পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী ט\ তাহা ছাড়া পুত্রের অনভিজ্ঞ মনের তরুণ উল্লাসকে পরিণত বয়সের অভিজ্ঞতার চাপে শ্বাসরোধ করিয়া মারিতে মায়াও হয় । সে বলিল, তা যাস না সোমবারে! বেশ তো,—দেখে আসি। হ্যা শুনিস নি, মেজ বৌরানী যে শীগগির আসচেন, আজ শুনছিলাম রান্না-বাড়িতে— - অপুর চোখমুখ আননে উজ্জল হইয়া উঠিল, আগ্রহের স্বরে জিজ্ঞাসা করিল, কবে মা, কবে ? -এই মাসের মধ্যেই আসবেন। বড়বাবুর শরীর খারাপ, কাজ-টাজ দেখতে পারেন না, তাই মেজবাবু এসে থাকবেন দিন-কতক । পা আসিবে কি-না একথা দুই-দুইবার মাকে বলি বলি করিয়াও কি জানি কেন সে শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করিতে পারিল না । বাহিরে যাইতে যাইতে মনে মনে ভাবিল, তাদের বাড়ির সবাই আসচে, মা বাবা আসচে, আর সে কি সেখানে পড়ে থাকবে ? সে-ও আসবে —ঠিক আসবে। পরদিন সে স্কুল হইতে ফিরিয়া তাহদের ঘরটাতে ঢুকিতেই তাঁহার মা বলিল, অপু, আগে খাবার খেয়ে নে। আজ একখানা চিঠি এসের্চে, দেখাচ্চি। অপু বিস্মিতমুখে বলিল, চিঠি ? কোথায় ? কে দিয়েচে মা ? কাশীতে তাহার বাবার মৃত্যুর পর হইতে এ পর্যন্ত আজ আড়াই বৎসরের উপর এ বাড়িতে তাহারা আসিয়াছে, কই, কেহ তো একখানা পোস্টকার্ডে একছত্র লিখিয়া তাহদের খোজ করে নাই ? লোকের যে পত্র আসে, একথা তাহার তো ভুলিয়াই গিয়াছে। সে বলিল, কই দেখি ? পত্র—ত আবার খামে । থামটার উপরে মারের নাম লেখা ! সে ভাড়াতাড়ি পত্ৰখানা খাম হইতে বাহির করিয়া অধীর আগ্রহের সহিত সেখানাকে পড়িতে লাগিল । পড়া শেষ করিয়া বুঝতে-না-পারার দৃষ্টিতে মায়ের মুথের দিকে চাহিয়া বলিল, ভবতারণ চক্রবর্তী কে মা ?—পরে পত্রের উপরকার ঠিকানাট আর একবার দেখিয়া বলিল, কাশী থেকে লিখেচে । সর্বজয়া বলিল, তুই তেওঁকে নিশ্চিন্দিপুরে দেখেচিম –সেই সেবার গেলেন, দুগ্গাকে পুতুলের বাক্স কিনে দিয়ে গেলেন, তুই তখন সাত বছরের। মনে নেই তোর ? তিনদিন ছিলেন আমাদের বাড়ি । —জানি মা, দিদি বলতো তোমার জ্যাঠামশায় হন—না ? তা এতদিন তো আর কোনও— —আপন নয়, দূর সম্পর্কের। জ্যাঠামশায় তো দেশে বড় একটা থাকতেন না, কাশীগয়া, ঠাকুর-দেবতার জায়গায় ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন, এখনও বেড়ান ওঁদের দেশ হচ্চে মনসাপোতা, আড়ঘাটার কাছে । লেখেন থেকে ক্রোশ দুই—সেবার আড়ংঘাটায় যুগল দেখতে গিয়ে ওঁদের বাড়ি গিয়ে ছিলাম দুদিন । বাড়িতে মেয়ে-জামাই থাকত। সে মেয়েজামাই তো লিখেচেন মারা গিয়েচে–চুেলেপিলে কারুর নেই—