পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬২ বিভূতি-রচনাবলী একটা আধুলী বাধা ছিল, আজকার দিনে জিনিসটা-জালটা কিনিবার জন্তে সে ইহা বাড়ি হইতে শাশুড়ীকে লুকাইয়া আনিয়াছিল। বাড়ির বার হওয়া তো বড় ঘটে না, কাজেই এটা তাহার পক্ষে একটা উৎসবের দিন। আধুলীটি শ্বাশুড়ীকে লুকাইয়া আনিবার কারণ— মোক্ষদা ঠাকরুণ জানিতে পারিলে ইহা এতক্ষণ তাহার আঁচলে থাকিত না । সুশীলা আঁচল হইতে আধুলীটি খুলিয়া বুড়ীকে দিল এবং খাওয়াইবার প্রণালী জানিয়া লইয়া শিকড়টি কাপড়ের মধ্যে গোপনে বাধিয়া লইল । পূজা দেওয়া সাঙ্গ হইয়া গেল। সকলে আবার আসিয়া নৌকায় উঠিল। গ্রামের ঘাটের কাছাকাছি আসিলে মুশীলা বলিল—ভাই, তুমি এখন দিনকতক আছ তো ? —না ভাই, আমি কাল কি পরশু চলে যাব। তা হলেও তোমার ভুলবো না মৌরীফুল, ৩োমার মুখখানি আমার মনে থাকবে ভাই—চিঠি-পত্র দেবে তো ? এবার পাড়াগায়ে এসে তোমায় কুড়িয়ে পেলাম—তোমায় কখনো ভুলবো না। সুশীলার চোখে জল আসিল, এত মিষ্ট কথা তাহাকে কে বলে ? সে কেবল শুনিয়া আসিতেছে সে দুষ্ট, একওঁয়ে ঝগড়াটে। তাহার হাতে একটি সোনার আংটি ছিল, ইহা তাহার মায়ের দেওয়া আংটি, বিবাহের পর প্রথম তাহার মা তাহার হাতে এটি পরাইয়া দিয়াছিলেন। সেটি হাত হইতে খুলিয়া সে সদিনীর হাত ধরিয়া বলিল—দেখি ভাই তোমার আঙ্গুল, তুমি হ’লে মৌরীফুল, তোমায় খাওয়াবার কথা, কাপড় দেওয়ার কথা—এই আংটিটা আমার মায়ের দেওয়া, তোমায় দিলাম, তবু এটা দেখে তুমি গরীব মৌরীফুলকে ভুলে যাবে না। সুশীলা আংটিটা সঙ্গিনীর হাতে পরাইয়া দিতে গেল,—বউটি চট করিয়া হাত টানিয়া লইয়া বলিল—দুর পাগল! না ভাই এ রাখে—তোমার মায়ের দেওয়া আংটি—এ কেন আমায় দিতে যাবে ? না ভাই.. সুশীলা জোর করিতে গেল—হোক ভাই, দেখি-মায়ের দেওয়া বলেই. বউটি বলিল—দুর! না ভাই ও-সব রাখে—সে বরং . স্বশীলা খুব হতাশ হইল। মুখটি তাহার অন্ধকার হইয়া গেল—সে চুপ করিয়া বসিয়া রছিল। গ্রামের ঘাটে নৌকা লাগিল। বউটি মুশীলার হাত ধরিয়া বলিল—পায়ে পড়ি ভাই মেীফুল, রাগ কোরো না। আচ্ছ, কেন তুমি শুধু শুধু তোমার মায়ের দেওয়া আংটি আমার দিতে যাবে ভাই ? আচ্ছ, তুমিই যদি দিতে চাও এই পূজোর সময় আসবেী—অন্ত কিছু বরং দিও—একদিন না হয় খাইয়ো—আংটি কেন দেবে ভাই —আর আমায় ভুলবে না তো ভাই ? স্বশীল বাগ্রভাবে বলিল—তোমার ভুলবে না ভাই মৌরীফুল । কখখোনে ন-তুমি কোন জন্মে যে আমার মায়েব পেটের বোন ছিলে ভাই মৌরীফুল . তাহার পরে সে একটু আনাড়ি ধরনে হাসিয়া উঠিল—হিঃ হিঃ হিঃ ! কেমন মুনীর কথাট—মেীফুল—মেীফুল—মৌরীফুল—তুমি যে হ’লে গিয়ে আমার নদীর ধারের মৌরীফুল—তোমায় কি ভুলতে পারি ?...