পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՀԵօ বিভূতি-রচনাবলী সকালে দু’জনে একসঙ্গে ঝের বারান্দাতে খেতে বসেছি, হঠাৎ উকীলবাবু প্রতিমার ওপর রেগে উঠলেন। তাজকের রান্নাবান্নার ভার তারই ওপর বুঝি উকীলবাবু দিয়েছিলেন। সে একটু বেলায় আরম্ভ করিয়েছে ঠাকুরকে দিয়ে, এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে—বিশেষ করে আমি সেখানে একজন-বাইরের লোক—আমার সামনে মেয়েকে এমন রূঢ় ও অপ্রীতিকর কথাবার্তা বললেন, যাতে করে আমি অভ্যস্ত সঙ্কোচ বোধ করলাম। আমার দিকে চেয়ে চেয়ে তিনি বলতে লাগলেন—দেখলেন রমেনবাবু, আজকালকার মেয়েদের–আমি ওকে কাল রাত থেকে বলছি, সকালে আমরা যাবে সব যেন ঠিক থাকে—দেখছেন তো একবার কাওখান ? বুলি এটা কি ঝোল না কি ছাই এটা ? এর নাম ঝোল ? না, আমি সত্যি বলছি রমেনবাৰু আমি আজকালকার ও-সব বিবি সাজা পছন্দ করিনে একেবারেই। খুব হয়েছে পড়াশুনোর আর দরকার নেই, যথেষ্ট হয়েছে... আমার সামনে এ-সব কথা হওয়াতে হয়তো নেপথ্যপথবর্তিনী প্রতিমা লজ্জায় অপমানে ভেঙে পড়তে চাইছিল। কেন না আমি সম্পূর্ণ বাইরের লোক। তিরস্কারের পর সে আর আমাদের সামনে পরিবেশন করতে বেকুলো না। অত্যস্ত ভারী মন নিয়ে নিজের ঘরটিতে ফিরে এলাম। একটু পরেই বীণা চায়ের কাপে এক কাপ দুধ নিয়ে এসে বললে—দুধ-মিছরি খেয়ে निन्- 鞍 —দুধ-মিছরি, কেন বলে দেখি ? —আমাদের বাড়িতে নিয়ম আছে, বাড়ি ছেড়ে কেউ কোথাও যাবার সময় তাকে দুধমিছরি খেতে দিতে হয়। ওপরের ঘরে বাবাকে দিয়ে এলাম। দিদি বলে’ দিলে—রমেনবাবুকেও দিয়ে আর বাইরের ঘরে... গত তিন দিন প্রতিমার সঙ্গে আমার দেখা হয় নি। আজ এই মাত্র এই যা খাবার সময় দেখা হয়েছিল, তাও অতি অল্পক্ষণের জন্তে। যাবার সময়ও দেখা হোল না—শুধু বীণা বিছানাপত্র গাড়িতে ওঠাবার সময় কাছে কাছে ছিল । আমার মনে কয়েকদিন ধরে একটা সন্দেহ হয়েছিল, আমি জিজ্ঞাসা করলাম— বীণা, আচ্ছ একটা কথা বলি, তোমার মাকে তো দেখতে পাইনি কোনোদিন। তিনি. —আমার মা এক মাস হোল মামার বাড়ি গিয়েছেন ছোটমামার বিয়েতে—এই বুধবার আসবেন । আর দিদির মা নেই, দিদির ছেলেবেলাতেই.. wo —প্রতিমা তোমার আপন বোন না ? বীণা ঘাড় নেড়ে হেসে বললে—বা রে, অ্যাদিন আছেন, তাও জানেন না বুঝি ? আপনার মন খাকে কোথায় ? একদিন তো আপনার সামনে এ কথা হয়ে গিয়েছে না ? কুবে পূর্বে একথা উত্থাপিত হয়েছিল, মনে না হোলেও এতদিনের একটা খটকা আমার কাছে আজ পরিষ্কার হয়ে গেল। তাই বীণা ও প্রতিমার মুখের গড়নে এতখানি ওফাত । কথাটা অনেক বার মনে হোলেও ঠিক কিছু ধারণা করতে পারিনি এত দিন।