পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক \లిసిసి उर्षन थांयांद्र चdiबांक cनबांद्र बांउिक शिग-दणलूम ऊँॉरक चांगांद्र अर्क्यांप्क्द्र খাতায় কিছু লিখে দিতে। আজও আমার কাছে তার লেখা আছে-নামটি প্রকাশ করবার অল্পমতি তার কাছ থেকে আমি নিই নি, কাজেই নাম এখানে দিলাম না । তবে আমার মনে হয় যে প্রকাশ করলেও কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি ছিল না—শ{জকাল কেউ তার নাম छाँटून न । আগরপাড়া থেকে এলুম ব্রাহ্মণবেড়িয়া । এখানে যে বৃদ্ধ ভদ্রলোকের বাড়িতে উঠি, তিনি ওখানকার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। কয়েক বৎসর পূর্বে সংবাদপত্রে তার মৃত্যুসংবাদ জেনেছিলাম। আমি তার ওখানে গিয়ে পৌছুই বিকেল বেলা। সন্ধ্যার কিছু আগে তিনি বললেন— আপনি ব্রাহ্মণ, আমার বাড়িতে রাধুনী ঠাকুর নেই, আপনাকে নিজে কিন্তু রাধতে হবে। আমাদের রান্না তো আপনাকে খেতে দিতে পারিনে— আমার কোনো আপত্তি ছিল না অবিপ্তি—কিন্তু তাদের দিক থেকে ছিল। সেটা বুঝেই আমি রাখতে রাজি হয়ে গেলুম। সন্ধ্যার সময় চাকর এসে আমায় বাড়ির মধ্যে রান্নাঘরে ডেকে নিয়ে গেল। আয়োজন দেখে তো আমার চক্ষুস্থির! তিন চার রকমের মাছ, কপি, বেগুন, শাক, আলু, আরও কত কি পৃথক পৃথক থালায় কোটা । হলুদ বাট, জিরে বাট, ছোট ছোট পাত্রে সাজানো। একবার জীবনে নিজে রান্না করে খাওয়ার প্রয়োজন উপস্থিত হয়েছিল—শুধু ভাতে ভাত রাধবার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম সেই ক-দিন। এত আয়োজনের মহাসমুদ্রে তাতে পাড়ি জমানো যায় না। আমি বিষন্নমুখে এটা ওটা নাড়াচাড়া করচি, পাশের ঘর থেকে একটি অল্পবয়সী বিধবা মহিলা এসে আমার রান্নাঘরের দরজার পাশে দাড়ালেন। বোধ হয় আমার হাত খুন্তি ধরবার ভঙ্গি দেখেই তিনি এক চমকে আমার রন্ধন-বিস্কার দৌড় বুঝে নিলেন। চাকরকে ডেকে আমায় কি বলতে বললেন—চাকর বললে, দিদিমণি বলচেন আপনি রধিতে জানেন তো? আমি দেখলাম, যদি বলি রাধতে জানিনে এদের মুশকিলে ফেলা হয়। আমার জন্তে এরা কিভাবে কি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করবে এই রাত্রিকালে? সেভাবে এদের এখন বিব্রত করা অভ্যস্ত অসঙ্গত হবে। সুতরাং তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললুম—রান্না ? কেন জানবো না 7—কত রেধেছি— ভাবলুম আর দেরি করা উচিত নয়। যা হয় একটা হাড়িতে চড়িয়ে দিই। কি একটা ছাড়িতে চড়িয়েচি মহিলাটি আবার এসে দাড়ালেন দরজার কাছে। কিছুক্ষণ দাড়িরে আমার রায়ার বহর দেখে তিনি বুঝলেন এভাবে রন্ধনকার্য চললে আমার অদৃষ্টে আজ খাওয়া নেই। অতিথির প্রতি কর্তব্য স্মরণ করেই বোধহয় তিনি আমার সঙ্গে কথা কইলেন। বললেন—আমি দেখিয়ে দিচ্চি আপনি রাখুন তো—হাড়িটা নামিয়ে ফেলুন। তারপর তিনি সারাক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে বলে দিতে লাগলেন। দুতিন ঘণ্টা লেগে গেল সব জিনিস রাখতে।