পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৌরীফুল ●)ፃ শুধু হাকিমী চালচলনের গ্রিন্সিপাল নন, বিদ্বানও বটে। তিনি বাজচন্দ্রবাবুকে অনেক রেহাই দিয়ে চলতেন । কিন্তু নিজের ডিপার্টমেন্টের উপরওয়ালা নলিনাক্ষবাবুর সঙ্গে রাজচন্দ্রবাবুর বনিবনও ছিল না আদৌ। কতদিন ছেলেরা দেখেছে, নলিনাক্ষবাবুর থাসকামরা থেকে রাজচন্দ্রবাবু অপ্রসন্ন মনে বিড় বিড় করে কি বক • বকলে দাড়িতে হাত বুলোতে বুলোতে দু দে সওয়ারের পাল্লায়-পড়া বিপন্ন একরোখা ঘোড়ার ভঙ্গিতে বার হয়ে গেলেন। নলিনাক্ষবাবুর হুকুম ঠিক মত তামিল না করার মূলে রাজচন্দ্রবাবুর যে ইচ্ছাকৃত কোনো অবিনয় ছিল তা নয় বোধহয়—তার স্বভাবই ছিল সাধারণতঃ অন্তমনস্ক ধরনের। নলিনাক্ষবাবু অধস্তন কর্মচারীর এ রকম লর্ড কেলভিনের মত মেজাজ বরদস্তি না করতে পেরে এবং সেটাকে তার হুকুমের প্রতি সরাসরি ভাবের অমান্য ভেবে নিয়ে, সব সময় পঞ্চমে চড়ে থাকতেন । আমার সহপাঠী প্রতুল হোস্টেলে আমার পাশের ঘরেই থাকতো ; অঙ্কে খুব পাকা, হুগলী জেলা থেকে টেম্পল বৃত্তি নিয়ে এণ্টন্সি পাস করে। চেহারা বেশ ভাল, আর একটু সেন্টিমেণ্টাল ধরনের ছিল বলে তাকে সকলে ‘মিস গুপ্ত’ বলে ডাকতো । সেদিন সন্ধ্যার সময় সে হোস্টেলের বারান্দায় বসে আমার কাছে গল্প বললে, বিকালে রাজচন্দ্রবাবুর বাড়ি গিয়েছিল। সেখান থেকেই আসছে। আমি জানতাম, কলেজে যে সব ছেলে মুগ্ধ ভক্তের অর্ঘ্য নিবেদন করে প্রতুল সে-দলের একজন চাই। যেমন হয়ে থাকে কলেজে, ছেলেরা যে প্রফেসারকে পছন্দ করে, তার বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভা জমায়। প্রতুলও তারপর থেকে সপ্তাহে দুদিন তিনদিন রাজচন্দ্রবাবুর বাড়ি যাতায়াত শুরু ক’রে দিলে।...একমাত্র মেয়ে ছাড়া তার সংসারে কেউ নেই, বা তার মেয়ের নাম যে প্রভাবতী, এ-সব কথা আমি ঐ প্রতুলের মুখেই শুনেছিলাম। প্রতুলের মূপেই শুনতাম তার বাড়িতে চায়ের বন্দোবস্ত ছিল না, কারণ তিনি নিজে চা খান না—ছেলেরা যাতায়াত শুরু করার পরে প্রভাবর্তী বাবাকে বলে চায়ের সমস্ত সরঞ্জাম আনিয়ে নিয়েছেন—নিজে চা পরিবেশন করেন, কাজেই আজকাল এদের–বিশেষ করে প্রতুলের কোনো অসুবিধা হয় না। হঠাৎ একদিন মনে হোল রাজচন্দ্রবাবুর বাড়ি না-যাওয়াটা তার প্রতি অত্যন্ত অসম্মান ও ঔদাসীন্ত দেখানো হচ্ছে। উছ—সেটা ঠিক নয়। পরের রবিবার প্রতুলের সঙ্গে বিকেলের দিকে তার ওখানে গিয়ে হাজির হওয়া গেল। রাজচন্দ্রবাবু তখনও ওপরে নিজের ঘরটিতে পড়াশুনায় ব্যস্ত আছেন। তার মেয়ে আমাদের বসালেন, চা ও খাবার তৈরী হোল, খানিকক্ষণ গল্পসল্পও গেল। তার কথাবার্তায় মনে হোল রাজচন্দ্রবাবু অন্ত বিষয়ে যতই অন্তমনস্ক হোন না কেন, মেয়েটির শিক্ষা দেওয়া বিষয়ে মোটেই ঔদাসীন্ত দেখান নি। তারপর আমরা ওপরের ঘরে গেলাম। আগাগোড়া দেওয়াল বইভরা অালমারীতে ঢাকা পড়েছে। মেজের ওপর এখানে ওখানে যদৃচ্ছামত বই ছড়ানো। দেখে মনে হয় আলমারীভর বই শুধু স্বর সাজানোর উদেখে ব্যবহৃত হয় না। দিন্ত দিস্তা সাদা কাগজে লম্বা লম্ব অঁাকজোক ভরা তক্তপোশের ওপর, টেবিলে ছড়ানো “+” অক্ষরের বাড়াবাড়ি খুব, অনধি