পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক 9b心 আপত্তি নেই—ত ওরা শুনলে না। আমি হিন্দু ব্রাহ্মণ—কেন তারা আমার সামাজিক প্রখায় ও আচারে একদিনের জন্তে হস্তক্ষেপ করবে ? ওরা রোধে দেবে না। আমাকেই রান্না করতে হবে । আওরঙ্গজেবপুর হতে বের হয়ে আমি যদৃচ্ছাক্রমে পাহাড়ের ধারে বেড়াতে বেড়াতে হঠাৎ সেই অপূর্ব স্থানটিতে এসে পড়লুম। একদিকে পাহাড়, একদিকে বন, পাহাড় থেকে বন নেমে এসেচে যেন সবুজ জলস্রোতের মতে, একটা অবিচ্ছিন্ন সবুজের প্রবাহের মতো উচ্ছসিত প্রাচুর্যের উল্লাসে নৃত্যশীল সাগরোমির মতো । তারই মধ্যে অনেকগুলি পত্রবিহীন অদ্ভুত ধরনের গাছ—তাদের ডালপালা নিয়ে দাড়িয়ে আছে কেমন যেন আলুথালু ছন্নছাড়া অবস্থায়, নটরাজ শিবের নৃত্যভঙ্গির মতো । এক রকম লতা উঠেচে গাছপালার সর্বাঙ্গ বেয়ে, তাদের মগডাল পর্যন্ত সাদা সাদা ফুলে লতাগুলো ভর্তি—গাছের মাথা সেই সাদা ফুলে ছাওয়া। একদিকে একটা ক্ষীণস্রোতা পাহাড়ী ঝরনা সেই অপূর্ব বনভূমির মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেচে, ছোটবড় শিলাখণ্ড বিছানো অগভীর পথে। তার দ্বধারে জলের ধারে ধারে ফুটে আছে রাঙা বন-করবী। আমি কতগং সেখানে একটা পাথরের ওপর বসে রইলুম। একদৃষ্টে কতক্ষণ চেয়ে দেখেও যেন দেখবার পিপাস মেটে না। গাছপাল, পুষ্পিত লতা, বনভূমি, দীর্ঘ শৈলমালা ও ক্ষুদ্র পাহাড়ী নদী—সব নিয়ে একটা অতি চমৎকার ছবি, এ ছবির কি একটা অস্ফুট রহস্যময় ভাষা আছে, খানিকট বা বোঝা যায়, খানিকটা ধায় না। বিকেলে বেশ ছায় পড়ে এসেচে স্থানটিতে—কতরকমের পাখী ডাকচে, বনলতার ফুলের সুগন্ধ ভুর ভূর করচে বাতাসে। এখানে হঠাৎ যদি কোনো বনদেবীকে আবির্ভূত দেখতুম, তবে যেন তার মধ্যে বিস্ময়েয় কিছু ছিল না, এখানে তো তার নামতেই পারেন, লোকালয়ের বাইরে এই বিহগকূজিত নির্জন বন-প্রান্তেই তো তাদের আসন। সন্ধ্যার পূর্বে সেখানে থেকে আবার আওরঙ্গজেবপুরে চলে এলুম। এরা থাকে যে গ্রামে, বাইরের খবর সেখানে যথেষ্ট পৌছোয় অন্ত অনেক গ্রামের চেয়ে, কারণ এ গ্রামের অধিকাংশ লোক কাজ করে বাইরে। জাহাজে স্টীমারে চড়ে তারা অনেক দূরের সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েচে বহুবার। শৈলপাদমূলের এই ক্ষুদ্র গ্রামখানিতে বসে তাদের মুখে জাপানের, লওনের, সিংহলের অনেক গল্প শুনলুম। ওরা সে রাত্রে আমার জন্তে একটা খাসি ছাগল মারলে। যার বাড়ি ছিলুম, সে তার অনেক প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবকে নিমন্ত্রণ করলে ওর বাড়িতে। আমাকে আলাদা রান্না করতে হল—কিছুতেই ওরা ওদের রায় আমার খেতে দিতে রাজি হল না। এদের মধ্যে জনৈক বৃদ্ধ খালাসী ছিল, তার নাম আবদুল লতিফ ভূঁইয়া। আবদ্ধলের বয়স নাকি একানব্বই বছর, অথচ তার চুলাড়ি এখনও সব পাকেনি। দেখলে পঞ্চার কি