পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক శ్రీNసి তাতে এক মাসের মধ্যে ওখান থেকে ফিরতে পারবেন না। আমি আপনাকে আর একটা পথ বলে দিই—একটা রাস্ত আছে, দেবাং আর আরাকান ইয়োমার মাঝখান দিয়ে চীনদেশ পর্যন্ত গিয়েচে—এ পথে গভর্নমেন্টের ডাক যায় মংডু থেকে। আপনি মেলভ্যানে সিজু পর্যন্ত যান, সেখান থেকে হেঁটে যাবেন—আমি বন্দোবস্ত করে দিতে পারবো। কিন্তু দুজন লোক নেবে না মেলভ্যানে । আমি বললুম, তাহলে আমারও যাওয়া হবে না, কারণ বন্ধুকে ফেলে তো যেতে পারিনে! মেয়েটি বড় ভালো। ওর এক মামা ডাক-বিভাগে কাজ করেন, তাকে দিয়ে সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা মেলভ্যানে নিতে রাজি হল না দুজনকে । সুরেনবাবুও পিছিয়ে গেলেন। তিনি এগারো টাকা ভাড়া দিয়ে মেলভ্যানে যেতে রাজি নন। হেঁটে যতদূর হয় যেতে পারেন। এর কিছুদিন পরে সুরেনবাবু মংডু থেকে চলে গেলেন এবং আমি এক মেলভ্যানে সিংজু রওনা হলুম। মডু ছাড়িয়ে প্রথম পঞ্চাশ ষাট মাইল যেতে যেতে মনে হয় বাংলাদেশের নোয়াখালি বা ময়মনসিং জেলার ধানক্ষেতের মধ্যে দিয়ে চলেচি। এমন কি, আম-কঁাটালের বাগানও চোখে পড়ে। তার পর নিবিড় জঙ্গল, আরাকান ইয়োম পৰ্বত-শ্রেণীর বহু নীচু শাখা-প্রশাখা পথের দুপাশে দেখা যেতে থাকে। ছোটবড় গ্রাম সর্বত্র, নিবিড় বন কোথাও নেই, মাঝে মাঝে ঝোপঝাপ ও সেগুন গাছের সাজানো বাগান। বৌদ্ধমন্দির প্রত্যেক গ্রামেই আছে, আর আছে ছোটখাটো দোকানপশার-sয়ালা বাজার। দু তিনটি চা-বাগানও পথে পড়ে। সিংদু পৌঁছে গেল প্রায় সন্ধ্যার সময়। ডাকগাড়ির চালক হিন্দুস্থানী, তার সঙ্গে ইতিমধ্যে খুব ভাব করে নিরেছিলুম, রাত্রে তার তৈরী মোটা হাতে-গড় রুটি থেয়ে তার ঘরেই শুয়ে রইলুম। পরদিন সে বললে—চলুন বাবুজি, এখান থেকে মেলপিওন ডাকব্যাগ নিয়ে জঙ্গলের পথে অনেকদূর যাবে, আপনার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই, তার সঙ্গে যাবেন। সকাল আটটার সময় সিজু থেকে বার হয়ে আকিয়াব-গামী বড় রাস্তায় পড়লুম। এখান থেকে আরাকান ইয়োম পর্বতের উচ্চ অংশ দৃষ্টিগোচর হয়। এই পর্বতমালা সমুদ্রোপকূলের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে আকিয়াব থেকে প্রায় রেজুন পর্যন্ত বিস্তৃত। গিতাং এ অঞ্চলের একটি বড় নদী, এই নদীর শাখাপ্রশাখা অনেকবার পার হতে হয়, আকিয়াব রোডের ওপর অনেকগুলি সেতু আছে, এই নদীর বিভিন্ন শাখার ওপরে। এদিকের আরণ্য প্রকৃতির রূপ সম্পূর্ণ বিভিন্ন। এক এক গাছের গুড়ির গায়ে এত ধরনের পরগাছার জঙ্গল আর কোথাও কখনও দেখিনি। অনেক পরগাছে অদ্ভূত রঙিন ফুল ফুটে আছে। মাঝে মাঝে পার্বত্য ঝরনা, বড় বড় ট্রিক্ষার্ন, এ বনের চেহারা আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। এ ধরনের বন বাংলাদেশের কুত্ৰাপি দেখিনি, কিন্তু বহুদিন পরে আগাম অঞ্চলে वि. ब्र २-२8