পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক 8»ፋ কাজরা স্টেশনে নেমে কাজরা ভ্যালি ও খাদ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রমে যেতে হয়। জামালপুর ছাড়িয়ে আরও ত্রিশ মাইল পরে কাজরা । স্টেশনের চারিদিকেই ছোট ছোট পাহাড় জার প্রস্তরের টিলা । স্টেশন থেকে বার হয়ে সোজাপথে দূর পাহাড়শ্রেণীর দিকে চলেচি কোথায় দ্বজনে। একজন গ্রাম্যলোককে জিজ্ঞেস করলুম, ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রম কোথায় জানো ? সে বললে, নেহি জানতা বাবুজি । স্বতরাং মনে হল জায়গাটি নিতান্ত কাছে নয়। কাছাকাছি হলে এরা নিশ্চয়ই জানতো । তবে সামনের ওই পাহাড়শ্রেণীর মধ্যে ছাড়া আর গুহা কোথায় থাকতে পারে ? নিকটে আর কোথাও তেমন বড় পাহাড় নেই। স্টেশন থেকে একটা রাস্তা বেরিয়ে দূরের পাহাড়ের দিকে চলেচে, আমরা দুজনে সেই পথেই চললুম। মাঝে মাঝে বিহারী পল্লীগ্রাম, খোলার ঘর, ফণিমনসার ঝোপ, মহিষের দল মাঠে চরচে, দড়ির চারপাই পেতে গ্রাম্য লোকেরা জটলা করচে ঘরের উঠোনে, অত্যন্ত ময়লা ছাপ-শাড়ি পরনে গৃহস্থ-বধূর ইদারা থেকে জল তুলচে। আবার ফাকা মাঠ, জনহীন পথ, মাঝে মাঝে গমের ক্ষেত। পাহাড়শ্রেণীর কাছে আসবার নামও নেই, স্টেশন থেকে যতদূরে দেখাচ্ছিল এখনও ঠিক ততদূরেই মনে হচ্ছে ! হেমেন বললে, পাহাড় বোধ হচ্চে অনেক দূরে। —চলো, যখন বেরিয়েচি, যেতেই হবে। —সন্ধ্যার ট্রেনে ফিরতে হবে মনে আছে ? —যদি ট্রেন না ধরতে পারি, কোথাও থাকা যাবে। এই সব গ্রামে জায়গা মিলবেই একটা রাতের জন্তে । বেলা বেশ চড়েচে । একটা ইদারার পাড়ে আমরা দাঁড়ালুম জল খাবার জন্তে। একটি মেয়ে আমাদের হাতে জল ঢেলে দিলে। আমরা তাকে পয়সা দিতে গেলুম, সে নিলে না। আরও একখানা গ্রাম ছাড়ালুম। বিহার অঞ্চলের গ্রামে বা মাঠে কোথাও তেমন গাছপালা নেই। গ্রামের কাছে তালগাছ, দু একটা আমবাগান আছে বটে কিন্তু তার তলায় কোনো আগাছা নেই, শুকনো পাতা পর্যস্ত পড়ে নেই,এদেশে জালানি কাঠের অভাব, মেয়ের ঝুড়ি ভরে জালানির জন্তে শুকনো পাত কুড়িয়ে নিয়ে যায়। বাংলাদেশের খামল বনশোভা এখানে একান্ত দুর্লভ। আছে কেবল বিহারের সেই একঘেয়ে সীসমূ গাছের সারি। পথের দ্বধারে কোথাও ছায়াতর নেই, খররৌদ্রে পথ হাটতে কেবলই তৃষ্ণ পায়। দুজনে ঠিক করলুম বস্তির ইদারা থেকে জল পান করা স্বাস্থ্যসন্মত হবে না, এসব সময়ে বিহারের পল্লীতে কলের প্লেগ ইত্যাদির প্রাচুর্ভাব ঘটে। সাবধান থাকাই ভালো। এবার পথের পাশে ছোট ছোট গাছপালা দেখা গেল। একটা কথা বলি, বাংলাদেশে যাকে ঝোপ বলা হয়, সে ধরনের বৃক্ষলতার নিবিড় সমাবেশ বিহারে কচিৎ দেখা যায়, बि. ब्र २-२१