পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Σ & বিভূতি-রচনাবলী গোরুর গাড়িতে উঠিয়া চক্রবর্তী মহাশয় অনবরত তামাক টানিতে লাগিলেন। বয়স সত্তরের কাছাকাছি হইবে, একহারা পাতলা চেহারা, মুখে দাড়ি গোফ নাই, মাথার চুল সব পাকা। বলিলেন–জরা, ঘুম পাচ্ছে না তো ? * সর্বজয় হাসিয়া বলিল, আমি তো নৈহাটতে ঘুমিয়ে নিইচ আধঘণ্টা, অপুও ঘুমিরেচে। श्रां★नांब्रहे घूय हब नि চক্রবর্তী মহাশয় খুব খানিকটা কাশিয়া লইয়। বলিলেন,—ও, সোজা খোজটা করেচি ভোদের । আর-বছর বোশেখে মেয়েটা গেল মারা, হরিধন তো ভার আগেই। এই বয়সে হাত পুড়িয়ে রোধেও খেতে হয়েচে,—কেউ নেই সংসারে। তাই ভাবলাম হরিহর বাবাজীর তো নিশ্চিন্দিপুর থেকে উঠে যাবার ইচ্ছে ছিল অনেকদিন থেকেই, ষাই এখানেই নিয়ে আসি। একটু ধানের জমি আছে, গৃহদেবতার সেবাটাও হবে। গ্রামে ব্রাহ্মণ তেমন নেই, —আর আমি তো এখানে থাকব না। আমি একটু কিছু ঠিক ক’রে দিয়েই কাশী চলে যাবো। একরকম ক’রে হরিহর নেবেন চালিয়ে। তাই গেলাম নিশ্চিন্দিপুর— সর্বজয় বলিল, আপনি বুঝি আমাদের কালী যাওয়ার কথা শোনেন নি ? —তা কি ক’রে শুনবো ? তোমাদের দেশে গিয়ে শুনলাম তোমরা নেই সেখানে। কেউ তোমাদের কথা বলতে পারে না—সবাই বলে তারা এখান থেকে বেচে-কিনে তিন-চার বছর হ’ল কাশী চলে গিয়েচে । তখন কাশী যাই। কাশী আমি আছি আজ দশ বছর। খুজতেই সব বেরিয়ে পড়লো। হিসেব ক’রে দেখলাম হরিহর যখন মারা যান, তখন আমিও কাশীতেই আছি, অথচ কখনো দেখাশুনো হয় নি, তা হলে কি আর— অপু আগ্রহের স্বরে বলিল, নিশ্চিন্দিপুরে আমাদের বাড়িটা কেমন আচে, দাদামশায় ? —সেদিকে আমি গেলাম কৈ। পথেই সব খবর পেলাম কি-না। আমি আর সেখানে দাড়াই নি। কেউ ঠিকানা দিতে পারলে না। ভুবন মুখুয্যে মশায় অবিপ্তি খাওয়া-দাওয়া করতে বললেন, আর তোমার বাপের একশো নিন্দে-বুদ্ধি নেই, সাংসারিক জ্ঞান নেই—হেন তেন। যাক সে সব কথা, তোমরা এলে ভাল হল । যে ক’ঘর যজমান আছে তোমাদের বছর তাতে কেটে যাবে। পাশেই তেলিরা বেশ অবস্থাপন্ন, তাদের ঠাকুর প্রতিষ্ঠা আছে। আমি পুজেটুজো করতাম অবিপ্তি, সেটাও হাতে নিতে হবে ক্রমে। তোমাদের নিজেদের জিনিস দেখে শুনে নিতে হবে— উল গ্রামের মধ্যেও খুব বন, গ্রাম ছাড়াইয়া মাঠের পথেও বনঝোপ । স্বর্য আকাশে অনেকখানি উঠিয়া গিয়াছে। চারিধারে প্রভাতী রৌদ্রের মেলা, পথের ধারে বনতুলসীর জঙ্গল, মাঠের ঘাসে এখনও স্থানে স্থানে শিশির জমিয়া অাছে, কোন রূপকথার দেশের মাকড়সা যেন রূপালী জাল বুনিয়া রাখিয়াছে। মাঝে মাঝে কিসের একটা গন্ধ, বিশেষ কোনো ফুল ফলের গন্ধ নয় কিন্তু। শিশিরসিক্ত ঘাস, সকালের বাতাস, অড়হরের ক্ষেত, এখানে ওখানে বনজ গাছপালা, সবগুদ্ধ মিলাইয় একটা সুন্দর মুগন্ধ । অনেক দিন পরে এই সব গাছপালার প্রথম দর্শনে অপুর প্রাণে একটা উল্লাসের ঢেউ