পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર૦ বিভূতি-রচনাবলী ফণীবাবু খাতাপত্র, এ্যাডমিশন বুক, শিক্ষকগণের হাজিরা বই লইয়া মহা ব্যস্ত। সেকেও পণ্ডিতকে ডাকিয়া বলিলেন, ও অমূল্যবাবু, চৌঠে তারিখে খাতায় যে নাম সই করেন নি ? আপনাকে বলে বলে আর পারা গেল না। দেরিতে এসেছিলেন তো খাতায় সই ক’রে ক্লাসে গেলেই হ’ত ? সব মনে থাকে, এইটের বেলাতেই— অপু শুনিল একটার সময় ইন্সপেক্টর আলিবেন স্কুল দেখিতে। ইন্সপেক্টর আসিলে কি করিয়া উঠিয়া দাড়াইয় তাহাকে অভ্যর্থনা করিতে হইবে তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয় ক্লাশের ছেলেদের সে বিষয়ে তালিম দিতে লাগিলেন। বারোটার কিছু পূর্বে একখানা ঘোড়ার গাড়ি আসিয়া স্কুলের সামনে থামিল। হেডমাস্টার তখনও ফাইল দুরন্ত শেষ করিয়া উঠিতে পারেন নাই বোধ হয়—তিনি এত সকালে ইন্সপেক্টর আসিয়া পড়াটা প্রত্যাশ করেন নাই, জানাল দিয়া উকি মারিয়া গাড়ি দেখিতে পাইয়াই উঠি-পড়ি অবস্থায় ছুটিলেন। তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয় হঠাৎ তড়িৎ-পৃষ্ট ভেকের মত সজীব হইয়। উঠিয়া তারস্বরে ও মহা উৎসাহে (অন্তদিন এই সময়টাই তিনি ক্লাসে বসিয়া মাধ্যাহিক নিদ্রাটুকু উপভোগ করিয়া থাকেন) দ্রব পদার্থ কাহাকে বলে তাহার বর্ণনা আরম্ভ করিলেন। পাশের ঘরে সেকেও পণ্ডিত মহাশয়ের ইকোর শক অদ্ভুত ক্ষিপ্রতার সহিত বন্ধ হইয়া গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাহার উচ্চকণ্ঠ শোনা যাইতে লাগিল। শিক্ষক বলিলেন, মতি, তোমরা অবগুই কমললেবু দেখিয়াছ, পৃথিবীর আকার—এই হরেন—কমলালেবুর স্তায় গোলাকার— হেডমাস্টারের পিছনে পিছনে ইন্সপেক্টর স্কুল ঘরে ঢুকিলেন। বয়স চল্লিশ-বিয়াল্লিশ বৎসর হইবে, বেটে, গৌরবর্ণ, সাটিন জিনের লম্বা কোট গায়ে, সিল্কের চাদর গলায়, পারে সাদা ক্যাম্বিসের জুতা, চোখে চশমা। গলার স্বর ভারী। প্রথমে তিনি অফিস-ঘরে ঢুকিয়া খাতাপত্র অনেকক্ষণ ধরিয়া দেখার পরে বাহির হইয়া হেডমাস্টারের সঙ্গে ফাস্ট ক্লাসে গেলেন। অপুর বুক চিপ, চিপ, করিতেছিল। এইবার তাহদের ক্লাসে আসিবার পালা । তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয় গলার মুর আর এক গ্রাম চড়াইলেন । ইন্সপেক্টর ঘরে ঢুকিয়া বোর্ডের দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, এরা কি ভগ্নাংশ ধরেছে ? তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয়ের মুখ আত্মপ্রসাদে উজ্জল দেখাইল ; বলিলেন, আজ্ঞে হ্যা, দু' ক্লাসে আমিই অঙ্ক কষাই কি না। ও ক্লাসেই অনেকটা এগিয়ে দিই—সরল ভগ্নাংশটা শেষ করে ফেলি— ইন্সপেক্টর এক এক করিয়া বাঙলা রিডিং পড়িতে বলিলেন। পড়িতে উঠিয়াই অপুর গল। কাপিতে লাগিল। শেষের দিকে তাহার পড়া বেশ ভাল হইতেছে বলিয়া তাহার নিজেরই কানে ঠেকিল। পরিষ্কার সতেজ বাশির মত গলা। রিল্রিনে মিষ্টি। —বেশ, বেশ রিডিং । কি নাম তোমার ? তিনি আরও কয়েকটি প্রশ্ন করিলেন। তারপর সবগুলি ক্লাস একে একে ঘুরিরা আসিয়া জলের ঘরে ডাব ও সম্বেশ খাইলেন। . তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয় অপুকে বলিলেন, তুই হাতে ক’রে এই ছুটির দরখাস্তখানা নিয়ে বাইরে দাড়িয়ে থাক, তোকে খুব পছন্দ করেছেন, যেমন