পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৌরীফুল 9షి(t কোন গীতে বিল সরকারের চাকুরি করিভ—কলিকাতার গল্প বিশ্বাস মহাশয় তাহার মুখে རྒྱུ་བཅར་ শুনিয়াছেন—সম্প্রতি তিনি তাঁহাই মুখ ও কৌতুহলী শ্রোতৃমণ্ডলীর সম্মুখে বলিতে ছলেন । পাঠশালার গুরু নিতাই সামন্ত আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া বলিল—ঐ যে গরুর গাড়ি ফিরেছে— বাশাড়ের আগালে পড়ে জুলির পথটা বুজে গিয়েছে কিনা, তাই ঘুরে আসছে বোধহয়। সকলেই গরুর গাড়িটা দেখিল, কিন্তু কেহই বিশ্বাস করিল না যে, পাত্র আসিতেছে। গরুর গাড়িটা ঘুরিয়া পিছনের পথ দিয়া আসিতেছিল, কেহই দেখিতে পাইল না ছই’-এর মধ্যে লোক বসিয়া আছে কিনা। মিনিট পাঁচ ছয় পরে। কলেজের ছেলেটি আসিয়া মাদুরে বসিয়াছে, তাহাকে ঘিরিয়া রথযাত্রার ভিড়। ছেলেটির বয়স তেইশ চব্বিশ কি এক-আধবছর বেশী, রং ফরসা, গায়ে মটকার পাঞ্জাবি ও চাদর, চোখে চশমা। সে বুদ্ধ বিশ্বাস-মহাশয়ের কাছে প্রথম ট্রেনট ফেল হইবার গল্প করিতেছিল। সবাই ই করিয়া শুনিতেছিল। প্রথমে যছ ভড়ের কীর্তনগান শুরু হইল। তারপরে ছলাল মুখুয্যে শুমাবিষয়ে গাঁহিলেন। একজন বেহালা বাজাইল । তারপরেই রিজিয়া ও বক্তিয়ার। গ্রামের সাতকড়ি মুখুয্যে এইবার তার ছেলে তিনটিকে সঙ্গে লইয়া চণ্ডীমণ্ডপে উঠিলেন। সাতকড়ি লেখাপড় আদেী জানেন না, গোলার ধানে সম্বৎসর চলিয়া যায়—মুতরাং চাকুরির ধারও ধীরেন না, কিন্তু তার বেীক গান বাজনায় দিকে। পাচটি ছেলের একটিকেও লেখাপড়া শেখান নাই, গান-বাজনা শিখাইয়াছেন, এবং যে-সব গ্রাম্যমজলিসে অন্ত গ্রাম হইতে দ্বপাচজন বাহিরের লোক আমদানী হয়, সে-সব স্থানে ছেলে কয়েকটিকে সঙ্গে লইয়া একখানা কম দামী বেহালা হাতে সাতকড়ি গিয়া হাজির হন। ইনি আসন গ্রহণ করিয়াই সেজ ছেলে বসন্তকে বলিলেন—বাবা, রজনের থলিট আনতে ভুল হয়ে গিয়েছে—একবার দৌড়ে যাও তো বাড়ি-চালির মুড়োয় তোলা আছে। বসন্তু অপ্রসন্ন মুখে পৈঠা দিয়া নামিয়া গেল। অন্ত সময় হইলে সে বাবাকে দু’কথা শুনাইত—কিন্তু নবাগত শহরের শিক্ষিত ভদ্রলোকের সম্মুখে তাহার সাহসে কুলাইল না। —গেছু (বসন্তের ডাক নাম) আজকাল যা কীর্তন গায়, চমৎকার। রাস্ত্র অধিকারীর গাওনা তো শুনেছি ঘেটুগাছির বারোরারীতে—তার চেয়ে কম নয়। আমার ছেলে বলে, বলছি নে পদ্ম খুড়ে, তা নয়। রজনটা ফেলে এসে মুশকিল হোল কিনা “শোনাচ্ছি একখানা, আম্বক। পদ্মলোচন চক্রবর্তী গ্রামের পুরোহিত—তিনি গান-বাজনা বিশেষ বোঝেন না, তবুও সাতকড়িকে খুনী করবার জন্য বলিলেন—আহা হীরের টুকরো ছেলে তোমার বসন্ত । ওর গলা আর শুনিনি আমি ?...কোজাগরী পূজোর দিনে মহিমদার বাড়িতে গাইলে—আছ, যেমনি গলা তেমনি তাল-বোধ । সাতকড়ি ছেলে জিনটিকে চারিধারে বসাইরা নিজে মধ্যে বসিলেন। ইতিমধ্যে রজন আসিয়াছিল, গান শুরু হইল।