পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩১০ বিভূতি-রচনাবলী বিয়ের উপযুক্ত হয়েচে, বিয়ে না দিলেই নয়। তবুও তো একটি আর বছর ম্যালেরিয়া জরেসতেরো বছরের হয়েছিল— বাঙালী মধ্যবিত্ত ঘরের সাধারণ কাহিনী। আমরা সেখান থেকে উঠলুম, কারণ সন্ধ্যা হয়ে আসচে। গুরুমশায় কিন্তু আমাদের সঙ্গ ছাড়লেন না, বললেন—চলুন, আপনাদের গা দেখিয়ে আনি । একটা ছোট মাঠ পেরিয়ে গুরুমশায়ের ঘর। ইটের দেওয়াল, টিনের চালা। বেশ বড় উঠোন, তবে ঘরদোরের অবস্থা খুব ভালো নয়। উঠোনে পা দিয়ে গুরুমশায় বললেন—ওরে হাবু, বাইরে মাছরটা পেতে দে। আমরা বললুম—আবার মাদুর কেন, আমরা বসবো না আর । —না না, তা কখনো হয় ? এলেন গরিবের বাড়ি, একটু কিছু মুখে না দিলে—একটু চা ৷ —ওসব আবার কি, গা দেখাতে নিয়ে বেরুলেন, ওসব কথা তো ছিল না ? আমাদের কোন কথাই শুনলেন না তিনি। মাদুর এল, বসলেনও আমাদের। গুরুমশার বাড়ির মধ্যে গিয়ে ঢুকলেন। একটু পরে তিনি আবার তামাক সেজে এনে আমাদের হাতে দিতে গেলেন এবং আমরা কেউ তামাক খাইনে শুনে দুঃখিত হলেন। আমরা বললুম—আপনাদের গায়ের ময়রাও ওই ভুল করেছিল, সেও তামাক সাজছিল আমাদের জন্তে । একটি হ্যামবর্ণ মেয়ে এই সময় একখানা থালাতে প্রায় আধ কাঠাখানেক মুড়ি, একটা ছোট বাটিতে পোয়াটাক আখের গুড়, অনেকখানি নারকেল কোরা নিয়ে এল। গুরুমশায় বললেন—এই এদের সামনে রাখ মা—এই আমার ছোট মেয়ে, এই চোদ হল, এর ওপরে দুই দিদি—যা, চায়ের কতদূর হল দেখ গে—না না ও হবে ন—একটু মুখে দিতেই হবে— গরিবের বাড়ি, আপনাদের উপযুক্ত নয়—পাড়াগ জায়গা । তখন নীরদ মুড়ি নারকেল কোরার বৈজ্ঞানিক ভিটামিনতত্ত্ব বুঝিয়ে দিয়ে প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে যে, এমন চমৎকার পুষ্টিকর জলযোগ বহুদিন আমাদের অদৃষ্টে জোটেনি। মেয়েটি আবার চা নিরে এল । —এইখানে রাখ মা, হয়ে গেলে অমনি দুটি পান আনবি—আর দুটি মুড়ি..? —আজ্ঞে না, এই খেয়ে ওঠা দায়, এ কি কম দেওয়া হয়েচে ? জলযোগ সবে শেষ হল। মেয়েটি কৌতুহলের দৃষ্টিতে আমাদের দিকে চেয়ে ছিল এতক্ষণ । গুরুমশায় বললেন—এর নাম কমলা—এইটি মেয়েদের মধ্যে খুব বুদ্ধিমতী। বাংলা যে কোনো বই পড়তে পারে, এর দিদিরা লেখাপড়া জানে না—পড়াশুনোর বেীক খুব এর—কেবল বই পড়তে চাইবে, তা আমি কোথা থেকে নিত্যি নতুন বই দিই বলুন। আমার হাতে একখানা কি মাসিকপত্র ছিল, ট্রেনে পড়বার জন্তে এনেছিলুম—মেয়েটিকে ডেকে সেখানা তার হাতে দিয়ে বললুম—এখানাপ’ড়ে তুমি। নীরদ পিতাপুত্রর অলক্ষিতে আমার গারে একবার চিমটি কাটলে। আমার তখন বয়স তেইশের বেশি নয়—মেয়েটি চোঁদ বছরের।