পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२१७ ।। বিভূতি-রচনাবলী বীণা হেসে গড়িয়ে পড়ে আর কি। বললে—বা রে, বেশ লোক তো আপনি। দিদি তো এ্যালাউ হয়ে বাড়ি বসে পড়ছে—ও বুঝি আমার সঙ্গে রোজ রোজ স্কুলের গাড়িতে পড়তে झां८द् ? কথাটা বীণা ঠিকই বলেছে, তার হাসিটা নিতান্ত অসঙ্গত নয় বটে। সেদিন বিকালে স্কুলের গাড়িটা যখন এসে লাগলো তখন আমি রোয়াকে পায়চারি করছিলাম। বীণাকে নামতে দেখলাম না কিন্তু আর একটি মেয়ে নামলে । বয়স পনরোষোল হবে, অপূর্ব মুন্দরী, লাল পাড় সিস্কের জ্যাকেটের বাইরে নিটোল শুভ্র বাস্থদুটি যেন হাতীর দাতে কুঁদে তৈরী। একবার আমার দিকে চোখ ফিরিয়ে চেয়ে দেখে শাস্তগতিতে বাড়ির মধ্যে ঢুকলো । সন্ধ্যার একটু আগে বীণা এসে বললে—চ এখন আনবো, না বেড়িয়ে এসে থাবেন ? . পরে একটু থেমে বললে—দিদিকে আজ দেখেছেন না ? আমি তখনও ঠিক করতে পারিনি যে স্কুলের গাড়ির সেই মেয়েটিই বীণার দিদি। পূর্বেই বলেছি বীণা ভারী বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে আমার মুখ দেখেই ব্যাপার বুঝে নিয়ে বললে—আজ বিকালে স্কুলের গাড়ি থেকে যে নামলো তখন ঐ তো দিদি—আমি তো আজ স্কুলে যাইনি। দিদি রিসিট আনতে স্কুলে গেছলো যে, ও-বেলা... পরে সে বললে—দিদিই আমাকে জিজ্ঞেস করছিল, বাইরের ঘরে ও-ভদ্রলোকটি কে রে ? মনে মনে অভিমানে বড় ঘা লাগলো। বড়-মামুষের মেয়ে বটে, মুন্দরীও বটে, কিন্তু আজ ছ'সাতদিন যে আমি তার বাপের বৈঠকখানার একখানা চেয়ার টেবিলের মতো বাইরের ঘরের এক কোণে পড়ে আছি, এতদিনের মধ্যে এ হতভাগ্যের সম্বন্ধে সে সংবাদটুকুও কি র্তার কর্ণগোচর হয়নি ? দিন দুই কেটে গেল। এ কয়দিনে আমি নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যথেষ্ট ঘোরাঘুরি করলাম তাতে ঠিক সময়ে স্নানাহার হয়ে উঠতো না কোনো দিনও । সুতরাং বীণার সঙ্গে দেখা হবার সময় হোত না। তৃতীয় দিন সকালে বার হয়ে সন্ধ্যার কিছু আগে ফিরে এলাম। বারানাটাতে বসে একটু বিশ্রাম করছি, অপ্রত্যাশিতভাবে বীণা ঘরে ঢুকে হাসিমুখে বললে— ঠাকুর দু’বার, তারপর আমি দু'বার আপনাকে ডাকতে এসে ফিরে গিয়েছি—আপনার থিদেতেষ্ট কিছুই পায় না, কোথায় ছিলেন সারা দিনটা ? আমি কৈফিয়ত দেবার আগেই সে আবার বলে উঠলো—মুখ হাত ধুয়ে ফেলুন, আপনার চা নিয়ে আসি—বাবা এখনও কাছারি থেকে ফেরেননি, গরম জল চড়ানই আছে... অল্প পরেই সে চা নিয়ে এসে অভ্যস্ত ভাবে সামনের চেয়ারের হাতলটার ওপর বলে অনর্গল বকে যেতে লাগলে—সব কথার উত্তর ‘পাবারও প্রত্যাশা সে রাখে না। আপন আপনিই বেশ বলে যেতে পারে। বললে—ভারী মজা হয়েছে, আমি আপনার একটা লেখা দিদিকে দেখিয়ে বললুম-পড়ে দেখো তো। দিদি পড়তে গিয়ে বুঝতে পারে নী—ীড়ান