পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত S X —আমার এক দাদামশায় আছেন, তিনি এতদিন পরে আমাদের খোজ পেয়ে তাদের দেশের বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেচেন । অপু সংক্ষেপে সব বলিল । লীলা বলিয়া উঠিল—চলে যাবে ? বা রে! হয়তো সে কি আপত্তি করিতে যাইতেছিল, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝিল, যাওয়া না-যাওয়ার উপর অপুর তো কোনও হাত নাই, কোনও কথাই এক্ষেত্রে বলা চলিতে পারে না। খানিকক্ষণ কেহই কথা বলিল না। লীলা বলিল, তুমি বেশ এখানে থেকে ইস্কুলে পড়ে না কেন ? সেখানে কি ইস্কুল আছে ? পড়বে কোথায় ? সে তো পাড়াগ । —আমি থাকৃতে পারি কিন্তু মা তো আমায় এথেনে রেখে থাকৃতে পারবে না, নইলে আর কি— —না হয় এক কাজ কর না কেন ? কলকাতায় আমাদের বাড়ি থেকে পড়বে। আমি মাকে বলবো, অপূর্ব আমাদের বাড়িতে থাকবে ; বেশ সুবিধে—আমাদের বাড়ির সামনে আজকাল ইলেক্‌টিক ট্রাম হয়েছে—এঞ্জিনও নেই, ঘোড়াও নেই, এমনি চলে—তারের মধ্যে বিদ্যুৎ পোরা আছে, তাতে চলে। --কি রকম গাড়ি ? তারের ওপর দিয়ে চলে ? —একটা ডাণ্ড আছে। তারে ঠেকে থাকে, তাতেই চলে। কলকাঙ গেলে দেখবে এখন—ছ-সাত বছর হ’ল ইলেকট্রিক ট্রাম হয়েছে, আগে ঘোড়ায় টানতো-- আরও অনেকক্ষণ দু'জনের কথাবাত চলিল। বৈকালে সর্বজয়ার জ্যাঠামশায় ভবতারণ চক্রবর্তী আসিলেন। অপুকে কাছে ডাকিয়। জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন। ঠিক করিলেন, দুইদিন পরে বুধবারের দিন লইয়া যাইবেন । অপু দু-একবার ভাবিল লীলার প্রস্তাবট একবার মায়ের কাছে তোলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথাটা আর কার্যে পরিণত হইল না । সকালের রৌদ্র ফুটিয়া উঠিবর সঙ্গে সঙ্গেই উল স্টেশনে গাড়ি আসিয়া দাড়াইল । এখান হইতেই মনসাপোত যাইবার সুবিধা । ভবতারণ চক্রবর্তী পূর্ব হইতেই পত্ৰ দিয়া গোরুর গাড়ির ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছিলেন। কাল রাত্রে একটু কষ্ট হইয়াছিল। এক্সপ্রেস ট্রেন খান দেরিতে পৌছানোর জন্ত ব্যাণ্ডেল হইতে নৈহাটর গাড়িখানা পাওয়া যায় নাই। ফলে বেশী রাত্রে নৈহাটতে আসিয়া অনেকক্ষণ বসিয়া থাকিতে হইয়াছিল। সারারাত্রি জাগরণের ফলে অপু কখন ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল সে জানে না। চক্রবর্তী মহাশয়ের ডাকে উঠিয়া জানাল দিয়া মুখ বাড়াইয়া দেখিল একটা স্টেশনের প্লাটফর্মে গাড়ি লাগিয়াছে। সেখানেই তাঁদের নামিতে হইবে। ফুলীর ইতিমধ্যে তাহদের কিছু জিনিস পত্র নামাইয়াছে। @