পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী وما وريا কর্ণলেন বিনীতভাবে ঘাড় নেড়ে তা স্বীকার করলেন । যমরাজ বললেন—সেই-ই তো আমাদের পুরস্কার ! তোমার জন্মভূমি তোমার দানের থ্যাতিতে ভরে গিয়েছে, তুমি নিজে একটা সুন্দর তৃপ্তি অনুভব করেছ, ওই তো সে-সব দানের পুরস্কার। কিন্তু তুমি একটি দান একবার করেছিলে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ভুলে গিয়েই শুধু পরের দুঃখ মোচন হবে বলে। নিজের দিকে সে-বার তুমি চাও নি। তোমার সে দানের পুরস্কার তখন হাতে হাতে দিয়ে তোমার দানকে অপমানিত করতে আমরা সাহস করিনি। সেইটিই তোমার পাওনা আছে। খুঁটি-দেবতা ঘোষপাড়ায় দোলের মেলায় যাইবার পথে গঙ্গার ধারে মঠটা পড়ে। মঠ বলিলে ভুল বলা হয়। ঠিক মঠ বলিতে যাহা বুঝায়, সে ধরনের কিছু নয়। ছোট খড়ের ঘর খান চার পাঁচ মাঠের মধ্যে। একধারে একটা বড় তেঁতুল গাছ। গঙ্গার একটা ছোট খাল মাঠের মধ্যে খানিকটা ঢুকিয়া শুকাইয়া মজিয়া গিয়াছে—জোয়ারের সময়ে তবুও খালট কানায় কানায় ভরিয়া উঠে। ঠিক সেই সময় জেলেরা দোয়াড়ী পাতিয়া রাখে । জোয়ারের তোড়ের মুখে মাছ খালে উঠিয়া পড়ে, ভাটার টানে নামিবার সময় দোয়াড়ীর কাঠিতে আটকাইয়া আর বাহির হইতে পারে না। কাছেই একটু দূরে শঙ্করপুর বলিয়া ছোট গ্রাম । কিছুকাল পূর্বে রেল-কোম্পানী একটা ব্রাঞ্চ লাইন খুলিবার উদ্দেশ্বে খানিকটা জমি সার্তে করাইয়া মাটির কাজ আরম্ভ করাইয়াছিলেন, কোনো কারণে লাইন বসানো হয় নাই। মাঠের উত্তর-দক্ষিণে লম্ব প্রকাণ্ড উচু রেলওয়ে বাধটার দুই পাশের ঢালুতে নানাজাতীয় কাটাগাছ, আকন ও অন্যান্ত বুনো গাছপালা গজাইয়া বন হইয়া আছে। আকন্দ গাছটাই বেশী । খুটি-দেবতার অপূর্ব কাহিনী এইখানেই শুনিয়াছিলাম। গল্পটা বলা দরকার। শঙ্করপুর গ্রামের পাশে ছিল হেলেঞ্চ-শিবপুর । এখন তাহার কোনো চিহ্ন নাই। বছর পনেরো পূর্বে গঙ্গার লাটিয়া গিয়া মাঝ গঙ্গার ওই বড় চরটার স্বষ্টি করিয়াছে। পূর্বস্থলীর চৌধুরী জমিদারদের সহিত ওই চরার দখল লইয়া পুরানো প্রজাদের অনেক দাঙ্গা ও মকদম হইয়াছিল। শেষ পর্যন্ত প্রজারাই মামলায় জেতে বটে, কিন্তু চরটা চিরকালই বালুময় থাকিয়া গেল, আজ দশ বৎসরের মধ্যে চাষের উপযুক্ত হইল না। পাঞ্জ দখলে আসিলেও চরাট প্রজাদের কোনো উপকারে লাগে না, অনাবাদী অবস্থায় পড়িয়াই থাকে। আজকাল কে কেহু তরমুজ, কাকুড় লাগাইতেছে দেখা যায়। r