পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক 8ՎԶԳ যে নিজে সাত্ত্বিক সে সবাইকে এমনি সাত্ত্বিক ভাবে। আমরা নিজেরাও তত সাত্ত্বিক নই বলেই বোধ হয়, মানুষের খারাপ দিকটা আগে দেখে বসে থাকি। ঐরাম পাড়ে সাত্ত্বিক কি না জানি না—কিন্তু সে বেশ ব্যবসা-বুদ্ধিওয়ালা লোক বটে। দুধ এখানে সস্তা, অথচ দুধ চালান দেবার সুবিধে নেই। একটা মাখন তোলা কল নিয়ে এই গ্রামুকে কেন্দ্র করে বেশ একটা ঘি মাখনের ব্যবসা গড়ে তুলেচে। এর কারণ আমাদের মতে ওদের চাকুরি-প্রবৃত্তি নেই–চোখ ওদের অন্যদিকে বেশ খোলে—আমরা এসব দেখতে পাইনে। আমরা হলে খুঁজতাম দ্বারভাঙ্গার মহারাজের স্টেটে কোনো চাকুরি যোগাড় করা যায় কাকে ধরাধরি করলে। পরদিন সকালে আমি ওদের দুজনের কাছে বিদায় নিয়ে চলে এলুম। এর পরে আর একবার আমাকে বিশেষ কাজে ওদিকে গিয়ে শ্রীরাম পাড়ের আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়েছিল, তখন সে আরও উন্নতি করেচে–লেখাপড়ার হিসেব ও চিঠিপত্র লেখবার জন্তে একজন গোমস্ত রেখেচে । মোহান্তজীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছিল—মাত্র একটি দিনের জন্যে। তখন সামনে কুম্ভমেলার সময়, তিনি প্রয়াগে কুম্ভমেলায় যাবার তোড়জোড় করছিলেন, পাড়েজীকে নিয়ে যাবেন সঙ্গে বললেন। আমাকেও তিনি অকুরোধ করেছিলেন মেলায় যাবার জন্তে— অবিহি আমার যাওয়া ঘটেনি। তারা গিয়েছিলেন কিনা আমি জানি না—আর তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। এ হল ১৩৩৬ সালের মাঘ মাসের কুম্ভমেলা ; তারপর আর কুম্ভমেলা হয়নি এখনো পর্যন্ত । ১৩৩৭ সালের কথা। পূজার ছুটি সেইদিনই হল। ভাগলপুরে বার লাইব্রেরিতে বসে কথাবার্তা চলচে বন্ধুদের সঙ্গে, ছুটিতে কোথায় যাওয়া যায়। আমি বললুম–পীয়ে হেঁটে কোনোদিকে ঘদি যাওয়া যায়, আমি রাজি আছি। প্রবীণ উকিল অবিনাশবাবু বললেন—হেঁটে যাওয়ার বেশ চমৎকার রাস্তা আছে, চলে যান না দেওঘর। সিনারী খুব ভালো। আমি তখনি যেতে রাজি। একজন মাত্র উকিল-বন্ধু অম্বিক আমার সঙ্গে যেতে চাইলে । পরদিন সকালে আমরা আমার থাকবার জায়গা থেকে রওনা হলুম খুব ভোরে। তিন-চারজন উৎসাহী বন্ধু ভাগলপুর শহর ছাড়িয়ে দেওঘরের পথে প্রথম মাইল পোস্ট পর্যন্ত আমাদের এগিয়ে দিয়ে গেলেন । অম্বিক খুব মুস্থ সবল, দীর্ঘাকৃতি যুবক। সে ও আমি দুজনেই খুব জোরে হাটচি। সাত আটটা মাইল-পোস্ট পর্যন্ত বেশ জোরে চলে এলুম দুজনে। বেলা প্রায় দশটা বাজে। ডিস্ট্রক্ট বোর্ডের চওড়া সোজা রাস্তা। পথের দ্বধারে সবুজ ধান ক্ষেত, মাঝে মাঝে বৃষ্টির জল বেধে আছে—তাতে কুমুদ ফুল ফুটে আছে—গাছের ছায়া সমস্ত পথেই। আরও দু তিন মাইল ছাড়ালুম। দুজনেরই ক্ষুধা ও তৃষ্ণ দুই-ই পেয়েচে—সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা নেই—হাটবার সুবিধে হবে বলে খালি হাতে পথ চলচি।