পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


९१० বিভূতি-রচনাবলী তো একেবারে বরক...কবে তিনি শিয়বাড়ি গিয়েছিলেন, বৈশাখ মাসের দিন তারা তাকে বড় সাদা কাসার ঘটি করে নতুন কলসীর জল খেতে দিয়েছিল, সে জল একেবারে হিম,খাবার সময় দাত কনকন করে। আচ্ছা, এখন যদি সেই রকম এক ঘটি জল কেউ তাকে দেয় ?. তীর তৃষ্ণাটা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বুকের কলজে পর্যন্ত যেন শুকিয়ে উঠলো। এ মাঠটাকে এ অঞ্চলে বলে কচু চুধির মাঠ। তার মনে পড়লো তিনি শুনেছিলেন, এ জেলার মধ্যে এত বড় মাঠ আর নেই; আগে আগে অনেকে নাকি বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের দুপুরে এ মাঠ পার হতে গিয়ে সত্যি সত্যি প্রাণ হারিয়েছে, গরম বালির ওপর তাদের নিজীর দেহ লটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। অসহ জল-তৃষ্ণায় তারা আর চলতে অক্ষম হয়ে গরম বালির ওপর ছটফট করে প্রাণ হারিয়েছে। সত্যিই তো ...এখনও তো দু'ক্রোশ দূরে গ্রাম .যদি তিনিও ? শুধু মনের জোরে তিনি পথ চলতে লাগলেন। এই পথ-ইটার শেষে কোথায় যেন এক ঘটি ঠাণ্ড কনকনে হিমজল তার জন্তে কে রেখে দিয়েছে, পথ-হাটার বাজী জিতলে সেই জলঘাটটাই যেন তার পুরস্কার, এই ভেবেই তিনি কলের পুতুলের মত চলছিলেন। আধক্রোশটাক পথ চলে উলুখড়ের বনটা ডাইনে ফেলেই দেখলেন, বোধহয় আর আধ ক্রোশ পথ দূরে একটা বড় বটগাছ। গাছটার তলায় কোন পুকুর হয়তে থাকতে পারে, না থাকে, ছায়াও তো আছে ? বটতলায় পৌঁছে দেখলেন একটা জলসত্ৰ ! চার-পাঁচটা নূতন জালায় জল, এক পাশে একরাশি কচি ডাব । এক ধামা ভিজে ছোলা, একটা বড় জায়গায় অনেকটা নতুন আখের গুড়, একটা ছোট ধামায় আধ ধামা বাতাসা ! বাশের চেরা একটা খোল কাতার দড়ি দিয়ে আর একটা বাশের খুঁটির গায়ে বাধা। একজন জালা থেকে জল উঠিয়ে চেরা বাশের খোলে ঢেলে দিচ্ছে। আর লোকে বাশের খোলের এ-মুখে অঞ্জলি পেতে জল পান করছে। গাছতলায় যারা বসেছিল, ব্রাহ্মণ দেখে শিরোমণি-মহাশয়কে তারা খুব খাতির করলে । একজন জিজ্ঞাসা করলে—ঠাকুর মশায়ের আগমন হচ্ছে কোথা থেকে ? একজন বলল—আহা, সে কথা রাথো, বাবা-ঠাকুর আগে ঠাও হোন। শিরোমণি মশায় যেখানে বসলেন, সেখানে প্রকাও বটগাছটা প্রায় দু'তিন বিঘা জমি জুড়ে আছে। হাতীর তীড়ের মত লম্বা লম্বা ঝুরি চারিদিকে নেমেছে।...একজন তাকে তামাক সেজে দিয়ে একটা বটপাতা ভেঙ্গে নিয়ে এল নল করবার জন্যে।...আঃ, কি কিরঝিরে হাওয়া। এই অসহ পিপাসা ও গরমের পর এমন ঠাও বিরবিরে বাতাস ও তৈরী-তামাকে তার তৃষ্ণাও যেন অনেকটা কমে’ গেল। তামাক খাওয়া শেষ হোল। একজন বললে—ঠাকুরমশায়, হাত-পা ধুয়ে ঠাও। হোন। ভাল সম্বেশ আছে ব্রাহ্মণদের জন্তে আনা, সেবা করে একটু জল খান, এই রোদে এখন আর ৰাৰেন ন-বেলা পড়ক। তারপর শিরোমণি-মশায় জিজ্ঞাসা করলেন—এ জলসজ কাদের ? --মাজে ঐ আমডোবের বিশ্বেসদের। জীমন্ত ৰিখেল আরনিতাই বিশ্বেস নাম শুনেছেন ?