পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 বিভূতি-রচনাবলী তোমায় দেখচি আজ তিন বছর—বললেই কি আর আমি শুনি ? তিন বছর এ বাড়িতে ঢুকিচি, কৈ তোমার নামে— সন্ধু-ঝি একটু নরম হইয়া বলিল, অপু কোথায়, দেখচি নে—আজ তে রবিবার-ইস্কুল তো আজি বন্দ– সর্বজরা প্রতিদিন রান্নাঘরের কাজ সারিয়া আসিয়া তবে স্নান করে, তেলের বাটিতে বোতল হইতে নারিকেল তৈল ঢালিতে ঢালিতে বলিল, কোথায় বেরিয়েচে । ওই শেঠেদের বাড়ির পাশে কোন এক বন্ধুর বাড়ি, সেখানে ছুটির দিন যায় বেড়াতে। তাই বুঝি বেরিয়েচে। ছেলে তো নয়, একটা পাগল-দুপুর রোদুর রোজ মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া চাই তার । দাড়িয়ে কেন, বোসো না মালী ! সন্ধু বলিল, না, তুমি খাও, আর বসবো না—ভাবলুম, যাই কথাটা গিয়ে শুনে আসি, তাই এলুম। বোলো ওবেলা মুথি বাম্নীকে, একটু বুঝিয়ে দিও–খোকাবাবুর ভাতে সেই দইয়ের হাড়ি বৈ-করা মনে নেই বুঝি ? সন্ধুর পেটে অনেক কথা আছে, বুঝলে ? দেখতেই ভালমানুষটি, বোলো বুঝিয়ে— সজ-বি চলিয়া গেলে সর্বজয়া তেল মাখিতে বসিল। একটু পরে দোরের কাছে পায়ের শৰে মুখ তুলিয়া চাহিয়া দেখিয়া বলিল, ও, রোদুরে ঘুরে তোর মুখ যে একেবারে রাঙা হয়ে গিয়েচে । বোস বোস্—আয়—ওমা আমার কি হবে! অপু ঘরের ভিতর ঢুকিয়া একেবারে সোজা বিছানায় গিয়া একটা বালিশ টানিয়া শুইয়া পড়িল। হাত-পাথাখানা সজোরে নাড়িয়া মিনিটখানেক বাতাস খাইয়া লইয়া মায়ের দিকে চাহিয়া বলিল, এখনও নাও নি ? বেলা তো দুটে— সর্বজয়া বলিল, ভাত খাবি দুটো ? অপু ঘাড় নাড়িরা বলিল, না— —থা না দুটোখানি ? ভাল ছানার ডালনা আছে, সকালে শুধু তো ডাল আর বেগুনভাজা দিয়ে খেয়ে গিইচিস্। ক্ষিদে পেয়েচে আবার এতক্ষণ— অপু বলিল, দেখি কেমন ? পরে সে বিছানা হইতে উঠিয়া আসিয়া মেজেতে ভাতের থালার ঢাকনি উঠাইতে গেল। সর্বজয়া বলিল, ছুস নে, ছুস নে—খাক এখন, নেয়ে এসে দেখাচ্চি। অপু হাসিয়া বলিল, ছুস নে ছুস নে কেন ? কেন ? আমি বুঝি মুচি ? ব্রাহ্মণকে বুঝি অমনি বলতে আছে ? পাপ হয় না ? —যা হয় হবে। ভারি আমার বামুন, সন্ধ্যে নেই, আহ্নিক নেই, বাচবিচের জ্ঞান নেই, এটো জ্ঞান নেই–ভারি আমার— খানিকটা পরে সর্বজয় স্বান সারিয়া আসিয়া ছেলেকে বলিল, আমার পাতে বসি এখন। অপু মুখে হাসি টিপির বলিল, আমি কারুর পাতে বস্চিনে, ব্রাহ্মণের খেতে নেই কারুর এটো। *