পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃণাকুর Հ86 space ও নীহারিকাদের কথা—এই বনফুল ও পাখীদের কথা। কতক্ষণ সেখানে চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম—এই নক্ষত্রটার সঙ্গে যেন আমার কোম্ অদৃপ্ত যোগসূত্র রয়েচে–বসে বসে এই শীতের সন্ধ্যায় এই ইছামতীতে কত কি ঘটেছিল পুরোনো দিনে, সে কথা মনে এলো । গৌরীর কথা মনে এলে—তারপর অন্ধকার খুব ঘন হয়ে এলো। আমি ধীরে ধীরে উঠে বাশবনের পথ দিয়ে বাড়ি চলে এলাম। আজি দুপুরে কুঠার মাঠে বেড়াতে গিয়ে আমার সেই পুরোনো জায়গায় বসলাম—সেই সেখান থেকে কুঠীর দেবদারু গাছটা দেখা যায়—কি অপরূপ শোভা যে হয়েচে সেখানে ফুটন্ত ধুরন্থলের, তা না দেখলে শুধু লিখে বোঝানো যাবে না। এই যে আমি লিখচি, আমারই মনে থাকবে না অনেকদিন পরে,—ওই ছবিটা অস্পষ্ট হয়ে যাবে মনের মধ্যে। এরকম হয় আমি জানি—তবুও আজই দেখেচি, তাই নবীন অনুভূতির ম্পধার জোর করে বলছি বনফুলের শোভার এ প্রাচুর্য আমি দেখিনি। বিহারে নেই, সিংস্কৃমে নেই, নাগপুরে নেই—এই বাংলা দেশের sub-tropical বন জঙ্গল ছাড়া গাছপালার এই ভঙ্গি ও ফুলের এই প্রাচুর্য কোথাও সম্ভব নয়। কেন যে লোকে ছুটে যায় বম্বে, দিল্লী, কাশী, দেওঘর তা বলা কঠিন। বাংলাদেশের এই নিভৃত পল্লী-প্রাস্তের সৌন্দর্য তারা কখনো cशएशंनि-ठहे । আজ বিকেলে টুনি, কাতু, জগা, বুধে এদের সঙ্গে কুঠীর মাঠে বেড়াতে গিয়ে বনঝোপের ধারে টুলটা পেতে বসলাম। রোদ ক্রমে রাঙা হয়ে গেল—একটা ফুল-ফোট ঝোপের ধারে কতক্ষণ বসে রইলাম। তারপর একটা নরম কচি ঘাসে-ভরা জলার ধীরে মুক্ত সান্ধ্য হাওয়ায় ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ছুটোছুটি খেলা করলুম কতক্ষণ—আমি এই সবই ভালবাসি, সাধে কি কলকাতা বিষ লাগে । এই শীতকালের সন্ধ্যায় এতক্ষণ ধোয়ার সারা কলকাতা শহর ভরে গিয়েচে—আর এখানে কত ডাহুক, জলপিপি, দোয়েল, শালিকের আনন্দ কাকলি, কত ফুটন্ত বনফুলের মেলা, কি নির্মল শীতের সন্ধ্যার বাতাস, কি রঙীন অস্তদিগন্তের রূপ, শিরীষ গাছে কাচা মুটি ঝুলচে, ভিত্তিরাজ গাছে কাচ ফলের থোলো দুলচে, জলার ধারে ধারে নীল কলমী ফুল ফুটেচে। মটর শাক, কচি খেসারি শাকের খামল সৌন্দর্য —এই আকাশ, এই মাঠ, এই সন্ধ্যায়-ওঠা প্রথম তারাটি—জীবনে এর আমার প্রিয়, এদেরই ভালবাসি, এরাই আবাল্য আমার অতি পরিচিত সাধী—এদের হারিয়ে ফেলেই তো যত কষ্ট পাই ! বিকেলে আজ বেলেডাঙার মরগাড়ের আগাড়ে একটা নিরিবিলি জায়গায় এক বোঝা পাকাটির ওপর গিয়ে বসে ওবেলার সেই কথাটা চিস্তা করছিলাম—ভগবান তার পূজো না পেলে প্রতিহিংসা-পরায়ণ হয়ে ওঠেন না—ওঁর পূজোর সঙ্গে ভয়ের কোন সম্পর্ক নেই— তাৰে পূজে, সে শুধু গ্রেমের ও ভক্তির, এই পাড়াগারে এদের সেকথা বোঝানো শক্ত। পূজোর ঘরে বসে আজ ওবেলা যখন শালগ্রাম পূজো করছিলাম, তখনই আমার মনে ছোল,