পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


é९९ বিভূতি-রচনাবলী তা তিনি ভেবে আশ্চর্য হয়েছিলেন ; তবে পাছে অশোভন হয় এজন্ত কোন কথা বলেন নি । এমন কথারও আভাস দিলেন যে রাজচন্ত্রবাবুর মস্তিষ্ক প্রকৃতিস্থ না হওয়ার দরুণই এই সব গোলযোগ এবং তাকে নিবৃত্ত না-করার দরুণ আমাদের মুদু ভংগনাও করলেন। এ ক্ষেত্রে যা হয় তাই হতে লাগলে । কাগজপত্রে, লোকের মুখে খুব গলাগলি চললো। নিরীহ রাজচন্দ্রবাবু কারুর কোন অনিষ্ট করেন নি, বরং ধূমকেতুর ধাক্কা খাওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে বঁচিয়ে লোকের ইষ্টই করেছিলেন–কিন্তু আমাদের একটা বৃহৎ আশা দিয়ে তা থেকে বঞ্চিত করার অপরাধে তাকে কেউ ক্ষমা করলে না । স্টেট্স্ম্যান, ইংলিসম্যান মুচকে হাসলে। যে কাগজে ধূমকেতুর ছবি বেরিয়েছিল, তারা ভালমানুষটি সেজে ধূমকেতুর আসা না-আসা সম্বন্ধে কোন উল্লেখই করলে না। কলেজের নোটিশ বোর্ডে রাজচন্দ্রবাবুর ভক্তের বিপক্ষদলেরা খড়ি দিয়ে একটা ছবি অঁাকলে--- দিন কুড়ি পরে প্রভাবতীর পত্র পেলাম, রাজচন্দ্রবাবুর অত্যন্ত অসুখ, একবার আসবেন। —অত্যন্ত অনুরোধ করেছেন । প্রতুল ও আমি রাজচন্দ্রবাবুকে দেখতে গেলাম। তখন বৃদ্ধ একেবারে শয্যাগত, জ্ঞান নেই। প্রভাবতীর মুখে শোনা গেল, ক’দিন ধরে বৃদ্ধ অনবরত আঁকজোক কষেছেন— তারপরই হঠাৎ ঘাড়ে ও পিঠে ব্যথা হয় এবং রাত্রে খুব জর হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ডাক্তার মত দিয়েছেন, অতিরিক্ত মস্তিষ্কচালনার ফলেই এরূপ দাড়িয়েছে। আমরা যাওয়ার তিনদিন পরে বৃদ্ধের অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভাল হোল। সন্ধ্যার ঠিক আগে তার বিছানার পাশের খোলা জানাল দিয়ে বাইরের দিকে তিনি বালিশ ঠেস্ দিয়ে বসেছিলেন। প্রভাবতী, আমি, প্রতুল ও আরো দু'জন ছাত্র—আমরা সকলে তার বিছানার পাশেই বসেছিলাম। হঠাৎ বৃদ্ধ ধীর ভাবে বললেন—এটা আসছে—আমি বেশ দেখতে পাচ্ছি, প্রকাও Parabola-র পথে ঘুরে আসছে—আকাশের দিকে চোখ চেয়েই আমি সেটা দেখতে পাচ্ছি। পরদিন প্রতুল সকালে আমার কাছে এল। বললে—একটা কথা আছে শোনে। তারপর সে বললে—অনেক রাত্রে রাজচন্দ্রবাবুর বিছানার পাশে প্রভাবর্তী জেগে বসেছিলেন, বৃদ্ধ মেয়েকে বলেছেন—তুমি সকলকে বলে দিও হিসাব কষতে আমার পয়তাল্লিশ দিনের ভুল হয়েছে—আমি যেদিন বলেছিলাম তার পরতাল্লিশ দিন পরে ধূমকেতু ঠিক আসবে। কোন ভুল নেই, আসতেই হবে। বলে দিও ছেলেদের “প্রভাবতী এ-কথা প্রকাশ করেছেন মাত্র, কিন্তু বুদ্ধের কথা প্রলপ কি সুস্থ মনের উক্তি না বুঝতে পেরে, কথার ওপর কোনো আস্থা স্থাপন করেন নি । সেদিন শেষ রাত্রে বুদ্ধের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে এল, দুপুরের পর তিনি মীরা গেলেন। কলকাতায় ফিরে এসে আমরা পরামর্শ করলাম, এ-কথা আর প্রকাশ করবার উপায় নেই-মৃত ব্যক্তির শিল্পে আর বিদ্রুপ বর্ষণ করার আয়োজন করে কি হবে ? প্রতুলের মত মুখ ভক্ত রাজচন্দ্রবাবুর ছাত্রদের মধ্যে আর কেউ ছিল কিনা জানি না। সেও