পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


C ৗরীফুল శిసెt এমন সময় একটা ব্যাপার ঘটলো । সামনের ঘন বনের মধ্যে অনেক দূর থেকে একটা উচ্চ মুম্পষ্ট কর্কশ অট্টহাসির রব উঠলো --হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ... অবিকল মাছুষের গলার আওয়াজের মত হলেও মনে হোল যেন এটা অমান্থষিক অস্বাভাবিক স্বর। আমরা কিছু ভাববার পূর্বেই সেইরকম আর একবার এবং তারপর আবার । হাসির শব্দটা এত উচ্চ ও তীক্ষু যে মনে হোল বনের গাছগুলো কেঁপে কেঁপে উঠছে-“মাটি যেন কঁপিছে..বোটটা যেন দুলছে ! সিপাহীরা তাড়াতাড়ি খাওয়া ছেড়ে উঠে এল। কাক, বিনোদবাবু, আমি সকলেই ছই-এর বাইরে এলাম। গাছপালা ছবির মত দাডিয়ে আছে। কোথাও হাওয়া নেই, পাতাটি পর্যন্ত নডে না—মুমুখে জোৎস্না রাঙের চাঁদ বন-গাছের আড়ালে ঢলে পড়ছে। .. বিনোদবাবু বললেন–কি মশাই রামবাৰু ? ব্যাপারটা কি ? মাঝিরা ভারি ভয় পেয়ে গিয়েছে। তার বজরার মাস্কলের তলায় গোল হয়ে দাড়িয়ে একদৃষ্টে বনের দিকে চেয়ে আছে। আমরা সকলে ছই-এর মধ্যে ঢুকতে যাচ্ছি এমন সময় আবার সেই হাসির শব্দটা উঠলো— হা: হা: হা: হা: •• শব্দটা এত ক্রুর ও মর্মস্পর্শী ষে আমাদের সকলের গায়ে কাট দিয়ে উঠলো। মাঝির দুই কানে হাত দিয়ে বলে উঠলোঁ—আল্লা । আল্লা ! কাকা ও বিনোদবাবু ছই-এর মধ্যে পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন। কাকা বললেন—কি মশাই, হায়েনা নাকি ? কিন্তু উীর মুখ দেখে ও গলার মুরে মনে হলো, তিনি কথাটা নিজেই বিশ্বাস করেন না। তারপর পরামর্শ হোল নৌকাটা সেখান থেকে সরানো যায় কিনা। কিন্তু ভাটার টান এত বেশী যে, বড়-গাঙের টান ঠেলে তত রাত্রে কোনো মতেই অত ভারী বজরাটা উজানে নেওয়া চলে না। অগত্যা সেইখানেই রাত কাটাতে হলো। সবাই জেগে রইলো, কারুর চোখে ঘুম এল না সে রাত্রে । শেষরাত্রে আর একবার শব্দটা শুনলাম। বনভূমি তখন নিস্তব্ধ-চাদ ডুবে গিয়ে নদী আকাশ বন সব অন্ধকারে একাকার! আমার চোখ ঘুমে ঢুলে এসেছে, এমন সময় অন্ধকারভর গভীর বনভূমির দিক থেকে আর একবার সেই বিকট হাসির রোল উঠলো। শেষরাত্রের চাদ-ডোবা অন্ধকারে সেটা এত অমান্থষিক, এত পৈশাচিক ঠেকলো যে তখন আমার বালকবয়স হলেও হাসিটার প্রকৃত রূপ বুঝে বুকের রক্ত যেন হিম হয়ে গেল। সকালে জোয়ারের মুখে বজরা ছেড়ে আমরা দুপুরের সময় স্টীমলঞ্চে ফিরে এলাম। সেখানে সব কথা শুনে প্রধান সারেং খালাসীদের মধ্যে কেউ কেউ বললে, ঐ শব্দটা এর আগেও তারা শুনেছে, তবে স্থানটা বড় গভীর বনের মধ্যে বলে সে-দিকটায় লোক চলাচল খুব কম। শোনা গেল, ঐ বনের মধ্যে নাকি অনেক দূর গেলে প্রাচীন কালের ঘর-বাড়ির