পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মেরীফুল Woo & নন্দলালের অবস্থা কোনো কালেই ভাল নয়, বিবাহের পর যেন তাহ আরও খারাপ হইয়া পড়িল । ওই গহন কয়থানি দাড়াইল সংসারের একমাত্র সস্থল। গহনাগুলির উপর নন্দলাল বার দুই কোক দিয়াছিল—একবার পাটের ব্যবসা ফাদিতে, আর একবার মুনীর দোকান খুলিতে সিমুরালির বাজারে। কিন্তু নন্দলালই শেষ পর্যন্ত কি ভাবিয়া দুইবারই পিছাইরা যায়। বউও বলিয়াছিল—াথে ওই তো পুজিপাট, আর তো নেই কিছু—যখন আর কোন উপায় থাকবে না, তখন ওতে হাত দিও। এখন খাক । গহনার বাক্স চুরি যাওয়ার দিন পাচ সাত পরে একদিন নন্দলাল ভোরে উঠিয়া দেখিল স্ত্রী বিছানায় নাই। বাহিরে আসিয়া দেখিল, বউ ঘরের পাশের ছাইগাদা ঘাটিয়া কি দেখিতেছে! স্বামীকে দেখিয়া কেমন এক ধরনের হাসিয়া বলিল—ওগো, এসে না গো, একটু খোজো তো এর মধ্যে ? তুমি উত্তর দিকটা থেকে দ্যাথো। নন্দলাল সম্বেহে স্ত্রীকে ধরিয়া দাওয়ায় আনিয়া বসাইল। পাতকুয়ার ঠাণ্ডা জল দিয়া স্নান করাইয়া দিল, নানারকমে বুঝাইল, কিন্তু সেই যে বউটর মস্তিষ্ক-বিকৃতির শুরু হইল—এ আর কিছুতেই সারানো গেল না। পাছে স্বামী বা কেহ টের পর এই ভয়ে যখন কেউ কোনোদিকে না থাকে, তখন চুপিচুপি ছাইগাদা হাতড়াইয়া খুজিয়া কি দেখিতে থাকিবে! এই BBBB BBB BBS BBB BBBSBBBB BB BB BBBS BBB BB BS BBBBB সে যেমন গৃহকর্মনিপুণ, সেবাপরায়ণা কমিঠা গৃহস্থ-বধূ তেমনই রহিল। একদিন সে মামাশ্বশুরের ঘরে সকালে বাঁট দিতে ঢুকিয়াছে, মামাশ্বশুর রাঘব চক্রবর্তী তখন ঘরে ছিলেন না ; ঘরের একটা কোণ পরিষ্কার করিবার সময় সে একথান কাগজ সেখানে কুড়াইয়া পাইল । কে যেন দল পাকাইয়া কাগজখানাকে কোণটাতে ফেলিয়া রাখিয়াছিল। কাগজখানা দেখিয় সে অবাক হইয় গেল ! এ যে তার গহনার বাক্সের তলায় পাতা ছিল, পাতলা বেগুনী রঙের কাগজ, সেকরার এই কাগজে নূতন-তৈয়ার সোনার গহনা জড়াইয়া দেয় “এ কাগজখানাও সেইভাবে পাওয়া, সেকরার দোকান হইতে আসিয়াছিল, সেই হইতে তাহার গহনা বাক্সের তলায় পাতা থাকিত—সেই কোণ ছেড়া বেগুনী রঙের পাতলা কাগজখানি ।... বউটি কাহাকেও কিছু বলিল না—স্বামীকেও নয়। মনের সন্দেহ মুখে কাহারও কাছে প্রকাশ করিতে পারিল না। কিন্তু ভাবিয়া ভাবিয়া শেষে তাহার খুব অসুখ হইল। জর অবস্থায় নির্জন ঘরে এক বিছানায় শুইয়া তক্তপোশের একটা বাশের খুঁটিকে সম্বোধন করিয়া সে করজোড়ে বার বার বলিত—ওগো খুঁটি, আমি তোমার কাছে দরখাস্ত করছি, তুমি এর একটা উপায় করে দাও, পায়ে পড়ি তোমার। একটা উপায় তোমায় করতেই হবে। আর কাউকে বলতে পারি নে তোমাকেই বলছি ? বাশের খুঁটিটা ছাড়া তার প্রাণের এ আগ্রহ-ভরা কাঙর আকৃতি আর কেহই শুনিত না। কতবার রাত্রে, দিনে নির্জনে খুঁটিটার কাছে এ নিবেদন সে করিত—কি বুঝিয়া করিত সে-ই জুীনে ।