পাহাড়গুলো যেমনি নির্জন, তেমনি বিশাল ও বিরাট মনে হচ্ছিল। মনে ভাবছিলাম ওই নির্জন শৈলশিখরে, এই ঘন বনের মধ্যের পথ দ্বিরে ফুটফুটে জ্যোৎস্নায় তাঁবু খাটিয়ে যারা রাত্রিযাপন করে এক এক তাদের জীবনের অপূর্ব অনুভূতির কথা। আরও ভাবছিলাম এই জ্যোৎস্নায় বহুদূরের বাংলাদেশের এক ছোট নদীর ধারের গ্রামের একটা দোতলা বাড়ির কথা । ভাবলাম, অনেকদিন হয়ে গেছে বটে, কিন্তু সে এখন আরও কাছে কাছে থাকে--যখন খুশি সেখানে খেতে পারে—হয়তো আজ এই