পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৌরীফুল ՀՆԴ) অত্যন্ত অষ্টমনস্ক ভাবে উকীলবাবুর সঙ্গে তাঁর গাড়িতে উঠে বসলাম। আজি কয়দিনের তো জানাশোনা—কিন্তু চলে যাবার সময় মনে হতে লাগলো, প্রথম এসে এই অপরিচিত লোহার গেটের মধ্যে যখন আমার ঠিকাগাড়ি ঢুকেছিল, সেদিন আজ অনেকদূর পেছনে পড়ে গিয়েছে—আজ এই বাড়ির প্রতি জিনিসট, ঐ পাতা-বাহারের গাছট, বাইরের উঠানের ঐ পুরানো ইদারাটা, সব যেন হঠাৎ বড় প্রিয় হয়ে উঠেছে—যেন নীড়-হারা বিহঙ্গ নিসীম শূন্তে মুক্তপক্ষে উড়তে উড়তে কোথায় নীড়ের সন্ধান পেয়েছিল, যে নীড়ে তার কোন দাবীদাওয়া নেই, শুধু মনের মধ্যেকার একটা অনিদিষ্ট নির্ভরতার ভাবে সেই মিথ্য অধিকারের কথাটা স্মরণ করিয়ে দিত মাত্র । তাই আজ ছেড়ে যাবার বাস্তবতার সঙ্গে দ্বন্দ্বে তার নিজের কাছে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে যে সে অধিকারের বার্তাটা কতটা অসঙ্গত ও ভিত্তিশূন্ত । দেশে ফিরে অল্প কিছুদিন বাড়ি থাকবার পরেই কয়েক মাস একরকম কেটে গেল । পুজার পরে কীর্তিক মাসের প্রথমে হঠাৎ অফিসের হুকুম হোল আবার ঢাকা যাবার। এবার যখন গোয়ালন্দ থেকে স্টীমারে উঠলাম ভখন আগেকার মত ভিড় ছিল না। পদ্মাবক্ষ শান্ত স্থির—চরে চরে কাশের বন ঘন সবুজ, আকাশের রঙ তিসির ফুলের মত নীল। নারায়ণগঞ্জ পর্যপ্ত ভারী আরামে কাটলো । ঢাকায় নেমে কিন্তু বীণাদের ওখানে না গিয়ে ডাক-বাংলোয় উঠলাম। নানা কারণে এবার বীণদের বাড়ি উঠতে পারা গেল না। বার বার অনাহুত ভাবে তাদের ওখানে গিয়ে উঠলে তারাই বা কি মনে করবে ? হয়তো এবার আমার সেখানে যাওয়াটা তারা পছন্দ নাও করতে পারে। তার চেয়ে বরং নিজের কাজকর্ম সেরে এমনি একদিন তাদের বাড়িতে গিয়ে সকলের সঙ্গে দেখাশুনো করে আসা যাবে এখন । আবার জ্যোৎস্না-পক্ষ ঘুরে এল। ডাক-বাংলোর কম্পাউণ্ডের হাস্না ঝোপের মিঠা যুদ্ধ সৌরভ-ভরা ঝিরঝিরে বাতাসে বারান্দার রেলিঙ-এ ভর দিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কত কথাই মনে ওঠে। একবার মনে হচ্ছিল, এই অপরিচিত ঢাকা শহরটিতে এমন কেউ আমার আপনার জন আছে যে, যদি সে জানে আমি ঢাকাতে এসেছি এবং লক্ষ্মীছাড়ার মতো ডাকবাংলোয় উঠে দাড়িওয়ালা বাবুর্চির শিরাবহুল হস্তের ডালভাত ও সুরুয়া আহার করছি ডো মনে মনে ভারী দুঃখিত হবে। কারণ আমি জানি আমার আহারের কিছুমাত্র অনিয়ম হোলে তার সহ হয় নি, নানা অম্বুযোগ করে ঠিক সময়ে খেতে বাধা করেছে, কিসে আমার স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে তার জন্তে অলক্ষ্যে কত চেষ্টা ছিল তার। এক একবার মনে হচ্ছিল, এসব চিন্তার সার্থকতা কি ? অতিথির প্রতি সৌজন্তকে অস্ত কিছু বলে মনে করবার অধিকারই বা আমার কে দিয়েছে ? o দিন পনেরো ঢাকায় কেটে গেলেও বীণাদের বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত মাড়লাম না ইচ্ছে क८ब्रहे । কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধু "ভারতমাতা ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রি এবং কালুঝমূৰ তোপের