পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨8br বিভূতি-রচনাবলী ভারি স্বন্দর, কিন্তু ঠিক বুঝতে পারা গেল না ও কোন লতার কথা বলচে—জার চারিদিকে অজস্রসপ্তারে ঢেলে দেওয়া ছোট এড়াঞ্চির ফুল। বনে, ঝোপে, বাবলাগাছের মাখায়, কুলগাছের ডালে, বেড়ার গায়, ডাঙাতে যে দিকেই চাই সেই দিকে ওই সাদা ফুলের রাশি। আমি বাংলায়ও বনের এমন রূপ আর কখনো দেখিনি। যদি জ্যোৎস্না রাত্রে এই রূপ দেখতে পেতাম | এ ক'দিন ছিলাম কলকাতায় ওরিয়েন্টাল সোসাইটির প্রদর্শনীতে এবার নন্দলাল বম্বর স্থখানি বড় সুন্দর ছবি দেখে অত্যন্ত আনন্দ পেয়েছি। খুকু ও জাহ্নবীর মেয়ে খুকী সঙ্গে ছিল—তারাও দেখেছে, তবে নন্দবাবুর ছবির তারা কি বুঝবে ? ওদের দেখালুম বায়োস্কোপ, জু, সার্কাস-আর এখানে ওখানে নিয়ে বেড়ালুম। একদিন সজনীদাসের বাড়ি, একদিন নীরদের বাড়ি, একদিন নীরদ দাসগুপ্তের ওখানে। দুঃখ হোল যে এখানে এসময়ে স্বপ্রভা নেই। কাল নৌকায় বনগা থেকে এলাম। কি অদ্ভুত রূপ দেখলাম সন্ধ্যায় নদীর। শীতও খুব, অন্ধকার হয়ে গেল। কলকাতার হৈচৈ-এর পরে এই শাস্ত সন্ধ্যা, ফুল-ফোটা বন, মাঠ, কালে নিশ্বর নদীজল মনের সমস্ত সংকীর্ণ অবসাদ দূর করে দিয়েছে। চালতেপোতার বাকে বনের মাথায় প্রথম একটি তারা উঠেছে—কত দূর দেশের সংবাদ আলোর পাথায় বহন করে অনিচে আমাদের এই ক্ষুদ্র, গ্রাম্য নদীর চরে—আমার মনের নিভৃত কোণে । ঘাটে যখন নামলুম, তখন খুব অন্ধকার হয়ে গিয়েচে। খুকু ও আমি জিনিসপত্র নিয়ে বাশবনের অন্ধকারে ভয়ে ভয়ে বাড়ি এলুম, খুকু তো একবার ভয়ে চীৎকার করে উঠল কি দেখে। ভয়ের কারণ এই যে, এসময়ে আমাদের দেশে বাঘের ভর হয়। দুপুরে কুঠীর মাঠে বেড়াতে গিয়ে কুঠার এদিকে বনের মধ্যে সেই যে ঢিবিটা আছে, সেখানে খানিকটা বসলুম—তারই পরে একটা নাবাল জমি, আর ওপারে সেই বটগাছটা। আকাশ কি অদ্ভুত নীল। ছোট এড়াঞ্চির ফুল এখনও ঠিক সেই রকমই আছে—কদিন আগে যা দেখে গিয়েচি, সে সৌন্দর্য এখনও স্নান হয় নি। প্রায় পনেরো দিন ধরে এর সৌন্দর্য সমান ভাবে রয়েচে, এতটুকু ক্ষুন্ন হয় নি এ বড় আশ্চর্যের কথা। এমন কোনো বনের ফুলের কথা আমার জানা নেই, যা ফুটন্ত অবস্থায় এতদিন থাকে। বালজাকের গল্পটা (Atheists Mass) তখনই পড়ে সবে বেড়াতে গিয়েচি, আকাশ যেন আরও নীল দেখাচ্ছিল, বনফুল-ফোট ঝোপ আরও অপরূপ দেখাচ্ছিল। নাইতে গিয়ে বঁাশতলার ঘাট পর্যন্ত সাতার দিয়ে এলাম। e বিকেলে ক্যাম্প-টুলটা নিয়ে গিয়ে কুঠার সেই চিবিটাতেই অনেকক্ষণ বসে রইলুম— রোদ রাঙা হয়ে গেল, ওপারের। শিমুলগাছটার মাথার ওপর উঠে গেল, তখনও আমি চুপ করে বলেই আছি। (কি ভয়ানক শীত পড়েচে এবার, এই যে লিখচি আঙুল যেন অবশ ছয়ে আসচে। ) আমার সামনে পেছনে ফুল-ফোটা সেই ৰোপ বন, পাশেই নদী। একবার