পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম পরিচ্ছেদ দুপুর প্রায় গড়াইয়া গিয়াছে। রায়চৌধুরীদের বাড়ির বড় ফটকে রবিবাসরীয় ভিখারীদের ভিড় এখনও ভাঙে নাই। বীরু মুহুরীর উপর ভিখারীর চাউল দিবার ভার আছে, কিন্তু ভিখারীদের মধ্যে পর্যন্ত অনেকে সন্দেহ করে যে, জমাদার শম্ভুনাথ সিংহের সঙ্গে যোগসাজসের ফলে তাহারা স্বাধ্য প্রাপ্য হইতে প্রতিবারই বঞ্চিত হইতেছে । ইহা লইয়া তাহদের ঝগড় দ্বন্ধ কোনকালেই মেটে নাই। শেষ পর্যন্ত দারোয়ানেরা রাগিয়া ওঠে, রামনিহোঁরা সিং দু চারজনকে গলাধাক্কা দিতে যায়। তখন হয় বুড়ো খাজাঞ্চি মহাশয়, নয়তো গিরীশ গোমস্ত। আসিয়া ব্যাপারটা মিটাইয়া দেয়। প্রায় কোন রবিবারই ভিখারী-বিদায় ব্যাপারটা বিনা গোলমালে নিম্পন্ন হয় না। রান্না-বাড়িতে কি একটা লইয়া এতক্ষণ রাধুনীদের মধ্যে বচসা চলিতেছিল। রাধুনী বাম্নী মোক্ষর থালায় নিজের ভাত সাজাইয়া লইয়া রণে ভঙ্গ দিয়া সরিয়া পড়াতে সেখানকার গোলমালও একটুও কমিল। রাধুনীদের মধ্যে সর্বজয়ার বয়স অপেক্ষাকৃত কম—বড়লোকের বাড়ি—শহর-বাজার জায়গা, পাড়ীগেয়ে মেয়ে বলিয়া ইহাদের এসব কথাবার্তায় সে বড় একটা থাকে না। তবুও মোক্ষদা বাম্নী তাঁহাকে মধ্যস্থ মানিয়। সন্ধু-ঝিয়ের কি অবিচারের কথা সবিস্তারে বর্ণনা করিতেছিল। যখন যে দলে থাকে, তখন সে দলের মন যোগাইয়া কথা বলাটা সর্বজয়ার একটা অভ্যাস, এজন্য তাহার উপর কাহারও রাগ নাই । মোক্ষদা সরিয়া পড়ার পর সর্বজয়াও নিজের ভাত বাড়িয়া লইয়া তাহার থাকিবার ছোট ঘরটাতে ফিরিল। এ বাড়িতে প্রথম আসিয়া বছর-দুই ঠাকুরদালানের পাশের যে ঘরটাতে সে থাকিত, এ ঘরটা সেটা নয় ; তাহারই সাম্নাসাম্নি পশ্চিমের বারান্দার কোণের ঘরটাতে সে এখন থাকে— সেই রকমই অন্ধকার, সেই ধরণেরই স্যাতসেতে মেজে, তবে সে ঘরটার মত ইহার পাশে আস্তাবল নাই, এই একটু সুবিধার কথা। সর্বজরা তখনও ভাল করিয়া ভাতের থালা ঘরের মেজেতে নামায় নাই, এমন সময় সৰ্ছ-ঝি অগ্নিমূর্তি হইয়া ঘরের মধ্যে ঢুকিল। —বলি, মুখি বাম্নী কী পবৃচের দিচ্ছিল তোমার কাছে শুনি ? বদমায়েশ মাগী কোথাকার, আমার নামে যখন-তখন যার-তার কাছে লাগিয়ে করবে কি জিগ্যেস করি ? ব’লে দেয় যেন বড় বৌরানীর কাছে—যায় যেন বলতে—তুমিও দেখে নিও বলে দিচ্ছি বাছ, আমি যদি গিরিমার কাছে বলে ওকে এ বাড়ি থেকে না তাড়াই তবে আমি রামনিধি ভড়ের মেয়ে নই—নই—নই—এই তোমায় বলে দিলুম। সর্বজয়া হাসিমুখে বলিল, না সদু-মাসী, সে বললেই অমনি আমি শুনবো কেন ? তা ছাড়া ওর স্বভাব তো জানে—ওই রকম, ওর মনে কোন রাগ নেই, মুখে হাউ-হাউ ক’রে বকে—এমন তো কিছু বলেও নি—লার তা ছাড়া আঁমি আজ ছ'মাস দশ মাস তো নয়,