পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৌরীফুল ২৭৩ মধ্যাহ্নে কত পিপাসাতুর পল্লী-পথিককে জল যোগাচ্ছে!..-চারি ধারে যখন সন্ধ্যা নামে.তপ্ত মাঠ পথ যখন ছায়া-শীতল হয়ে আসে...তখনই কেবল সমস্ত দিনের পরিশ্রমের পর সে মেয়েটি অন্মুট জ্যোৎস্নায় শুভ্ৰ-আঁচল উড়িয়ে কোন অজ্ঞাত উধ্বলোকে তার নিজের স্থানটিতে ফিরে চলে যায়।.তার পৃথিবীর বালিক-জীবনের ইতিহাস সে ভোলে নি ।••• বে লোকটা জল দিচ্ছিল, তার নাম চিনিবাস, জাতে সদ্‌গোপ। শিরোমণি মশার তাকে বললেন—ওহে বাপু, তোমার ঐ বড় ঘটিট বেশ করে মেজে এক ঘটি জল আমার দাও, আর ইয়ে—ব্রাহ্মণের জন্ত আন সন্দেশ আছে বললে না ? রোমান্স সমীরই প্রথমে কথাটা তুললে । তার মত এই যে রোমান্স প্রেম ও-সব নভেলিয়ানা কেবল নভেলেই ঘটে, বাস্তব জীবনে ওদের অস্তিত্ব নেই। তাতে সুধীরও যোগ দিল বলে’ মনে হোল। ক্রমে ক্রমে বাকী সবাই সমীরের মতেই মত দিল । তারপর ক্লাবের বেয়ার চা দিয়ে গেল। চা খেতে খেতে আমাদের গল্পের ধারা শীঘ্রই এসে টেনিসে পৌছলো অন্ত সব দিনের মতো । ঘরের কোণে ব্রিজ-টেবিলের আড়ালে রমেনবাবু এতক্ষণ আলোয়ান মুড়ি দিয়ে আরামকেদারার টান হয়ে শুয়েছিলেন। এতক্ষণ পর্যন্ত কোনো তর্কেই তিনি যোগ দেননি, বিশেষ কোনো কথাও বলেননি। চায়ের এক চুমুক খেয়েই একটু তাজা হয়ে নিয়ে বললেন—স্তাখে, তোমরা এতক্ষণ বকে’ যাচ্ছিলে আমি শুনছিলাম, কথা কইনি বটে কিন্তু যখন কথাটা উঠেছে তখন বলি শোনো। রোমান্স আছে এবং খুবই আছে। জীবনটাই তো একটা প্রকাও রোমান্স হে—সে-চোখে দেখে ক'জন—দেখবার চোখই বা আছে ক'জনের ? আচ্ছা, চা-ট জুড়িয়ে যাচ্ছে, এস খেয়ে নেওয়া যাকৃ—শোন তারপর বলি. রমেনবাবু আমাদের ক্লাবের নতুন মেম্বর, মাস চারেক হোল যোগ দিয়েছেন। তাকে একটু অদ্ভুত ধরনের লোক বলে আমাদের সকলেরই মনে হয়েছে। ব্রিজ, টেনিস, বিলিয়ার্ড, দাবা কোনো খেলাতেই কোনো দিন তিনি যোগ দেন নি। খুব বেশি মেশামেশি বা গল্পও কখনো তাকে করতে দেখা যায় না। আপন মনে এসে বসেন, কাগজপত্র পড়েন, সন্ধ্যার আগেই উঠে চলে যান। কিন্তু লোকটির মধ্যে এমন একটা জিনিস আছে যাতে ক্লাবের সকলে প্তাকে খুব পছনা করে। তিনি না এলে, কেন তিনি এলেন না সে সম্বন্ধে আলোচনা হয় এবং আর একটা জিনিস, যা আদৌ ক্ষুদ্র ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক নয়, সেটা এই যে তিনি উঠে চলে গেলে তার পেছনে তার সম্বন্ধে মন্দ কথা কেউ কোনো দিন বলতে না। ইতিমধ্যে চা খাওয়া শেষ হয়ে গেছলো। রমেনবাবু চাপান শেষ করে রুমালে মুখ মুছে গল্প শুরু করলেন— दि. ब्र २-->४