পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अछिशांब्लिक sNు কি গুড়ে, একটু ঢুকেই চোখে পড়লো ; ভদ্রতাবিরুদ্ধ হয় বলে আমি আর ওঁদের দিকে চাইনি। ভদ্রলোক আমায় বাংলায় বললেন—একটু চা খাবেন ? আমার বিস্ময়ের ভাব তখনও কাটেনি, আমি কোনো উত্তর দেবার আগেই মেয়ের ঘর থেকে বার হয়ে গেলেন। বৃদ্ধ বললেন, আপনাকে ডেকেচি কেন বলি। আমি কাঠের ব্যবসা করি, বাজারে আমার কাঠের আড়ৎ আছে। একজন বাঙালী বাবু আমার আড়তে ইংরজি চিঠিপত্র লিখতে আর আমার মেয়ে তিনটিকে ইংরেজি পড়াতো, সে চলে গিয়েচে আজ দুমাস। আর আসে না, চিঠি লিখলে জবাব দেয় না, অথচ আমার জরুরী চিঠি দু-তিনখানার উত্তর না দিলে নয়। আপনি মোবারক খালাসির দরখাস্ত লিখছিলেন শুনে আপনাকে ডাকলুম। যদি দয়া করে লিখে দেন, আপনার উপযুক্ত পারিশ্রমিক যা হয় আমি দেবো। আমি আনন্মের সঙ্গে রাজি হলুম। আমি যে-কদিন এখানে থাকবে, তিনি আমার দিয়ে তার চিঠি লিখিয়ে নিতে পারেন। যা ইচ্ছে হয় দেবেন, সে বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য নেই। একটু পরে ওঁর মেয়ের চা নিয়ে এলেন। ভদ্রলোক আমার সঙ্গে মেয়েদের আলাপ করিয়ে দিলেন, সকলেই বাংলা বলতে পারেন বটে কিন্তু তাদের বাংলা বোঝা আমার পক্ষে বড় কষ্টকর হয়ে উঠেছিল প্রতিবার। কথাটা তাদের বিনীত ভাবে বুঝিয়ে বললুম। আমার বাড়ি কলকাতায়, চট্টগ্রামের ভাষা ভাল বুঝি না, তার ওপরে বিকৃত চট্টগ্রামের বুলি তো আমার পক্ষে একেবারেই দুর্বোধ্য। ইংরজিতে যদি বলেন তবে আমার মুবিধে হয়। . বৃদ্ধ ভদ্রলোককে কথাগুলি বললুম বটে, কিন্তু মেয়েদের উদ্দেশ করে। মেয়েরা আমার বাংলা বোঝেন না, তাদের বাবা বমিজ ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন আমার বক্তব্য। আমি বাটিতে সাদা গুড়ে দেখিয়ে বললুম—ওটা কি কোনো খাবার জিনিস ? মেয়েরা ভদ্রতার খাতিরে অতি কষ্টে হাসি চেপে গেলেন, বুঝলুম, তাদের পরস্পরের মধ্যে কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিবিনিময় হল। বড় মেয়েটি বললেন—ওটা তানাথ, চন্দনকাঠের পাউডার, মুখে মাখে। গভীর ভাবে বললুম-ও ! মেয়েটি আমায় বললেন, তারা ইংরিজি কথা বলতে পারেন না। বাঙালী বাবুরা ইংরেজি বিদ্যের জাহাজ, এমন একটি ইংরেজিতে সুপণ্ডিত ব্যক্তির সামনে তারা তাদের বাজে ইংরিজির নমুনা বার করতে পারবেন না, ভারি লজ্জা করবে। ওদের বাবা বললেন—আপনি এখানে ক-দিন থাকবেন ? --দিন পনেরো বোধহয় আছি। —দয়া করে রোজ সন্ধ্যেবেলা আমার এখানে আমুন না কেন ? এখানে চা খাবেন আর আমার মেয়েদের সঙ্গে ইংরিজিতে কথাবার্তা কইবেন। ওদের শেখা হয়ে যাবে। আপনাকে দিয়ে আমার আড়ত্তের চিঠিপত্রও তা হলে লিখিয়ে নেবো। এক টাকা করে পাবেন এজন্তে—কি বলেন ? আমি আসতে রাজি হলুম। এক টাকাই দেবেন, আমার