পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


శినe বিভূতি-রচনাবলী বছর ঘুরতে না ঘুরতে মুরেশের অন্যত্র বিবাহ হয়ে গেল। অবস্থাপন্ন ঘরের সুন্দরী মেয়ে, নাম আভাবতী। বেশ নম্র লাজুক। মুরেশ বিবাহের অল্পদিন পরেই নব বধূকে রেলের বাসায় নিয়ে এল। মাদার গাছের তলাকার ছোট বাসাটিতে, তারপর তার দু'জনে যে মুখের নীড় বাধলো স্বরেশের তা কত সীমাহীন নির্জন রাত্রির স্বপ্ন !...শেষ পর্যন্ত সুরেশের মনে হেল— ভালই হয়েছে সে বিয়েটা না হয়ে, গণকের কথা একেবারে উড়িয়ে দেবার জিনিস তো আর নয় ? ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্তেই করেন। ইতিমধ্যে আরো দুটে খবর সে পেয়েছে—রেণুর বিবাহ কোনো রকমে হয়ে গিয়েছে এবং বিবাহের কিছুদিন পরেই রেণুর বাপ কলেরায় মারা গিয়েছেন। আরও এক বছর কাটলে৷ আভাবতী শুধু যে দেখতে সুন্দরী তা নয়, তার আয়-পরও যে খুব ভাল তার প্রমাণও শীঘ্ৰ উপস্থিত হোল। সুরেশ বিখ্যাত পাটের ব্যবসায়ের গঞ্জ রসুলপুর স্টেশনের অস্থায়ী চার্জ পেয়ে বদলির হুকুম তালিম করবার জন্তে প্রস্তুত হোল, মাইনেও গেল বেড়ে । যাবার দিন ক্রমেই নিকটে এসে গেল। স্কুল-মাস্টারের মেসের বাসায় তাকে এক বিদায়ভোজে নিমন্ত্রণ করে আকণ্ঠ খিচুড়ি ও ইলিশ মাছ ভাজ খাওয়ালেন। সে চলে যাওয়াতে যে সলিমপুরের বিশেষ ক্ষতির কারণ ঘটলো, এ-সম্বন্ধে নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণের কারো দু'মত দেখা গেল না। সে অভাব ভবিষ্যতে পূর্ণ হওয়ার বিষয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। রওনা হওয়ার পূর্বদিন সারা বিকেল ধরে জিনিসপত্র গোছানো হোল। আভাবতী ভারী গোছালো মেয়ে। সন্ধ্যার আগেই সব জিনিস বাধাছাদা ঠিক হয়ে গেল—ময় ট্রাঙ্ক বন্ধ করার আগে স্বামীর আয়না-চিরুনি, পানের ডিবেটি সকলের ওপরে রাখা পর্যন্ত—পাছে বা কখনো श्रृं८थं ब्रदर्शोन्न श्ध्न ! সকাল সাড়ে ন’টার ডাউন যাত্রী গাড়ি স্টেশনে এসে লাগলো। ছোট স্টেশন, বেশীক্ষণ গাড়ি দাড়ায় না। যাত্রীর দল কে কার ঘাড়ে পড়ে এই রকম অবস্থায় ওঠা-নমা করছে। সুরেশ স্টেশনের কুলীদের সাহায্যে মালপত্র ওঠানের ব্যবস্থা করে দিয়ে স্ত্রীকে মেয়েকামরায় তুলে দিতে গেল। মেয়ে-গাড়ির সামনে প্ল্যাটফরমের কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায় এইমাত্র একটি অল্পবয়সী মেয়ে গাড়ি থেকে নেমে দাড়িয়ে সম্ভবতঃ মালপত্র নামবার অপেক্ষা করছে। সঙ্গে একজন প্রৌঢ়া একটা ছোট ট্রাঙ্ক ও একটা বড় বোচক নিকটে নামালো । সুরেশ হঠাৎ থমকে দাড়িয়ে গেল। আর একবার ভাল করে চেয়ে দেখলে। না, তার ভুল হয়নি—ঠিকই দেখেছে সে । সরপাড় ধুতি পর, হাত খালি, মাথায় আধরুক্ষ চুল, বিধবা বেশে রেণু মুরেশ সেখানে আর দাড়াতে পারলো না, দিশহারা ভাবে এসে নিজের গাড়িতে উঠলো। রেণু সম্ভবতঃ তাকে দেখেনি, তার চোখ অন্তদিকে ফেরানো ছিল। “স্বরেশের সারা শরীর দিয়ে কি যেন একটা বীজ বেরুচ্ছিল। নিজের কতকটা অজ্ঞাতসারে তার মনে হোল—উঃ, কি বেঁচেই গিয়েছি। মার কথা যদি তখন না শুনতাম ? রাজুলীর ফাদই তো বটে। আটকেছিল তো